advertisement
আপনি দেখছেন

বিশ্বের অন্যতম অর্থনৈতিক শক্তিশালী দেশ চীন। করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে দেশটির অর্থনীতিতে ধস নেমেছে। যার প্রভাব এশিয়ার শেয়ারবাজারগুলোতেও পড়েছে। ইতোমধ্যে ইরানে উদ্বেগজনকভাবে করোনায় আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা বেড়েছে। এছাড়া দক্ষিণ কোরিয়াসহ এশিয়ার দেশগুলোতে সংক্রমিত মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে।

china coronavirus death record

এর ফলে আজ সোমবার এশিয়ার শেয়ারবাজার এবং ওয়াল স্ট্রিট স্টকের দ্রুত পতন হয়েছে। বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে স্বর্ণের দিকে ঝুঁকেছেন। ফলে গত সাত বছরের মধ্যে বাজারে স্বর্ণের দাম এখন সর্বোচ্চ।

এদিকে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যায় চীনের পরই অবস্থান করছে ইরান। দেশটিতে এখন পর্যন্ত মারা গেছে ৮ জন। এছাড়া নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন আরো ১৫ জন। এ নিয়ে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ালো ৪৩ জনে। এর ফলে ইতোমধ্যে ইরানের বিরুদ্ধে ভ্রমণ ও অভিবাসন বিষয়ক বিধিনিষেধ আরোপ করেছে সৌদি আরব, কুয়েত, ইরাক, তুরস্ক ও আফগানিস্তান।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় চীনের প্রতিবেশী দেশ দক্ষিণ কোরিয়ায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে আরো দুই জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে দেশটিতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ালো ৭ জনে। নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন আরো ১৬১ জন। দক্ষিণ কোরিয়ায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়াল ৭৬৩ জনে।

এর আগে রোববার করোনাভাইরাসের সংক্রমণ এবং আরো বেশি মৃত্যুর বিষয়ে দেশটির সরকারের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়। এর প্রাদুর্ভাবের বিস্তার রোধে ‘অভূতপূর্ব ও শক্তিশালী’ পদক্ষেপ নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট মুন জায়ে-ইন।

বিবিসির বরাতে জানা যায়, দ্রুতই ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়তে পারে, এমন আশঙ্কা থেকে ইতোমধ্যে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের শহর দেয়াগো ও চেয়োংদোকে ‘বিশেষ নজরদারি এলাকা’ ঘোষণা করা হয়েছে। তিনজন সেনার শরীরে ভাইরাস শনাক্ত হওয়ায় সেনা ঘাঁটিগুলো বিচ্ছিন্ন করে রাখা হয়েছে। দেয়াগো শহরের শপিংমল ও সিনেমা হলগুলো বন্ধ রাখা হয়েছে। গণপরিবহন একেবারে সীমিত পর্যায়ে নিয়ে আসা হয়েছে। ফলে শহরের রাস্তাঘাট ফাঁকা হয়ে গেছে।

এছাড়া জাপান, হংকং, ফিলিপাইন, তাইওয়ান, ভারত, মালয়েশিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সিঙ্গাপুরসহ এশিয়ার আরো বেশকয়েকটি দেশে করোনায় সংক্রমণের সংখ্যা বেড়ে চলেছে। এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।