advertisement
আপনি দেখছেন

বিশ্ব অর্থনীতিতে নেতিবাচক ঝাঁকুনি দিয়ে যাচ্ছে করোনাভাইরাস। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘ সময় ধরে এমনটা চলতে থাকলে সৃষ্টি হতে পারে বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক মন্দা। কারণ সারা পৃথিবীতেই একের পর এক বন্ধ হচ্ছে পর্যটন স্পটগুলো, শেয়ার বাজারে ধস নামছে, আন্তর্জাতিক বাজারে কমছে তেলের মূল্য। বাড়ছে বেকারত্ব, আর তাই স্বাভাবিকভাবেই কমছে ক্রয়ক্ষমতা।

corona economy

করোনা মোকাবেলায় ইউরোপসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ শক্ত পদক্ষেপ হাতে নিচ্ছে। সংক্রমণ ঠেকাতে অনেক দেশ নিজেদেরকে অবরুদ্ধ করে রাখছে। সাময়িকভাবে নিজেদেরকে গুটিয়ে নিচ্ছে আমদানি-রপ্তানি থেকেও। বিশেষকরে করোনাভাইরাস নিয়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ার কারণে সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়ছে শেয়ারবাজারে।  

করোনাকে ইতোমধ্যেই ‘মহামারি’ ঘোষণা করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।  ওদিকে বিশ্বব্যাংকের এক গবেষণায় মহামারির ক্ষয়ক্ষতিকে তুলনা করা হয়েছে বিশ্বযুদ্ধের ক্ষতির সঙ্গে।  সাধারণত, কোনো মহামারির কারণে বিশ্বে মোট জিডিপির ৫ ভাগের কাছাকাছি অর্থাৎ প্রায় ৩ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার লোকসান হয়। 

গত দুই দশক ধরে চীনকে বলা হচ্ছে ‘বিশ্ব কারখানা’। কারণ গাড়ির যন্ত্রাংশ, স্মার্ট ফোন আর নানাবিধ ইলেক্ট্রনিক যন্ত্রপাতি অর্ধেকের বেশি উৎপাদন হয় চীনে।  করোনাভাইরাসের কারণে সেই চীনেরই অর্থনীতি সবচেয়ে শ্লথ গতিতে চলছে। স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড জানায়, ইতোমধ্যেই করোনার কারণে আক্রান্ত হয়েছে চীনা অর্থনীতির ৪২ ভাগেরও বেশি। যার ভয়ঙ্কর প্রভাব পড়বে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে। 

বর্তমান সঙ্কট কতদিন ধরে চলবে, তার কোনো পূর্বাভাস নেই। তাই ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা সম্পর্কেও আগাম কিছু বলতে পারছেন না অর্থনীতি বিশেষজ্ঞরা। ঠিক এই কারণেই করোনার প্রভাবে সৃষ্ট অর্থনৈতিক সঙ্কট মোকাবেলারও কোনো প্রস্তুতি নেই। বিশ্ব এখন করোনা মোকাবেলায় এতটাই সক্রিয় যে, অর্থনৈতিক মন্দা তৈরি হলে তা মোকাবেলায় কী করতে হবে, তার কোনো উদ্যোগ নেই।  

sheikh mujib 2020