advertisement
আপনি দেখছেন

এনআরসি ও ক্যাব ইস্যুতে যখন গোটা ভারতে চলছে উত্তেজনা, তখন জাতিসংঘের অধীনে দেশটিতে গণভোটের দাবি জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়। সেইসঙ্গে চলমান আন্দোলনে শরিক হতে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। এদিকে, মমতার এই দাবি প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়।

mamata banerjee against nrc cab

স্থানীয় গণমাধ্যমে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার রানি রাসমণি রোডে তৃণমূল কংগ্রেসের সমাবেশ থেকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের প্রতি চ্যালেঞ্জ জানিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “বুকের পাটা থাকলে গণভোট করুন। গোটা দেশে ভোট হোক। ভোট পরিচালনা করবে ইউনাইটেড নেশনস (জাতিসংঘ)। আমরা দেখতে চাই। বলুন হেরে গেলে পদত্যাগ করতে বাধ্য হবেন।”

এই চ্যালেঞ্জ দেওয়ার পাশাপাশি মমতা আরো বলেন, “আগুন নিয়ে খেলবেন না। সব কিছু হারিয়ে গেলে ফেরৎ পাওয়া যায়। অস্তিত্ব হারিয়ে গেলে কিছু পাওয়া যায় না।”

প্রসঙ্গত, নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে পর পর তিন দিন পদযাত্রায় অংশ নিয়েছেন তিনি। এর পর আজ করলেন রানি রাসমণি রোডে সভা। আগামীকালও সমাবেশ রয়েছে পার্ক সার্কাস ময়দানে। এর পরও যে আন্দোলন থামবে না সে বার্তাও এদিন দিয়েছেন তৃণমূলনেত্রী।

তিনি বলেছেন, প্রতিদিন কোথাও না কোথাও আন্দোলন চলবে। কোনও দিন ছাত্র যুবরা, কোনও দিন বুদ্ধিজীবীরা, কোনও দিন সংখ্যালঘুরা পথে নামবেন। যতদিন না নতুন নাগরিকত্ব আইন ও এনআরসি বাতিল হচ্ছে ততদিন আন্দোলন চলতে থাকবে।

সেইসঙ্গে তিনি যে আন্দোলনে নেমেছেন তাতে গোটা দেশকে সামিল হওয়ারও আহ্বান জানিয়েছেন মমতা। তৃণমূলনেত্রী বলেন, “সারা দেশের সবাইকে বলছি পথে নামুন। ভুলে যান ধর্মের নাম, সম্প্রদায়ের নাম। বিহার, রাজস্থান, উত্তরপ্রদেশ, কেরালা, কর্ণাটক সবাই পথে নামুন। বসে থাকবেন না। বসে গেলেই কেন্দ্রের সরকার কিছু একটা করে দেবে।”

এদিকে, মমতা যে গণভোটের দাবি জানিয়েছেন তা প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়। মমতার সভা শেষ হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই টুইট করে এর বিরোধিতা করেন ধনকড়।

টুইটে তিনি লেখেন, “আমি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে আর্জি জানাচ্ছি, তিনি ইউনাইটেড নেশনস কিংবা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার কমিশনের তত্ত্বাবধানে দেশজুড়ে গণভোটের দাবি নিয়ে যে মন্তব্য করেছেন, তা প্রত্যাহার করে নিন।”

তবে ধনকড়ের এই আর্জির ব্যাপারে এখন পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতাসীন দল তৃণমূলের পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য করা হয়নি বলে জানিয়েছে স্থানীয় গণমাধ্যম। রাজ্যপাল যে কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে সুর মিলিয়ে কথা বলছেন সে অভিযোগ অনেক দিনের। ফলে সাম্প্রতিক সময়ে রাজ্যপালের আহ্বানে গুরুত্বই দিচ্ছে না তৃণমূল।