advertisement
আপনি দেখছেন

চীনে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর মিছিলে যোগ হলো আরো ১০৮ প্রাণ। ফলে সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ২১১৩ জন। এর মধ্যে চীনের বাইরে মাত্র আটজন মারা গেছে। নতুন করে ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়েছেন আরো ৩৪৯ জন। এ নিয়ে বিশ্বব্যাপী আক্রান্তের সংখ্যা ৮২ হাজার ছাড়ালো। তবে আগের দিনের তুলনায় আক্রান্তের সংখ্যা অনেক কমেছে।

corona virus petaint

চীনা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় শুধু হুবেই প্রদেশে ১০৮ জন মারা গেছে। আর আগের দিনের তুলনায় আক্রান্তের সংখ্যা কমেছে ১৬৯৩ জন।

এখন পর্যন্ত হুবেই প্রদেশে ৪৫ হাজার ৯০০ জন রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এদের মধ্যে ২ হাজার ২৮৫ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র নিয়েছে ৯ হাজার ৬৭৬ জন।

চীনে এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে ৭০ হাজার ৫৪৮ জন। আর চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরেছে ১০ হাজার ৬১০ রোগী।

অন্যদিকে, করোনায় আক্রান্ত হয়ে চীনের বাইরে এখন পর্যন্ত ৮ জন মারা গেছেন। এর মধ্যে হংকং ও ইরানে দুইজন করে এবং তাইওয়ান, জাপান, ফ্রান্স ও ফিলিপাইনে একজনের মৃত্যু হয়েছে।

মাস্ক কী কার্যকরভাবে ভাইরাস প্রতিরোধ করতে পারে এবং এটি কতবার পরিবর্তন করতে হয়?

মাস্ক পরলেই যে ভাইরাস প্রতিরোধ করা যায়, এমনটা খুব কমই হয়ে থাকে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সব সময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকতে হবে এবং আশপাশের জায়গাগুলো পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। এক্ষেত্রে নিয়মিত হাত ধোয়া এবং অবশ্যই মুখের কাছে হাত আনার আগে সেটি ধুয়ে পরিষ্কার করে নিতে হবে। আর এ অভ্যাস মাস্কের চেয়ে বেশি কার্যকর।

ভাইরাসের জন্য ইনকিউবেশন সময়কাল বা সুপ্তিকাল কত?

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পর থেকে এর লক্ষণগুলি প্রকাশের আগ পর্যন্ত সময়ের পরিধি ২ থেকে ১০ দিনের মতো হয়ে থাকে। তাই ইনকিউবেশন পিরিয়ড বা সুপ্তিকাল সম্পর্কে জানা খুব গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ওই সময়ের মধ্যে চিকিৎসক এবং স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে এবং নিয়ন্ত্রণে কাজ করতে সময় পান।

corona virus in china 3

অর্থাৎ চিকিৎসকরা আরো কার্যকর কোয়ারান্টিন ব্যবস্থা চালু করতে পারেন। যেমন- কেউ যদি ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকে তাহলে তাদের আলাদা করে রাখা যাবে। যেন তাদের মধ্যে ভাইরাসটি সনাক্ত হলেও তা অন্য কারো মধ্যে ছড়িয়ে পড়তে না পারে।

ভাইরাসে যারা আক্রান্ত হওয়ার পর সেরে উঠছেন, তারা কি পুরোপুরি সুস্থ হতে পেরেছেন?

হ্যাঁ, যারা ভাইরাসটির সংস্পর্শে এসেছেন তাদের মধ্যে অনেকেই কেবল হালকা কিছু লক্ষণ অনুভব করেছেন। এর মধ্যে জ্বর, কাশি এবং শ্বাসকষ্টের সমস্যা রয়েছে। বেশিরভাগই সম্পূর্ণ সেরে উঠছেন। তবে এটি বয়স্ক ব্যক্তি বিশেষ করে যাদের আগে থেকেই বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে ভাইরাসটির প্রাদুর্ভাব বড় ধরনের ঝুঁকির সৃষ্টি করতে পারে।

চীনের জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশনের বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, ভাইরাসের হালকা লক্ষণ দেখা দেয়ার পর পুরোপুরি সেরে উঠতে এক সপ্তাহের মতো সময় লাগতে পারে।

এই শ্বাসকষ্টজনিত অসুস্থতা প্রতিরোধ করার জন্য কী টিকা দেয়া সম্ভব?

এখনো এমন কোনো টিকা আবিষ্কার করা যায়নি। যা দিয়ে কোভিড-১৯ থেকে মানুষকে রক্ষা করা যেতে পারে। তবে গবেষকরা এর প্রতিষেধক আবিষ্কারের চেষ্টা করছেন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, করোনাভাইরাসের টিকা পেতে দেড় বছর সময় লাগবে।

sheikh mujib 2020