advertisement
আপনি দেখছেন
সর্বশেষ আপডেট: 27 মিনিট আগে

জাতীয় নাগরিক তালিকা বা এনআরসি নিয়ে সতর্ক অবস্থানে আছে ভারতের মুসলিম সম্প্রদায়ের বিভিন্ন সংগঠন। দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের ‘মুসলমানদের ভয়ের কিছুই নেই’ বুলিতে চিঁড়ে ভিজছে না। আইনে রূপ নেয়া নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল নিয়ে আশঙ্কায় আছেন সংখ্যালঘুরা। আর তাই নথি সংক্রান্ত তথ্যাদি হালনাগাদের জন্য প্রতি সপ্তাহে জুম্মার নামাজের পর মসজিদের পক্ষ থেকে সতর্ক করা হচ্ছে।

nrc form india muslim masjid

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানায়, ভারতের সর্বত্রই মসজিদে দেওয়া হচ্ছে তথ্য ঠিক করার বিশেষ বার্তা। তাছাড়া বিলি করা হচ্ছে তথ্য হালনাগাদের ফর্মও। মুসলিমদের সহায়তার জন্য ক্যাম্পও চালু করেছে বিভিন্ন সংগঠন। সতর্কতামূলক নির্দেশনা দেয়া হচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়াগুলোতে। নাগরিকত্বের বিভিন্ন দলিলে তথ্য এক রাখার জন্যে বিলি করা হচ্ছে ‘গাইডবুক’।

বেঙ্গালোরের জামিয়া মিলিয়া মসজিদের ইমাম ইমরান মাসুদ জানান, তারা গত ৩ মাস ধরেই মুসলিমদের নানান এসব নথিতে থাকা ভুলগুলো শুধরে নেবার জন্য বলে আসছেন।

কর্ণাটকে এক মসজিদের সম্পাদক সুহেল আহমেদ জানান, ঐ রাজ্যে প্রায় ১৮শ মসজিদ আছে। প্রতিটি জুম্মার শেষেই মসজিদগুলোতে সতর্কবাণী দেয়া হচ্ছে। আর যাদের আধার কার্ড বা প্যান কার্ড নেই তাদের পরিচয়পত্র করে দেয়ার কাজও চলছে। তিনি জানান, এরই মধ্যে ৬ হাজার ফর্ম বিতরণ করা হয়েছে।

অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ড জানায়, হায়দারাবাদসহ দক্ষিণ মুম্বাইয়ের নানা জায়গায় এক দল স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা কাজ করে যাচ্ছেন।

ক্যাম্পের উদ্যোক্তারা দাবি করছেন, নথিতে ভুলের কারণেই তালিকা থেকে অসংখ্য মানুষের নাম বাদ পড়েছে। শুধুমাত্র আসামেই এনআরসি থেকে বাদ পড়েছে ১৯ লক্ষাধিক মানুষ।

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, তার রাজ্যে নতুন আইন ও এনআরসি করা যাবে না। কিন্তু সবাইকেই প্রয়োজনীয় নথি ঠিকঠাক রাখারও পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

প্রতিবেশী দেশগুলো থেকে আসা অমুসলিমদের নাগরিকত্ব দেয়ার সুযোগ তৈরি করা বিলটি ভারতীয় সংসদের উভয় কক্ষে পাস হবার পর আইনে পরিণত হলে এ বিলের প্রতিবাদে আসামে হাজারো মানুষ বিক্ষোভ করছেন। ত্রিপুরা, আসাম, মণিপুর, অরুণাচলে ব্যাপক বিক্ষোভ চলছে। এখন পর্যন্ত সহিংসতায় এখন পর্যন্ত ৫ জনের মৃত্যুসংবাদ পাওয়া গেছে।

sheikh mujib 2020