advertisement
আপনি দেখছেন

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলের সাবেক শিক্ষক ডক্টর ক্লে একার্কলি বলছেন, করোনাভাইরাসের হার্ড ইমিউনিটি নিয়ে যারা আশাবাদী তারা আষাঢ়ে গল্প নিয়ে চিন্তা করছেন। এই পদ্ধতি থেকে বিশ্ব এখনো অনেক দূরে।

herd imunity picপ্রতীকী ছবি

ফক্স নিউজের বরাতে জানা যায়, একার্কলির কাছে চিকিৎসা নেয়া ৫০ বছর বয়সী এক করোনারোগী সুস্থ হওয়ার পর আবারো ভাইরাসটিতে সংক্রমিত হয়েছেন। যার কারণে হার্ড ইমিউনিটি নিয়ে এমন মন্তব্য করেছেন তিনি।

তিনি বলেন, ওই রোগী প্রথমবার সংক্রমিত হওয়ার পর হালকা ঠাণ্ডা ও গলাব্যথা হয়েছিল। এরপর সুস্থ হয়ে তিনি বাড়ি ফিরে যান। কিছুদিন পর আবারো তার দেহে ভাইরাসটির অস্তিত্ব পাওয়া যায়। এবার আমরা লক্ষ্য করলাম, ওই রোগীর দেহে তীব্র জ্বর, শ্বাস-প্রশ্বাস ছোট হয়ে যাওয়া, সঙ্গে অন্যান্য কিছু আনুষঙ্গিক সমস্যারও উৎপত্তি হয়।

pandemic symbolic picture05করোনাভাইরাসের মাইক্রোস্কোপিক ছবি

তিনি বলেন, কিছু রোগীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে, আক্রান্ত হওয়ার দীর্ঘ সময় পর দেহে লক্ষণগুলো দেখা দেয়। প্রথমে কোনো লক্ষণ না দেখা দিলেও পরে ধীরে ধীরে দেখা দিতে শুরু করে।

তিনি আরো বলেন, তবে এ কথা নিশ্চিত করে বলতে পারি, আমার কাছে চিকিৎসা নেয়ার পর ওই রোগী সম্পূর্ণ সুস্থ হয়েছিলেন। কারণ সুস্থ হওয়ার পর তার দুইবার শনাক্তকরণ টেস্ট করা হয়েছে। দুইবারই তার ফলাফল নেগেটিভ এসেছে। তারপর ফের তিনি আক্রান্ত হয়েছেন। যার কারণে বোঝা যাচ্ছে, যারা হার্ড ইমিউনিটির চিন্তায় আছেন তারা অবাস্তব চিন্তায় দিন যাপন করছেন।

প্রসঙ্গত, হার্ড ইমিউনিটি হলো এমন একটি পদ্ধতি, যেখানে একটি জনগোষ্ঠীর ৭০-৯০ শতাংশ মানুষ সংক্রামক ভাইরাসের আক্রান্ত হয়ে দেহে এন্টিবডি গড়ে তুলবে। যার ফলে কার্যত ভাইরাসটি বড় কোনো সংক্রমণ ঘটাতে পারবে না।

সম্প্রতি স্পেনের ৬০ হাজারের অধিক মানুষের ওপর গবেষণাটি করেছেন স্প্যানিশ গবেষকরা। এতে তারা দেখতে পান, মাত্র ৫ শতাংশ স্প্যানিশ ভাইরাসটিতে সংক্রমিত হওয়ার পর দেহে এন্টিবডি উৎপন্ন করতে সক্ষম হয়েছেন।

স্পেনের মোট জনসংখ্যা ৪ কোটি ৭০ লাখ। এর মধ্যে সংক্রমিত হয়েছে ৩ লাখ মানুষ। হার্ড ইমিউনিটি পেতে হলে দেশটির ৭০-৯০ শতাংশ মানুষকে করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হয়ে দেহে এন্টিবডি তৈরি করতে হবে। আপাতদৃষ্টিতে সে লক্ষ্যে পৌঁছানো অনেক সময়ের ব্যাপার। অথচ এর আগেই দেশটিতে পরিস্থিতি প্রায় নিয়ন্ত্রণে এসেছে।

sheikh mujib 2020