advertisement
আপনি দেখছেন

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রে এবার দেখা দিয়েছে বিউবোনিক প্লেগ। শনিবার দেশটির কলোরাডো রাজ্যে এক কাঠবিড়ালির দেহে বিউবোনিক প্লেগের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। এর আগে গত সপ্তাহে চীনের একটি অঞ্চলে এই প্লেগের রোগী শনাক্ত হয়েছে।

squirrel 01কাঠবিড়ালি

আল আরাবিয়ার বরাতে জানা যায়, বিউবোনিক প্লেগ মূলত দ্য ব্ল্যাক ডেথ রোগ হিসেবেই বেশি পরিচত। এর কারণে ১৪ শ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে ইউরোপে অনেক প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছিল। ইয়েরসিনিয়া পেস্তিস নামে এক ব্যাকটেরিয়ার কারণে এই প্লেগ সৃষ্টি হয় বলে জানা গেছে।

কলোরাডোর জেফারসন শহর কর্তৃপক্ষ ওই এলাকার মানুষকে সাবধান করেছে যে, সংক্রমিত মশা-মাছি কিংবা প্রাণীর মাধ্যেম এই রোগ মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়তে পারে। এছাড়া সংক্রমিত প্রাণীর রক্তের সংস্পর্শে আসলে প্লেগে আক্রান্ত হওয়ার উচ্চঝুঁকি আছে বলে শহর কর্তৃপক্ষ স্থানীয়দের সতর্ক করেছে।

colorado usaকলোরাডো

জানা যায়, কাঠবিড়ালির মধ্যে প্লেগ দেখা দেয়ায় সেখানকার পোষাপ্রাণীরা পড়েছে ঝুঁকিতে। বিশেষ করে, যারা বিড়াল পালেন তারা এখন আতংকে আছেন।

স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ বলছে, বিউবোনিক প্লেগে বিড়ালের মাধ্যমে সংক্রমিত হওয়ার ঝুঁকি খুব বেশি। তাই শিগগিরই এই এলাকার সব বিড়ালকে ভ্যাকসিন দেয়া জরুরি হয়ে পড়েছে। না হলে এই প্রাণীগুলোর মাধ্যমে স্থানীয়রা অসুস্থ হয়ে পড়তে পারেন। তবে কুকুর সে তুলনায় অনেক নিরাপদ। কারণ কাঠবিড়ালির কাছে কুকুর সাধারণত যায় না যতটা যায় বিড়াল। কিন্তু তাই বলে ঝুঁকি এড়ানো যাবে না।

কলোরাডোতে যাদের পোষাপ্রাণীর মধ্যে বিউবোনিক প্লেগে আক্রান্তের লক্ষণ দেখা দিয়েছে বা সে রকম কিছু চোখে পড়ছে তাদের দ্রুত স্থানীয় পশু ক্লিনিকে যোগাযোগের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

এর আগে গত সপ্তাহে চীনে অস্তিত্ব পাওয়া গেছে বিউবোনিক প্লেগের। দেশটির স্বায়ত্তশাসিত ইনার মঙ্গোলিয়া অঞ্চলে পশুপালক এক ব্যক্তির শরীরে এই রোগের অস্তিত্ব পাওয়া যায়। এর পর সেখানে তৃতীয় স্তরের সতর্কতা জারি করেছে কর্তৃপক্ষ।

কলোরাডোর স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ বিউবোনিক প্লেগের আক্রান্ত হওয়ার লক্ষণগুলো প্রকাশ করেছে। সেগুলো হচ্ছে, হঠাৎ তীব্র জ্বর, শরীর ঠাণ্ডা হয়ে যাওয়া, মাথাব্যথা, বমি বমি ভাব, শরীরে তীব্র ব্যথা, অতিরিক্ত ঘাম। এসব লক্ষণ ২ থেকে ৭ দিনের মধ্যে দেখা দিতে শুরু করে।

এই প্লেগ থেকে বাঁচতে বেশ কিছু স্বাস্থ্যবিধিও ঘোষণা করেছে কলোরাডোর স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ। এসব উপায় অবলম্বন করলে একজন ব্যক্তি ও তার পোষা প্রাণী এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা কম। সেগুলো হলো-

১. বন্যপ্রাণী বাড়িতে এসে খায় এমন সব খাদ্যের উৎস সরিয়ে ফেলুন।

২. বন্যপ্রাণীদের খাওয়ানো বন্ধ করতে হবে।

৩. বাড়ির বাগান থেকে আবর্জনা সরিয়ে ফেলুন যাতে বন্যপ্রাণী না আসে।

৪. অসুস্থ প্রাণীদের এড়িয়ে চলুন।

৫. অসুস্থ প্রাণীর সামনে পড়লে কী করবেন তার প্রস্তুতি নিন এবং নিয়মিত পশু বিশেষজ্ঞের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।

৬. নিজের পোষা প্রাণীকে নিয়ন্ত্রণে রাখার কৌশল জব্দ করুন। প্রয়োজনে অভিজ্ঞ কারো সহায়তা নিন।

৭. নিজের পোষা প্রাণীকে যেখানে সেখানে যাওয়া থেকে বিরত রাখুন।

sheikh mujib 2020