advertisement
আপনি দেখছেন

করোনাভাইরাস আতঙ্কে বিশ্বব্যাপী জেরবার অবস্থা। বিশ্বের প্রায় ৬০টি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে প্রাণঘাতী ভাইরাসটি। ইতোমধ্যে মৃতের সংখ্যা তিন হাজার ছাড়িয়েছে। আর আক্রান্ত হয়েছে প্রায় সাড়ে ৮৮ হাজার। সম্প্রতি ভারতের নয়াদিল্লিতে ঘটে যাওয়া সাম্প্রদায়িক সহিংসতাকে এই নাজুক পরিস্থিতির সঙ্গে তুলনা করেছেন খ্যাতিমান লেখক, বুদ্ধিজীবী ও মানবাধিকারকর্মী অরুন্ধতী রায়। 

orundhati roy

তিনি বলেন, ‘এটি (দিল্লির সহিংসতা) আমাদের সংস্করণের করোনাভাইরাস। আমরা সবাই অসুস্থ।’

গতকাল রোববার দিল্লির যন্তর মন্তরে অনুষ্ঠিত সমাবেশে দেওয়া বক্তৃতায় এ কথা বলেন তিনি। অরুন্ধতী রায়ের বক্তব্যের পুরোটা প্রকাশ করেছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম স্ক্রল ডট ইন।

দিল্লি পরিস্থিতির বর্ণনা করে এই মানবাধিকারকর্মী বলেন, ‘বাজার, দোকানপাট, বাড়িঘর, মসজিদ ও যানবাহন পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে। রাস্তাঘাটে পড়ে আছে অসংখ্য পাথর ও ধ্বংসস্তূপ। হাসপাতালগুলো আহত ও মরণাপন্ন মানুষে ভর্তি। মর্গগুলো মৃতদেহে পূর্ণ। মৃতদেহের মধ্যে মুসলিম, হিন্দু, পুলিশ ও গোয়েন্দা বাহিনীর সদস্যও আছেন। হ্যাঁ, সব পক্ষের মানুষই নিজেদের নিষ্ঠুর দিকটি ফুটিয়ে তুলেছে এবং একই সঙ্গে অভাবিত সাহস ও দয়ার চেহারাও দেখিয়েছে।’

সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (সিএএ) নিয়ে অরুন্ধতী বলেন, এই আইন পুরোপুরি অসাংবিধানিক এবং মুসলিমবিরোধী। এনআরসির সঙ্গে মিলে সিএএ শুধু মুসলিম নয়, বরং যেসব কোটি কোটি ভারতীয়র নাগরিকত্বের প্রামাণ্য দলিল নেই, তাদের অবৈধ আখ্যা দিচ্ছে এবং অপরাধী বানাচ্ছে।

প্রখ্যাত এ মানবাধিকার কর্মী বলেছেন, ‘যে গণতন্ত্র সংবিধান দ্বারা চালিত হয় না এবং যার সব কটি সংস্থা বিবর্ণ হয়ে পড়ছে, সেটি অবশ্যই একটি সংখ্যাগরিষ্ঠের রাষ্ট্র হয়ে ওঠে। আপনি একটি সংবিধানের পুরো বা আংশিক বিষয়ের সঙ্গে একমত হতে পারেন, আবার দ্বিমত পোষণও করতে পারেন। কিন্তু সংবিধান নেই-ই, এমন আচরণের মধ্য দিয়ে এই সরকার গণতন্ত্রকে পুরোপুরি ধূলিসাৎ করে দিয়েছে। হয়তো এটিই লক্ষ্য ছিল। এটি আমাদের সংস্করণের করোনাভাইরাস। আমরা সবাই অসুস্থ।’

অরুন্ধতী মনে করেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে পুরো ভারতের শাসনব্যবস্থাই ব্যর্থ হচ্ছে। তিনি বলেন, এই অবস্থায় সাহসী সাংবাদিক, আইনজীবী ও লেখক-কবি-চিত্রশিল্পী-চিত্র নির্মাতাসহ সব শিল্পীকে মুখ খুলতে হবে, এগিয়ে আসতে হবে। কারণ অনেক কাজ করা যে বাকি।

sheikh mujib 2020