advertisement
আপনি দেখছেন

গত ৫ আগস্ট ভারতের জম্মু-কাশ্মির রাজ্যের বিশেষ মর্যাদা কেড়ে নেওয়ার পর থেকেই রাজ্যের তিনবারের মুখ্যমন্ত্রী ফারুক আবদুল্লাহকে আটক করে রাখা হয়েছে। তবে শনিবার ঘোষণা করা হলো- জন নিরাপত্তা আইন অনুযায়ী তার আটক থাকার মেয়াদ বাড়ানো হচ্ছে আরও তিন মাস। তাকে নিজের বাড়িতেই বন্দি করে রাখা হয়েছে। তার বাড়িটিকে ব্যবহার করা হচ্ছে ‘সাব জেল’ হিসেবে।

farooq abdullah kashmir 1

ডিসেম্বরের শুরুতে সাংসদ ফারুক কেন্দ্রীয় সরকারের সমালোচনা করে একটি চিঠি দেন। তাতে বলা হয়, সরকার তাকে সংসদের শীতকালীন অধিবেশনে অংশগ্রহণ করতে দিচ্ছে না। কংগ্রেসের এমপি শশী তারুর সেই চিঠিটি প্রচার করেন।

চিঠিতে কেন্দ্রীয় সরকারের উদ্দেশে ফারুক লিখেছিলেন, “আপনারা ২১ অক্টোবর আমাকে যে চিঠি লিখেছিলেন, তা আজ আমার হাতে এসে পৌঁছেছে। আমি এখন সাব জেলে আছি। যে ম্যাজিস্ট্রেট আমার দেখাশোনা করেন, তিনি আমার হাতে চিঠিটি পৌঁছে দিয়েছেন।”

পরে তিনি সরকারের সমালোচনা করে লিখেছেন, “সবচেয়ে দুর্ভাগ্যজনক ব্যাপার হলো- আমাকে যথাসময়ে চিঠিপত্র পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে না। পার্লামেন্টের কোনো সিনিয়র মেম্বার এবং একটি রাজনৈতিক দলের প্রধানের সঙ্গে এমন আচরণ করা উচিত নয়।”

ফারুকের বন্দিদশার মেয়াদ বৃদ্ধি নিয়ে সরব হয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি টুইটারে লিখেছেন, অসাংবিধানিক কাজ হচ্ছে।

ভারতীয় গণমাধ্যম বলছে, জন নিরাপত্তা আইনে বিনা বিচারে কাউকে দুই বছর পর্যন্ত আটকে রাখা যায়। সাধারণত সন্ত্রাসবাদী, বিচ্ছিন্নতাবাদী ও অশান্তি সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে জন নিরাপত্তা আইন প্রয়োগ করা হয়। কিন্তু এই প্রথম জন নিরাপত্তা আইন কোনো মূলধারার রাজনীতিকের বিরুদ্ধে প্রয়োগ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, রাজ্যের মর্যাদা প্রত্যাহারের সময় থেকেই ফারুক আব্দুল্লাহর ছেলে তথা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ, আরেক প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতিসহ বহু রাজনীতিককে আটক করে রাখা হয়েছে।