advertisement
আপনি দেখছেন

বিতর্কিত মুসলিম-বিরোধী নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের প্রতিবাদে সারা ভারত উত্তাল। দেশটির বিভিন্ন রাজ্যে বিক্ষোভকারীদের ওপর পুলিশের হামলার খবর আসছে। এর মধ্যেই বিক্ষোভকারীদের দেখামাত্র গুলির নির্দেশ দিয়েছেন ক্ষমতাসীন বিজেপির রেল প্রতিমন্ত্রী সুরেশ অঙ্গদি।

suresh angadi indiaবিজেপির রেল প্রতিমন্ত্রী সুরেশ অঙ্গদি

চলমান বিক্ষোভে পুলিশি হামলার পর বিভিন্ন এলাকায় সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে। পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদেও একাধিক ট্রেনে আগুন দেয়ার ঘটনা ঘটেছে।

এ বিষয়ে ভারতীয় বার্তা সংস্থা এএনআই'কে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে সুরেশ অঙ্গদি বলেন, ‘কেউ রেলের সম্পত্তি নষ্ট করতে এলেই গুলি চালাতে নির্দেশ দিয়েছি। কেন্দ্রীয় সরকারের একজন মন্ত্রী হিসেবেই আমি জেলা প্রশাসন ও রেলওয়ে কর্তৃপক্ষকে এ নির্দেশ দিয়েছি।’

পশ্চিমবঙ্গ ও উত্তর-পূর্ব রাজ্যের রেল লোকসানে চলছে জানিয়ে তিনি বলেন, মানুষকে ভালো সেবা দেয়ার জন্য ১৩ লাখ কর্মচারী দিনরাত কাজ করে যাচ্ছেন। কিন্তু সেখানকার বিরোধীরা সমাজবিরোধীদের এসব কাজ সমর্থন করছেন।

এই সময়'র এক প্রতিবেদনে বলা হয়, কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর এ নির্দেশ প্রচারের পর দেশব্যাপী সমালোচনার ঝড় বইছে। একজন রেল প্রতিমন্ত্রী এমন নির্দেশ দিতে পারেন কিনা, তা নিয়েও অনেকে প্রশ্ন তুলছেন।

প্রসঙ্গত, ১৯৫৫ সালে পাশ হওয়া নাগরিকত্ব আইনে উল্লেখ ছিল, অন্য দেশ থেকে ভারতে আসা কেউ যদি নাগরিকত্ব চায় সেক্ষেত্রে তাকে কমপক্ষে ১১ বছর এ দেশে বসবাস করতে হবে। পাশাপাশি এর পক্ষে যথেষ্ট প্রমাণ ও নথিপত্র উপস্থাপন করতে হবে। কিন্তু সংশোধিত নতুন আইনে বলা হয়েছে, ভারতে টানা ৫ বছর ধরে বসবাস করা অমুসলিমরা নাগরিকত্ব পাওয়ার জন্য অবেদন করতে পারবেন।

এ আইনের জন্য বিজেপি সরকারের তীব্র সমালোচনা করছেন ভারতের বিরোধী দলগুলো। বিভিন্ন রাজ্যে এ আইনের প্রতিবাদে বিক্ষোভ হচ্ছে। আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন নিহত ও অসংখ্য মানুষ আহত হয়েছে। চলমান এ ক্ষোভ এখনো অব্যহত রয়েছে।