advertisement
আপনি দেখছেন

অবশেষে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস শনাক্তের পরীক্ষার জন্য রাজি হয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার সংস্পর্শে আসা কয়েকজনের দেহে করোনাভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়ায় বিভিন্ন মহল থেকে প্রশ্ন উঠেছিল ট্রাম্প ও তার পরিবার কেন নিজেরদের সুরক্ষার জন্য কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছেন না। এসব সমালোচনার পর গতকাল শুক্রবার তিনি পরীক্ষা করাবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন। খবর ডন।

us president trump 2মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

গতকাল শুক্রবার ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রে জরুরি অবস্থা ঘোষণার পাশাপাশি সেখানকার সব স্কুল-কলেজ ও কর্মস্থল বন্ধ ঘোষণা করেন। যুক্তরাষ্ট্র থেকে ছেড়ে যাওয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের দিকে যাওয়া সব ফ্লাইটও স্থগিত রাখার নির্দেশ দেন তিনি।

উল্লেখ্য, গত সপ্তাহে ফ্লোরিডায় একটি নৈশভোজ অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন ট্রাম্প। এখন পর্যন্ত সে অনুষ্ঠানে থাকা তিনজনের দেহে ভাইরাসটির অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। এদের মধ্যে আছেন ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারো। আশঙ্কার বিষয় হচ্ছে, তিনি ও ট্রাম্প একই টেবিলে বসে খাবার খেয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের বিভিন্ন ছবিতে দেখা গেছে দুইজন পাশাপাশি বসে কথা বলছেন।

ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট আক্রান্ত হওয়ার পরও ট্রাম্প করোনাভাইরাসকে পাত্তা দেননি।

গত বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র স্টেফানি গ্রিসাম বলেছিলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও ভাইস-প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স উভয়েই সুস্থ আছেন। তারা করোনাভাইরাসের পরীক্ষা এখনও করাননি। বিষয়টি নিয়ে তারা মোটেও চিন্তিত নন।

ট্রাম্পের মতো তার কন্যাও করোনা নিয়ে চিন্তিত নন। সম্প্রতি তিনি ও যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ কর্মকর্তারা অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পিটার ডুটনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। পিটার ডুটন শুক্রবার করোনায় আক্রান্ত হন। ইভাংকা ট্রাম্প ও শীর্ষ কর্মকর্তারা অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের পর বেশ কয়েকবার ট্রাম্পের মুখোমুখি হয়েছেন। যার কারণে অনেকেই আশঙ্কা করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্টের দেহেও করোনাভাইরাসের উপস্থিতি থাকতে পারে।

us president trump03শুক্রবারের জরুরী ঘোষণা শেষে ট্রাম্প

এতদিন ট্রাম্প বার বার বলে এসেছেন করোনা নিয়ে আতঙ্কের কিছু নেই। এপ্রিলের গরমে চলে যাবে করোনাভাইরাস এমন কথাও বলেছেন।

কিন্তু শুক্রবার তিনি বলেন, যে কেউ এই ভাইরাসটির বাহক হতে পারে। তাই আমাদের খুব সতর্কতার সঙ্গে প্রতিটি পদক্ষেপ নিতে হবে এবং আশেপাশের মানুষজন কী করছে তা খেয়াল রাখতে হবে। আমি চাই যুক্তরাষ্ট্রে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে থাকুক। এতদিন আমি নিজের ভাইরাস পরীক্ষা করা ইনি। তবে ইচ্ছে আছে করাব।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রে এখন পর্যন্ত ভাইরাসটির কারণে মৃত্যু হয়েছে ৫০ জনের। আক্রান্ত হয়েছেন ২৩২৯ জন। আর সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ৪১ জন। দ্রুত ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়ায় নিউইয়র্ক, ওয়াশিংটন, ক্যালিফোর্নিয়াসহ বেশ কিছু রাজ্যে জরুরি অবস্থা জারি করেছে মার্কিন প্রশাসন।

ভাইরাসটি এখন পর্যন্ত বিশ্বের ১৩২টি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। সবমিলিয়ে এখন পর্যন্ত সারা পৃথিবীতে মৃত্যুবরণ করেছেন ৫১২০ জন। আক্রান্ত হয়েছেন ১ লাখ ৩৯ হাজার ৬৩৭ জন এবং চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে ফিরে এসেছেন ৭০ হাজার ৭৩৩ জন।

sheikh mujib 2020