advertisement
আপনি দেখছেন

মিয়ানমারের বিরুদ্ধে রোহিঙ্গা মুসলিমদের গণহত্যার অভিযোগে করা মামলায় নেদারল্যান্ডসের হেগে আন্তর্জাতিক আদালতে (আইসিজে) শুনানি শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার থেকে শুরু হওয়া এ শুনানি চলবে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত। বুধবার শুনানির দ্বিতীয় দিনে গাম্বিয়ার করা অভিযোগ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে মিয়ানমার।

suci pettision hege4রোহিঙ্গা গণহত্যা মামলায় ওআইসির স্বার্থ দেখছে মিয়ানমার

মিয়ানমারের আইনজীবী ক্রিস্টোফার স্টকার দাবি করে বলেন, নিজেদের স্বার্থে ইসলামি সহযোগী সংস্থা (ওআইসি) গাম্বিয়াকে দিয়ে মামলাটি করেছে। তাদের অর্থায়নেই আন্তর্জাতিক আদালতে অভিযোগ জানিয়েছে আফ্রিকার দেশটি।

তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের পরিস্থিতি নিয়ে অভিযোগ জানানোর কথা বাংলাদেশের, গাম্বিয়ার নয়। তাছাড়া গণহত্যা নিয়ে যেসব দেশ মামলা করেছিল, তারা সরাসরি এর দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত ছিল। কিন্তু গাম্বিয়া সেরকম কিছুর ভুক্তভোগী নয়।

তিনি আরো বলেন, সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে দেয়া বক্তব্যেও রোহিঙ্গা গণহত্যার কথা উল্লেখ করেননি গাম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট। সেখানে ওআইসির মন্ত্রী পর্যায়ের কমিটিতেও এই মামলার অর্থায়ন নিয়ে আলোচনা হয়।

ক্রিস্টোফার স্টকার বলেন, কনভেনশন অনুযায়ী গাম্বিয়া এই মামলা করার অধিকার রাখে। তবে কোনো সংস্থা বা জোট নয়। এখন ওআইসি এ মামলাটি করার ফলে গণহত্যার অভিযোগ আন্তর্জাতিক আদালতে টিকে না।

এর আগে মঙ্গলবার শুনানির শুরুতেই রোহিঙ্গা মুসলিমদের হত্যাকাণ্ড বন্ধে মিয়ানমারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে গাম্বিয়ার আইন ও বিচারমন্ত্রী আবুবকর মারি তামাবাদু বলেন, বর্বর এবং নৃশংস এসব কাজ। যা সারা বিশ্বের মানুষের বিবেককে আঘাত করেছে। এই গণহত্যা বন্ধ করতে হবে।

প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট রাখাইনে রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর পূর্বপরিকল্পিত সহিংসতা চালায় মিয়ানমার সেনাবাহিনী। এই সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর ওপর তারা গণহত্যা ও ধর্ষণসহ অমানবিক নির্যাতন চালায়। নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে প্রায় নয় লাখ রোহিঙ্গা।

এরপর চলতি বছরের ১১ নভেম্বর জাতিসংঘের সর্বোচ্চ বিচারিক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অফ জাস্টিস বা আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে মিয়ানমারের বিরুদ্ধ মামলা করে আফ্রিকার দেশ গাম্বিয়া। দেশটির বিচার মন্ত্রী আবুবকর তামবাদউ এ মামলাটি দায়ের করেন।