advertisement
আপনি দেখছেন
সর্বশেষ আপডেট: 39 মিনিট আগে

লোকসভার পর রাজ্যসভায়ও পাস হয়েছে বিতর্কিত নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল। বুধবার বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়ের পর ১২৫-১০৫ ভোটের ব্যবধানে বিলটি পাশ করে নেয় ভারতের বিজেপি সরকার। সেখানেই কোন রাখঢাক না রেখেই বিলটি আনার কারণ সম্পর্কে যুক্তি দেখান দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।

india state minister amit sahভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ

তিনি বলেন, গত নির্বাচনে বিজেপির ইশতেহার এই বিলটি আনার কথা বলা হয়েছে। ক্ষমতাসীন দলটি জনগণকে দেয়া সেই প্রতিশ্রুতিই রক্ষা করছে। তবে ভারতকে কোনভাবেই মুসলিম মুক্ত করা হবে না বলেও আশ্বাস দেন তিনি।

সারা পৃথিবীর মুসলিমদের কীভাবে নাগরিকত্ব দেব? বিরোধীদের প্রতি এমন প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে অমিত শাহ আরো বলেন, সারা পৃথিবী থেকে মুসলিমরা এসে যদি ভারতে নাগরিকত্ব চায়, তাহলে তা কোনভাবেই দেয়া সম্ভব না। এভাবে দেশ চলতে পারে না।

'মুসলিমবিরোধী' বিতর্কিত এই নাগরিকত্ব বিলটির পক্ষে যুক্ত দেখিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিলটি প্রতিবেশী যে তিনটি দেশের নাগরিকদের জন্য করা হয়েছে, সেই তিনটি দেশের রাষ্ট্রধর্ম হলো ইসলাম। সেসব দেশের সংখ্যালঘুরা নির্যাতিত হলে কোথায় যাবেন? সেসব দেশ থেকে শরণার্থী হিসেবে আসা সংখ্যালঘুদের নাগরিকত্ব দেবে ভারত সরকার।

এদিকে বিলটি আনার ব্যাপারে শেষ পর্যন্ত বিজেপি সরকারের পাশে দাঁড়িয়েছে জেডিইউ, আকলি, অগপের মতো তাদের কয়েকটি শরিক দল। এ বিষয়ে অগপের সংসদ সদস্য বীরেন্দ্রপ্রসাদ বৈশ্য বলেন, আসামের পক্ষে আর অতিরিক্ত লোকের ভার নেয়া সম্ভব নয়।

citizenship bill in indiaনাগরিকত্ব বিলের প্রতিবাদে উত্তপ্ত ভারত

তবে রাজ্যসভায় বিলটি পাশ হওয়া ভারতে বসবাসরত মুসলিমরা ভয়ে আছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেন বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্যরা। তাদের মতে, বিজেপি সরকারের আগ্রাসী হিন্দুত্ব নীতির পরিচায়ক হল এই বিল।

কংগ্রেসের কপিল সিব্বল অভিযোগ করেন, সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপে কারণে ভারতের মুসলিমরা আতঙ্কিত। ইতোমধ্যে জম্মু-কাশ্মিরের স্বায়াত্বশাসন কেড়ে নিয়ে সংবিধানের ৩৭০ ধারা (বিশেষ সুবিধা) বাতিল করেছে বিজেপি সরকার। তারপর আসামে এনআরসি এনেছে। এখন নাগরিকত্ব বিল করছে। এই বিলগুলো সরকার কেন আনছে তার সকলেই বুঝতে পারছেন।

প্রসঙ্গত, ১৯৫৫ সালে পাশ হওয়া নাগরিকত্ব আইনে উল্লেখ আছে, অন্য দেশ থেকে ভারতে আসা কেউ যদি নাগরিকত্ব চায় সেক্ষেত্রে তাকে কমপক্ষে ১১ বছর এ দেশে বসবাস করতে হবে। পাশাপাশি এর পক্ষে যথেষ্ট প্রমাণ ও নথিপত্র উপস্থাপন করতে হবে।

কিন্তু নতুন করে সংশোধন হওয়া এ বিলটিতে বলা হয়েছে, ভারতে টানা ৫ বছর ধরে বসবাস করা বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের অমুসলিমরা নাগরিকত্ব পাওয়ার জন্য অবেদন করতে পারবেন। ভারতের লোকসভার পর বুধবার রাজ্যসভায়ও পাস হয় বিলটি। এখন রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষর পেলেই এটি আইনে পরিণত হবে।

এদিকে এর প্রতিবাদে ত্রিপুরা, আসাম, মণিপুর, অরুণাচলে বিক্ষোভ শুরু হলে ১০ জেলায় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত মোবাইল ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ রাখা হয়। এমনকি বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা স্থগিত করা থেকে শুরু করে, রেল পরিষেবাও বন্ধ করে দেয়া হয়।

sheikh mujib 2020