advertisement
আপনি দেখছেন

বিভিন্ন সামাজিক খাতের উন্নয়নে ভারত থেকে বাংলাদেশ অনেক এগিয়ে আছে বলে উল্লেখ করেছেন ভারতীয় লেখক স্বতী নারায়ণ। তিনি বলেন, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, পুষ্টি, টয়লেট প্রভৃতি ক্ষেত্রে বাংলাদেশ অনেক বেশি উন্নতি করেছে। গত শুক্রবার ভারতীয় গণমাধ্যম দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসে প্রকাশিত এক উপ-সম্পাদকীয়তে স্বতী নারায়ণ এসব কথা বলেন।

india should take education from bangladesh improve

উপ-সম্পাদকীয়টি তিনি ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের মন্ত্রী জি কিষাণ রেড্ডি'র মন্তব্যের কড়া সমালোচনা করে লেখেন। কিছুদিন আগে কিষাণ রেড্ডি বলেছিলেন, নাগরিকত্ব দিলে বাংলাদেশের অর্ধেক মানুষ ভারতে চলে আসবে।

রেড্ডির এ মন্তব্য উড়িয়ে দিয়ে স্বতী নারায়ণ বলেন, গত কয়েক দশক ধরে বিভিন্ন সামাজিক খাতে ভারতকে টেক্কা দিয়েছে বাংলাদেশ। তারা খেলার মাঠেও এর প্রমাণ দিয়েছে। সর্বশেষ অনুর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের ফলাফলই দেখুন। কিন্তু আপনি কেন মনে করছেন তারা তাদের প্রিয় ভূমি ছেড়ে ভারতে আসবে?

উপ-সম্পাদকীয়তে স্বতী নারায়ণ উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের সাফল্যের পেছনের কারণ দেশটি অসমতা, সামাজিক এবং লিঙ্গ বৈষম্য দূর করতে সক্ষম হয়েছে। বিশেষ করে দেশটির চারটি সামজিক খাতে অভূতপূর্ব উন্নয়নের কথা না বললেই নয়।

প্রথমত স্বাস্থ্যসেবার কথা বলা যাক। বাংলাদেশ দরিদ্র দেশ হলেও সেখানে খুম কম শিশুই পাঁচ বছর বয়সের আগে মারা যায়। ফলে শিশু মৃত্যুর হার দেশটিতে উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। এ সফলতার পেছনে ভূমিকা রেখেছে কমিউনিটি ক্লিনিক ব্যবস্থা। এছাড়া ক্লিনিক ব্যবস্থার মাধ্যমে চিকিৎসা পাচ্ছে বাংলাদেশের প্রত্যন্ত গ্রামের মানুষ। ক্লিনিকগুলো পরিবার পরিকল্পনা বিষয়েও মানুষকে অবহিত করে স্বাস্থ্যখাতে বড় অবদান রাখছে বলে মনে করেন স্বতী নারায়ণ।

দ্বিতীয় খাত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে শিক্ষার কথা। এই খাতে বাংলাদেশ ভারতের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে বলে দাবি করে তিনি বলেন, বাংলাদেশ সরকার মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষার্থীদের বই সরবরাহ করে আসছে। এ কারণে দেশটিতে দরিদ্র জনগণে শিক্ষার হার গত কয়েক বছরে অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে।

তৃতীয় খাত হচ্ছে পুষ্টি। বাংলাদেশে বর্তমানে ৩৩ শতাংশ শিশু কম ওজন নিয়ে জন্মায়। ভারতে যা ৩৬ শতাংশ। ভারতে অন্তঃসত্ত্বাদের নিরামিষ খাওয়ার পরামর্শ দেয়া হলেও বাংলাদেশে এ খাবাবের তালিকা অনেক স্বাস্থ্যসম্মত। যে কারণে মা ও শিশুর পুষ্টি ঘাটতি বেশ কম।

চতুর্থ উন্নতি হচ্ছে টয়লেট স্থাপন। উন্নত দেশগুলোর মতো বাংলাদেশের ৮০ শতাংশ বাড়িতে নিজস্ব টয়লেট ব্যবস্থা আছে। অন্যদিকে ভারতের অনেক মানুষ এখনো খোলা আকাশের নিচে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দেন। বাংলাদেশ সরকার বিনা খরচে দরিদ্র মানুষদের জন্য টয়লেটের ব্যবস্থা করে দিচ্ছে। অথচ এ নিয়ে কোনো পরিকল্পনাই নেই ভারত সরকারের।

উপ সম্পাদকীয়তে বাংলাদেশের গার্মেন্টস সেক্টর, জুট মিলস, পোল্ট্রি এবং দুগ্ধ শিল্পে নারীদের অবদানেরও প্রশংসা করেন স্বতী নারায়ণ।

sheikh mujib 2020