advertisement
আপনি দেখছেন

শুক্রবার পাকিস্তানের করাচিতে একটি যাত্রিবাহী উড়োজাহাজ আবাসিক এলাকায় পড়ে যায়। এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় ৯৭ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এই ঘটনায় প্রাণে বেঁচে যাওয়া এক যাত্রী বলেছেন, বিমানটি পড়ে যাওয়ার পর তিনি শুধু আগুন দেখেছেন।

aircraft crash in pakistan

যাত্রীটির নাম মুহাম্মদ জুবাইর। এই বিমান দুর্ঘটনায় অন্তত দুজন যাত্রী প্রাণে বেঁচে গেছেন। জুবাইর তাদের একজন। পাকিস্তান আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্সের এয়ারবাস এ-৩২০ করাচির একটি আবাসিক এলাকায় পড়ে যায়।

ঠিক কী কারণে উড়োজাহাজটি এ রকম দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত করে যায়নি। তবে পাকিস্তানের একাধিক সংবাদ মাধ্যম জানিয়েছে, বিমানটির পাইলট একটি যান্ত্রিক ত্রুটির কথা রিপোর্ট করেছিলেন। কিন্তু সেটি আসলে কী, তা নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হয়নি।

করোনাভাইরাস লকডাউন শিথিল করার কয়েক দিনের মধ্যেই এই ঘটনাটি ঘটলো। এই ঘটনায় পাকিস্তানে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

জুবাইর কিভাবে বাঁচলেন?

পাকিস্তান এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট পিকে-৮৩০৩তে লাহোর থেকে উড়াল দিয়েছিলেন ৯১ জন যাত্রী, আটজন ক্রু। এদের মধ্যে অনেকে ঈদের ছুটিতে লাহোর থেকে করাচিতে আসছিলেন।

আবাসিক এলাকায় পড়ে যাওয়ার আগে করাচির জিন্নাহ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এই উড়োজাহাজটি নামার চেষ্টা করেছিলো। বেলা আড়াইটার দিকে এই ঘটনাটি ঘটে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বিমানটি নামতে সক্ষম হয়নি।

জুবাইর সংবাদ মাধ্যমকে বলেছেন, বিমানটি একবার নামার চেষ্টা করে। এর ১০ থেকে ১৫ মিনিট পর তা আবাসিক এলাকায় আছড়ে পড়ে।

তিনি বলেন, “বিমানটি স্বাভাবিকভাবেই উড়ছিলো। আমরা কোনো বিপদ টের পাইনি। এই অবস্থায় বিমানটি ধসে যেতে পারে, তা আমাদের কারোর কাছেই মনে হয়নি।”

জুবাইর হালকা কিছু আঘাত পেয়েছেন। তিনি বলেন, “বিমানটি পড়ে যাওয়ার পরই আমি জ্ঞান হারিয়ে ফেলি। জ্ঞান ফেরার পর শুধু চিৎকার শুনেছি এবং যা দেখেছি- তা ছিলো শুধু আগুন আর আগুন। ধুয়ার কারণে কোনো মানুষ দেখতে পারিনি।”

তিনি আরো বলেন, “জ্ঞান ফেরার পর আমি আমার সিট বেল্ট খুলে একটা বাতি দেখতে পাই এবং সেই বাতির দিকে এগোতে থাকি। নিরাপদ জায়গায় যাওয়ার জন্য অন্তত ১০ ফুট উঁচু থেকে লাফিয়ে পড়ি আমি।”

উড়োজাহাজটি কেনো পড়ে গেলো?

মডেল কলোনি আবাসিক এলাকায় ধসে পড়ার আগে বিমানটি রানওয়েতে ঢোকার খুব কাছাকাছি ছিলো। টিভি ফুটেজে গেছে বিমানটি পড়ে যাওয়ার পর ওই এলাকায় থাকা কয়েকটি গাড়িতেও আগুন লেগে যায়।

স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী মুহাম্মদ উজাইর খান বলেন, “প্রচণ্ড আওয়াজ শুনে আমি বাড়ি থেকে বের হয়ে আসি। অন্তত চারটা বাড়ি পুরোপুরি ধসে গেছে এবং আগুন লেগে যায়। তারা আমারই প্রতিবেশি। আমি আসলে ভাষায় প্রকাশ করতে পারবো না এই ঘটনা কতোটা ভয়াবহ।”

পাকিস্তানিং সংবাদ মাধ্যমে বলা হচ্ছে, ধসে পড়ার আগে এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল রুমে উড়োজাহাজটির পাইলট বলেছিলেন যে তিনি ইঞ্জিনের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেছেন। কন্ট্রোল রুম থেকে বলা হচ্ছিলো পাইলট কি বিমানটি নিয়ে রানওয়েতে ‘বেলি ল্যান্ডিং’ করতে পারবেন কি না। বেলি লেন্ডিং মানে হলো বিমানটি কোনোমতে রানওয়েতে নিয়ে ফেলা। কিন্তু পাইলট উত্তরে জানান— তিনি আর ওই পরিস্থিতিতে নেই।

এর কিছুক্ষণ পরই বিমানটি আবাসিক এলাকায় ধসে পড়ে। এরই মধ্যে ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।