advertisement
আপনি দেখছেন

বিশ্ব রাজনীতিতে এই মুহুর্তে সবচেয়ে আলোচিত নাম মুহিউদ্দিন ইয়াসিন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের চমকে দিয়ে মালয়েশিয়ার নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এই নাম ঘোষণা করেছেন দেশটির রাজা সুলতান আবদুল্লাহ আহমাদ শাহ। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মাহাথির মোহাম্মদের পদত্যাগের পর সপ্তাহব্যাপী জল্পনা-কল্পনায় ঘুরে ফিরে এসেছে আনোয়ার ইব্রাহিম আর বর্তমান অর্থমন্ত্রী আলী আজমিনের নাম। কিন্তু শেষমেষ প্রধানমন্ত্রীর চেয়ারটি দখল করলেন আড়ালে থাকা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মুহিউদ্দিন ইয়াসিনই।

muhiuddin malyeshia

মুহিউদ্দিনের পুরো নাম তানস্রি মুহিউদ্দীন ইয়াসিন। বয়স ৭২ বছর। মালয়েশিয়ার রাজনীতিতে বেশ প্রভাবশালী এই মুহিউদ্দিন। প্রায় ৯ বছর মালয়েশিয়ার দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজ্য জোহরের পাগোহ থেকে মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। জোহর রাজ্যের একজন জনপ্রিয় ও প্রভাবশালী ধর্মীয় শিক্ষকের ছেলে তিনি। এর আগে ১৯৭০ সালে ইউনিভার্সিটি অব মালয় থেকে অর্থনীতি ও মালয় স্টাডিজ বিষয় নিয়ে স্নাতক সম্পন্ন করেন মুহিউদ্দিন।

বেইজিংভিত্তিক সংবাদমাধ্যম সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মালয়েশিয়ার ক্ষমতা চক্রের শীর্ষে আরোহণের পথ মুহিউদ্দিনের চেয়ে ভালো খুব কম রাজনীতিবিদই জানেন। ১৯৭৮ সালে রাজনীতির সঙ্গে নিজেকে জড়ান মুহিউদ্দিন। সেবারই গুরুত্বপূর্ণ পাগোহ আসন থেকে সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন। দীর্ঘ ৪২ বছরের রাজনৈতিক জীবনে মুহিউদ্দিন মোট ছয়টি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব সামলেছেন। পররাষ্ট্র, বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ সব মন্ত্রণালয়ের সর্বোচ্চ পদেও ছিলেন দীর্ঘদিন ধরে। ২০০৯ সাল থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত পালন করেন মালয়েশিয়ার উপ-প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বও।

দেশটির রাজনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান ছিল এই ব্যক্তিত্বের। নাজিব রাজ্জাকের দল ইউনাইটেড মালয়স ন্যাশনাল অরগানাইজেশনের ডেপুটি প্রেসিডেন্ট ছিলেন। এছাড়া মাহাথির-রাজ্জাক জোট ন্যাশনাল বরিসনের ডেপুটি চেয়ারম্যান ছিলেন তিনি।

২০১৬ সালে মালয়েশিয়ার জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক দল প্রিবুমি বেরসাতু প্রতিষ্ঠা করেন মাহাথির মুহাম্মদ। সে দলেরই সভাপতি ছিলেন মুহিউদ্দিন। এবার প্রধানমন্ত্রীর পদ পেতে উমনো এবং পিএসএ নামের দুই দলের সমর্থন পেতে হয়েছে তাকে। জানা গেছে, মুহিউদ্দিনের জন্য উমনোর সমর্থনের সমালোচনা করেছেন খোদ মাহাথির মুহাম্মদ। রোববার শপথের মাধ্যমে মুহিউদ্দিন হলেন দেশটির অষ্টম প্রধানমন্ত্রী।

এবার মূলত প্রধানমন্ত্রীর পদ পেতে পিএসএ ও উমনো নামে দুই রাজনৈতিক দলের সমর্থন নিতে হয়েছে মুহিউদ্দিনকে। যদিও উমনোর সঙ্গে তার এই সখ্যের তীব্র সমালোচনা করেছেন সদ্য পদত্যাগী প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদ।