advertisement
আপনি দেখছেন

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে টার্গেট করে বিভিন্ন জঙ্গিগোষ্ঠী সন্ত্রাসী হামলার পরিকল্পনা করছে বলে জানিয়েছে দেশটির গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। আগামী রোবাবার নয়াদিল্লির রামলীলা ময়দানে ক্ষমতাসীন বিজেপির সমাবেশে মোদির ওপর হামলা হতে পারে বলেও আশঙ্কা করছেন তারা।

india pm norendra modi

শুক্রবার গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এসব তথ্য জানায় ভারতীয় গণমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া এবং ইন্দো-এশিয়ান নিউজ সার্ভিস (আইএএনএস)। গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ইতোমধ্যে এ বিষয়ে সতর্কতা জারি করেছে বলেও গণমাধ্যম দুটির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সম্প্রতি পাকিস্তান ভিত্তিক জঙ্গিগোষ্ঠী জইশ-ই-মোহাম্মদ (জেইএম) ও লস্কর-ই-তৈয়্যবার (এলইটি) নেতাদের মধ্যে আদান-প্রদান হওয়া বেশ কয়েকটি চিঠির তথ্য ভারতীয় গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের হাতে এসেছে। যেখানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিসহ দেশটির শীর্ষ কর্মকর্তাদের ওপর হামলা চালানোর কথা বলা হয়েছে। এমনকি মোদির ওপর হামলার জন্য জেইএম জঙ্গিগোষ্ঠীটির সদস্যরা ইতোমধ্যে ভারতে অবস্থান নিয়েছে।

সম্প্রতি দেশটিতে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ) পাস করানো নিয়ে বিপাকে পড়েছে বিজেপি সরকার। দেশজুড়ে চলমান বিক্ষোভের ফলে আইনটি নিয়ে কিছুটা বেকাদায় আছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এর মধ্যেই তাকে এমন সংবাদ দিয়ে দুঃশ্চিন্তায় ফেলেছে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো।

times of india news

গোপন সূত্রে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো জানায়, সম্প্রতি 'মুসলিমবিরোধী বিতর্কিত নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন পাস ও এর আগে ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু-কাশ্মিরের স্বায়াত্ত্বশাসন কেড়ে নেয়ার কারণেই মোদির নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তাই সংশ্লিষ্ট বাহিনীগুলোকে প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা জোরদার করার কথা বলা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, লোকসভার পর গত ১১ ডিসেম্বর রাজ্যসভায়ও পাস হয় 'মুসলিমবিরোধী বিতর্কিত' নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল (সিএবি)। পরদিন ১২ ডিসেম্বর দেশটির রাষ্ট্রপতি শ্রী রামনাথ কোবিন্দ স্বাক্ষর করার মাধ্যমে আইনে পরিণত হয় বিলটি। লোকসভায় পাস হওয়ার পরপরই বিলটি নিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি হয়। এর বিরুদ্ধে আন্দোলন-বিক্ষোভ শুরু হয় আসাম-ত্রিপুরা-মেঘালয়সহ উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলোতে। এক পর্যায়ে গোটা দেশেই বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষোভে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে ইতোমধ্যে প্রাণও হারিয়েছেন বেশ কয়েকজন আন্দোলনকারী।

এর আগে গত ৫ আগস্ট ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু-কাশ্মিরের বিশেষ সুবিধা ৩৭০ ধারা সংবিধান থেকে বাতিল করে বিজেপি সরকার। পাশাপাশি জম্মু-কাশ্মির ও লাদাখকে আলাদা আলাদা দুটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল হিসেবেও ঘোষণা করা হয়। সেখানকার বাসিন্দারা যেনো এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ না করতে পারে তাই অঞ্চলটিতে আগের দিনই ইতিহাসের কঠোরতম নিরাপত্তা পরিস্থিতি জারি করে মোদি সরকার।