advertisement
আপনি দেখছেন

মরণঘাতী করোনাভাইরাস শিগগিরই পৃথিবী থেকে বিদায় নিচ্ছে না। এখন থেকে ভাইরাসটিকে সঙ্গে নিয়েই মানুষের জীবন-জীবিকা নির্বাহ করতে হবে বলে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে প্রভাবশালী ব্রিটিশ সাময়িকী দ্য ইকোনমিস্ট। যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির একটি গবেষণার বরাত দিয়ে তারা এ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

chinas corona virus 1

সেখানে বলা হয়, বিশ্বে করোনাভাইরাস সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ এখনো শুরু হয়নি। কারণ প্রথম ধাক্কাই এখনো কাটেনি। ইতোমধ্যে ভাইরাসটিতে এক কোটির বেশি মানুষ সংক্রমিত হয়েছেন। মারা গেছেন পাঁচ লাখের বেশি মানুষ। চীন, তাইওয়ান ও ভিয়েতনামের মতো কিছু দেশ ভাইরাসটি নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হলেও লাতিন আমেরিকা ও দক্ষিণ এশিয়ায় তাণ্ডব চলছে।

সম্প্রতি এ নিয়ে গবেষণা চালায় যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি। ৮৪টি দেশের ওপর চালানো এ গবেষণায় দেখা যায়, প্রতি নতুন রোগী শনাক্তের বিপরীতে সংক্রমিত ১২ জন রোগী অশনাক্ত থেকে যাচ্ছেন। প্রতি দুই রোগীর মৃত্যুর বিপরীতে তৃতীয় রোগীর মৃত্যু অন্য রোগের ফলাফল বলে মনে করা হচ্ছে।

এক্ষেত্রে যদি উপযুক্ত চিকিৎসা পদ্ধতি না আসে, তাহলে ২০২১ সালের মাঝামাঝি করোনায় সংক্রমিত রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াতে পারে ২০ থেকে ৬০ কোটিতে। উক্ত সময়ের মধ্যে ১৪ থেকে ৩৭ লাখ মানুষ মারা যেতে পারেন। পাশাপাশি বিশ্বের আরো ৯০ শতাংশ মানুষ মরণব্যাধী এ ভাইরাসটিতে সংক্রমিত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকবে।

south korea cv 19

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, কোভিড-১৯ এর সংক্রমণ ছড়ানোর হার নির্ভর করছে সামাজিক নিয়ন্ত্রণের ওপর। মোট তিনটি ধাপে ভাইরাসটিকে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। সেগুলো হলো- টেস্টিং, ট্রেসিং (শনাক্ত) ও আইসোলেশন। আর এই তিনটি ধাপ ব্যর্থ হলে তখন লকডাউন দিতে হবে।

ব্যাপক হারে করোনা ভ্যাকসিনের ব্যবহার এখনো অনেক দূরে। তবে এই মুহূর্তে প্রাথমিক থেরাপিগুলো পাওয়া যাচ্ছে। সুচিকিৎসার কারণে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রোগীর সংখ্যা কমতে শুরু করেছে। শুধু ব্রিটেনে আইসিইউতে ভর্তি করোনারোগীর সংখ্যা মার্চ মাসে ছিল ১২ শতাংশ। যা কমে মে মাসে এসে দাঁড়িয়েছে ৪ শতাংশে।

করোনা নিয়ন্ত্রণে সক্ষম চীন ভাইরাসটির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিয়ে অর্থনীতি ব্যবস্থা চালুর চেষ্টা করছে। তারা স্টারবাকস বা সংস্পর্শহীন বিক্রয় পদ্ধতি চালু করেছে। ফলে কফিশপে গ্রাহকদের অবস্থানের সময় কমে গেছে। এ ছাড়া বিভিন্ন কল-কারখানা তাদের কর্মীদের সুরক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করে এবং কর্মঘণ্টা পুনর্বণ্টন করে পুরোদমে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

sheikh mujib 2020