advertisement
আপনি দেখছেন
সর্বশেষ আপডেট: 34 মিনিট আগে

‘মুসলিমবিরোধী’ নাগরিকত্ব আইনের প্রতিবাদে চলমান বিক্ষোভের মধ্যেই পশ্চিমবঙ্গে রাষ্ট্রপতি শাসন জারির হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ক্ষমতাসীন বিজেপির কেন্দ্রীয় সম্পাদক রাহুল সিনহা। দেশটির প্রভাবশালী গণমাধ্যম এনডিটিভিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, এভাবে চলতে থাকলে রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি ছাড়া কেন্দ্রীয় সরকারের আর কোনো উপায় থাকবে না।

rahul sinha bjpহুঁশিয়ারি দিয়েছেন ক্ষমতাসীন বিজেপির কেন্দ্রীয় সম্পাদক রাহুল সিনহা

নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে পশ্চিমবঙ্গজুরে চলমান বিক্ষোভ ও সহিংসতার জন্য রাজ্যটির মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দায়ী করে রাহুল সিনহা বলেন, ‘এই বিক্ষোভ আসলে বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রশ্রয়ে এই সহিংস আন্দোলন চলছে। তাই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করার জন্য বিজেপির পক্ষ থেকেও আমরা এখানে রাষ্ট্রপতি শাসন জারির পক্ষে।’

রাজ্য বিজেপি সভাপতি ও সাংসদ দিলীপ ঘোষ অভিযোগ করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে অসংখ্য উদ্বাস্তু ও শরনার্থীরা এদেশে বসবাস করে আসছে। ভোট দেয়ার অধিকার থাকলেও তাদের কোনো নাগরিকত্ব ছিল না। বিজেপি সরকার তাদের সেই দাবিও পূরণের চেষ্টা করছে।

এতে ভুলের কিছু নেই দাবি করে তিনি বলেন, ওই তিন রাষ্ট্রই (বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান) মুসলিম প্রধান হওয়ায় সেখানে মুসলমানদের নিরাপত্তাহীনতার কোনো কারণ নেই। তাই সেদেশের মুসলমানদের ভারতে প্রবেশ করার প্রয়োজন হয়নি। এজন্যই নতুন আইনে তাদের কথা উল্লেখ করা হয়নি।

এদিকে, নাগরিকত্ব বিলটির প্রতিবাদে সমগ্র ভারতজুরেই সহিংসতা বেড়ে চলেছে। আসাম, ত্রিপুরা, মেঘালয় ও পশ্চিমবঙ্গসহ দেশটির উত্তরপূর্বের বিভিন্ন রাজ্যে বিলটির প্রতিবাদে রাস্তায় নেমে এসেছে হাজার হাজার মানুষ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কারফিউ জারিসহ এসব অঞ্চলে মোবাইল ইন্টারনেট ও এসএমএস সেবা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

westbengal nrc protest

এর আগে গত বুধবার ভারতীয় রাজ্যসভায় বিলটি পাশ করিয়ে নেয় বিজেপি সরকার। পরদিন বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপতি সাক্ষর করার মধ্য দিয়ে বিলটি আইনে পরিণত হয়। এর ফলে বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান থেকে ভারতে আসা অমুসলিম নাগরিকদের দেশটির নাগরিকত্ব পাওয়ার পথ সহজ হয়ে গেল। তবে অবৈধ মুসলিম অনুপ্রবেশকারীদের নাগরিকত্ব দেয়া হবে না।

প্রসঙ্গত, ১৯৫৫ সালে পাশ হওয়া নাগরিকত্ব আইনে উল্লেখ আছে, অন্য দেশ থেকে ভারতে আসা কেউ যদি নাগরিকত্ব চায় সেক্ষেত্রে তাকে কমপক্ষে ১১ বছর এ দেশে বসবাস করতে হবে। পাশাপাশি এর পক্ষে যথেষ্ট প্রমাণ ও নথিপত্র উপস্থাপন করতে হবে।

কিন্তু নতুন করে সংশোধন হওয়া এ বিলটিতে বলা হয়েছে, ভারতে টানা ৫ বছর ধরে বসবাস করা অমুসলিমরা নাগরিকত্ব পাওয়ার জন্য অবেদন করতে পারবেন।

sheikh mujib 2020