advertisement
আপনি দেখছেন

তুরস্কের হাজিয়া সোফিয়া বিশ্বখ্যাত একটি স্থাপত্য। বিভিন্ন সময়ে এটি চার্চ, মসজিদ ও জাদুঘর হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। বর্তমানে তুর্কি আদালতে একটি মামলা প্রক্রিয়াধীন, যা ঠিক করবে এই স্থাপত্য জাদুঘর থাকবে নাকি মসজিদ হবে। তুর্কি সরকার একে মসজিদে রূপান্তর করতে চাইলেও রাশিয়া চাইছে এটি জাদুঘরই থাকুক।

hagia sofia02হাজিয়া সোফিয়া

এক বিবৃতিতে রুশ প্রেসিডেন্টের কার্যালয় ক্রেমলিন জানায়, হাজিয়া সোফিয়া ইউনেস্কোর ঐতিহ্যবাহী স্থাপত্যের তালিকায় আছে। সেই মর্যাদা ক্ষুণ্ন করে একে মসজিদে রূপান্তর না করার আহ্বান জানানো হলো তুর্কি সরকারের প্রতি।

ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকোভ বলেন, আমাদের আশা, তুর্কি সরকার হাজিয়া সোফিয়ার বৈশ্বিক ঐতিহ্যের কথা আমলে নেবে এবং এর কোনো পরবর্তন আনবে না।

তিনি বলেন, স্থাপত্যটি বিশ্বের পর্যটনপ্রেমীদের কাছে অন্যতম আকর্ষণ। প্রতিবছর হাজার হাজার রুশ নাগরিক হাজিয়া সোফিয়া দেখতে তুরস্ক যান।

hagia sofiaহাজিয়া সোফিয়া

তিনি আরো বলেন, আমরা তুরস্কের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে কোনো হস্তক্ষেপ করতে পারি না। তারা আমাদের সহচর এবং অংশীদার। তাদের আমরা আহ্বান জানাই, সব কিছু পর্যালোচনা করে তারা যেন সিদ্ধান্ত নেয়।

মিডেল ইস্ট মনিটরের বরাতে জানা যায়, বাইজেন্টাইন সম্রাট জাস্টেনিয়ান ৫৬৭ সালে এর নির্মাণ করেছিলেন। সে সময় এটি খ্রিস্টানদের চার্চ হিসেবেই ব্যবহৃত হয়েছে। পরে অটোম্যান সম্রাট মেহমেদ কর্তৃক ১৪৫৩ সালে ওই এলাকা ইসলামের অধীনে আসলে স্থাপত্যটিকে মসজিদে রূপান্তর করা হয়।

হাজিয়া সোফিয়া মূলত তার বড় গম্বুজের জন্য বিখ্যাত। নির্মাণের পর এটিই ছিল পৃথিবীর সর্ববৃহৎ বিল্ডিং। একে বাইজেন্টাইন স্থাপত্যশিল্পের সবচেয়ে সুন্দর নমুনা বলা হয়। এর নির্মাণের পরই বিশ্বের স্থাপত্যশিল্পে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এসেছে।

১৯৩৪ সালে আধুনিক তুরস্কের যাত্রা শুরু হলে ঐতিহাসিক এই স্থাপত্যকে মসজিদ থেকে জাদুঘরে রূপান্তর করা হয়। কিন্তু সম্প্রতি তুর্কি সরকার সিদ্ধান্ত নেয় একে আবারো মসজিদে রূপান্তর করার। এরই প্রেক্ষিতে মামলা করে বর্তমানে জাদুঘর দেখভাল করার দায়িত্বে নিয়োজিত এনজিও।

গত ৫ জুলাই সেই মামলার শুনানি হলেও আদালতের রায় পেতে আরো কয়েকদিন অপেক্ষা করতে হবে সবাইকে। জানা যায়, আগামী ১৭ জুলাই রায় দিবে তুর্কি আদালত।

sheikh mujib 2020