advertisement
আপনি দেখছেন

চীনে ইতোমধ্যে মহামারি আকার ধারণ করা করোনাভাইরাসে মৃত্যুর সংখ্যা আরো বেড়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশটিতে আরো ১০৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ালো ১৭৭৪ জনে। সোমবার চীনের স্বাস্থ্য বিভাগের বরাত দিয়ে এ খবর প্রকাশ করেছে চায়না গ্লোবাল টেলিভিশন নেটওয়ার্ক (সিজিটিএন)।

chinas corona virus

খবরে বলা হয়, রোববার শুধু হুবেই প্রদেশে আরো ১০০ জন মারা গেছে। এছাড়া হেনান প্রদেশে তিনজন এবং গুয়াংডং প্রদেশে দুইজন কোভিড-১৯ রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে। পাশাপাশি নতুন করে ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়েছে আরো ২ হাজার ৪৮ জন। এ নিয়ে শুধু চীনে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ালো ৭০ হাজার ৫৪৮ জন।

এদিকে, চীনের বাইরে বিশ্বব্যাপী এখন পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়ে ছয়জন মৃত্যুবরণ করেছে। এদের মধ্যে হংকংয়ে দুইজন, ফিলিপাইন, জাপান, ফ্রান্স ও তাইওয়ানে একজন করে মারা গেছে। এছাড়া আক্রান্ত হয়েছে ৭৭৮ জন।

বাংলাদেশের মূল ভূখণ্ডে এখন পর্যন্ত এ ভাইরাসের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া না গেলেও সিঙ্গাপুরে পাঁচ বাংলাদেশি প্রবাসী আক্রান্ত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। তারা সবাই দেশটির সেলটার অ্যারোস্পেস হাইটস কনস্ট্রাকশন সাইটের কর্মী।

মাস্ক কী কার্যকরভাবে ভাইরাস প্রতিরোধ করতে পারে এবং এটি কতবার পরিবর্তন করতে হয়?

মাস্ক পরলেই যে ভাইরাস প্রতিরোধ করা যায়, এমনটা খুব কমই হয়ে থাকে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সব সময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকতে হবে এবং আশপাশের জায়গাগুলো পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। এক্ষেত্রে নিয়মিত হাত ধোয়া এবং অবশ্যই মুখের কাছে হাত আনার আগে সেটি ধুয়ে পরিষ্কার করে নিতে হবে। আর এ অভ্যাস মাস্কের চেয়ে বেশি কার্যকর।

ভাইরাসের জন্য ইনকিউবেশন সময়কাল বা সুপ্তিকাল কত?

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পর থেকে এর লক্ষণগুলি প্রকাশের আগ পর্যন্ত সময়ের পরিধি ২ থেকে ১০ দিনের মতো হয়ে থাকে। তাই ইনকিউবেশন পিরিয়ড বা সুপ্তিকাল সম্পর্কে জানা খুব গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ওই সময়ের মধ্যে চিকিৎসক এবং স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে এবং নিয়ন্ত্রণে কাজ করতে সময় পান।

corona virus in china

অর্থাৎ চিকিৎসকরা আরো কার্যকর কোয়ারান্টিন ব্যবস্থা চালু করতে পারেন। যেমন- কেউ যদি ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকে তাহলে তাদের আলাদা করে রাখা যাবে। যেন তাদের মধ্যে ভাইরাসটি সনাক্ত হলেও তা অন্য কারো মধ্যে ছড়িয়ে পড়তে না পারে।

ভাইরাসে যারা আক্রান্ত হওয়ার পর সেরে উঠছেন, তারা কি পুরোপুরি সুস্থ হতে পেরেছেন?

হ্যাঁ, যারা ভাইরাসটির সংস্পর্শে এসেছেন তাদের মধ্যে অনেকেই কেবল হালকা কিছু লক্ষণ অনুভব করেছেন। এর মধ্যে জ্বর, কাশি এবং শ্বাসকষ্টের সমস্যা রয়েছে। বেশিরভাগই সম্পূর্ণ সেরে উঠছেন। তবে এটি বয়স্ক ব্যক্তি বিশেষ করে যাদের আগে থেকেই বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে ভাইরাসটির প্রাদুর্ভাব বড় ধরনের ঝুঁকির সৃষ্টি করতে পারে।

চীনের জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশনের বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, ভাইরাসের হালকা লক্ষণ দেখা দেয়ার পর পুরোপুরি সেরে উঠতে এক সপ্তাহের মতো সময় লাগতে পারে।

এই শ্বাসকষ্টজনিত অসুস্থতা প্রতিরোধ করার জন্য কী টিকা দেয়া সম্ভব?

এখনো এমন কোনো টিকা আবিষ্কার করা যায়নি। যা দিয়ে কোভিড-১৯ থেকে মানুষকে রক্ষা করা যেতে পারে। তবে গবেষকরা এর প্রতিষেধক আবিষ্কারের চেষ্টা করছেন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, করোনাভাইরাসের টিকা পেতে দেড় বছর সময় লাগবে।