advertisement
আপনি দেখছেন

বিট্রিশ প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন ডাউনিং স্ট্রিটের প্রথম অবিবাহিত যুগল বরিস জনসন ও ক্যারি সিমন্ডসকে নিয়ে বেশ হইচই হচ্ছে। তাদের যৌথ ঘোষণায় বলা হয়েছে, তারা পরস্পর অঙ্গীকারবদ্ধ হয়েছেন এবং সন্তানের পিতামাতা হতে চলেছেন। বরিস জনসন গত বছর ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বভার গ্রহণ করেন।

boris jhonson

কিন্তু কে এই ক্যারি সিমন্ডস?

ক্যারি সিমন্ডস হচ্ছেন ইন্ডিপেনডেন্ট পত্রিকার অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ম্যাথু সিমন্ডস এবং সংবাদপত্র আইনজীবী জোসেফিন ম্যাকাফি’র কন্যা। ৩১ বছর বয়সী সিমন্ডস লন্ডনের দক্ষিণ-পশ্চিম অংশে বড় হয়েছেন। পরবর্তীতে ওয়ারউইক ইউনিভার্সিটিতে ইতিহাস এবং থিয়েটার নিয়ে পড়াশোনা করেছেন।

২০১০ সালে কনজারভেটিভ পার্টিতে প্রেস অফিসার হিসাবে যোগ দেন ক্যারি সিমন্ডস। দুই বছর পরে বরিস জনসনের নির্বাচনী প্রচার শিবিরে কাজ করেন, যে নির্বাচনে লন্ডনের মেয়র হিসেবে বরিস জনসন পুনঃনির্বাচিত হন। এর পর তিনি কাজ করেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী জন হোয়াইটিংডেলের জন্য। তারপর ডিপার্টমেন্ট ফর কম্যুনিটিস এন্ড লোকাল গভর্নমেন্টের তৎকালীন প্রধান সাজিদ জাভিদের দপ্তরে মিডিয়া স্পেশাল অ্যাডভাইজর হিসেবে দায়িত্ব নেন।

কতদিন ধরে এই যুগল একত্রে রয়েছেন?

২০১৯ সালের প্রথম দিকে বরিস জনসনের সঙ্গে ক্যারি সিমন্ডসের সম্পর্কের বিষয়টি গণমাধ্যমে উঠে আসে। এর আগে জনসন এবং তার স্ত্রী, ছোটবেলার বন্ধু ম্যারিনা হোয়েলার ২০১৮ সালে ঘোষণা করেন, ২৫ বছরের বিবাহিত সম্পর্কের অবসান ঘটিয়ে তারা আলাদা হতে যাচ্ছেন। তাদের চারটি সন্তান রয়েছে।

২০১৯ সালের জুলাই মাসে যখন বরিস জনসন প্রথমবার ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী হন, তখন জনসনের ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটে প্রবেশের দৃশ্য সাইড লাইনে থেকে দেখেছেন ক্যারি সিমন্ডস। পূর্বসূরীদের তুলনায় ঘটনাটি ব্যতিক্রম। কারণ পূর্বসূরীদের সবাই তাদের স্বামীর সঙ্গে একত্রে ডাউনিং স্ট্রিটে পা ফেলেছিলেন। অবশ্য তার কিছু দিন পর অর্থাৎ ডিসেম্বরের নির্বাচনের পর এই যুগল একত্রেই ডাউনিং স্ট্রিটে প্রবেশ করেন। এটা অভূতপূর্ব একটা ব্যাপার ছিল যে, একজন প্রধানমন্ত্রী তার মেয়ে বন্ধুকে নিয়ে ডাউনিং স্ট্রিটে বসবাস করবেন।

গ্রীষ্মের শুরুর দিকে তাদের সন্তান হতে যাচ্ছে। তার মানে ধারণা করা যায় যে, শরতের সময় তিনি গর্ভধারণ করেছেন। সময়টি হতে পারে ৩১ অক্টোবরের আশপাশে, যখন ব্রেক্সিট সময়সীমা বর্ধিত হয়। ক্যারি সিমন্ডস বলেছেন, বাগদান এবং গর্ভধারণের খবরে তিনি অত্যন্ত আনন্দিত।

৫৫ বছর বয়সী বরিস জনসন হচ্ছেন ১৭২১ সালের পর ব্রিটেনে তালাকপ্রাপ্ত তৃতীয় প্রধানমন্ত্রী। আর ক্যারি সিমন্ডস হচ্ছেন ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রীর ১৭৩ বছরের মধ্যে সবচেয়ে কমবয়সী সঙ্গিনী। যদিও সিমন্ডসের চেয়ে জনসন ২৪ বছরের বড়, কিন্তু বয়সের বড় পার্থক্যের ঘটনা আগেও দেখা গেছে।