advertisement
আপনি দেখছেন

মাহিমা এবং অনন্যা পাঞ্জাবের একটি বেসরকারি স্কুলে পড়াশোনা করে। তাদের দুজনকেই শিক্ষকরা মনে করেন ‘ব্রিলিয়ান্ট’। কিন্তু করোনাভাইরাস হানা দেওয়ার পর দুজনকেই এখন অনলাইনে ক্লাস করতে হচ্ছে এবং যা স্পষ্ট করে তুলেছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় গণতান্ত্রিক দেশের ডিজিটাল বৈষম্যের চিত্র।

online class in india during pandemic

অনন্যার বাড়িতে দ্রুতগতিসম্পন্ন ইন্টারনেট সংযোগ ও ওয়াইফাই আছে। ফলে সে কোনো রকম অসুবিধা ছাড়াই অনলাইন ক্লাসে যোগ দিতে পারে। এই অভিজ্ঞতা তার পড়াশোনার মনোযোগ বাড়িয়েছে এবং শিক্ষার্থী হিসেবে আগের চেয়ে উন্নতি করেছে বলে সংবাদ মাধ্যমের কাছে দাবি করেছে।

কিন্তু মাহিমার ক্ষেত্রে ঘটছে বিপরীত ঘটনা। কারণ তার বাড়িতে দ্রুতগতির ইন্টারনেট নেই, ওয়াইফাই নেই। তাকে নির্ভর করতে হয় মোবাইল ফোরজি ইন্টারনেটের উপর, যা বেশির ভাগ সময়ই উঠানামা করে। মাহিমা দেখেছে, কখনো তার ঘরে নেটওয়ার্ক থাকে না। ফলে ক্লাস করার জন্য দুপুরের রোদে বাসার ছাদে যেতে হয় তাকে। কখনো দেখা যায় ছাদেও নেটওয়ার্কের মান খারাপ।

মাহিমা পাঞ্জাবভিত্তিক একটি সংবাদ মাধ্যমকে বলেছেন, “আমি প্রায়ই ক্লাস মিস করে ফেলি। কারণ আমাদের দ্রুতগতিসম্পন্ন স্থির ইন্টারনেট ব্যবস্থা নেই। এর ফলে স্কুল থেকে যে ভিডিও পাঠানো হয়, তা আমি দেখতে পারি না, ডাউনলোড করা তো আরো বেশি কঠিন। বিদ্যুতের সমস্যাও আছে। ফোন চার্জ করে রাখাও অনেক সময় খুবই চ্যালেঞ্জিং।”

তিনি আরো বলেন, “গত এক দেড়-মাসে আমি মাত্র ১০-১২টা ক্লাসে উপস্থিত হতে পেরেছি। এই অবস্থায় আমার কেবল কান্না পেয়েছে। কারণ অনেক ক্লাস আমি মিস করেছি। যা আমাকে অন্যদের চেয়ে পেছনে ফেলে দিয়েছে।”

করোনাভাইরাস লকডাউনের কারণে কোটি কোটি শিক্ষার্থীর ক্লাস বাতিল হয়ে গেছে। এই পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্যই ভারতে অনলাইন ক্লাস শুরু হয়েছে। কিন্তু বেশির অবস্থানগত সমস্যা, ইন্টারনেটের ধীরগতি, বিদ্যুতের কঠিনলভ্যতার কারণে শিক্ষার্থীরা মিশ্র অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন।

ভারতের ৬৩০ মিলিয়ন লোক ইন্টারনেট ব্যবহার করেন। যা বিশ্বে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। কিন্তু স্থির ইন্টারনেট সেবার পরিবর্তে বেশির ভাগ লোককে মোবাইল ইন্টারনেটের উপর নির্ভর করতে হয়, যা তাদেরকে পিছিয়ে দিয়েছে।

উঠানামা করা মোবাইল ইন্টারনেট সংযোগ, অনিশ্চিত বিদ্যুপ্রাপ্তির ফলে সহজে ভিডিও দেখা, ডিভাইস সম্পূর্ণরূপে চার্জ করে রাখাই অনেকের জন্য কঠিন কাজ। এই পরিস্থিতিতে অনলাইন ক্লাস অনেক শিক্ষার্থীর কাছে সুবিধাজনক হয়ে এলেও, অনেকের কাছে তা পিছিয়ে পড়া ছাড়া কিছুই নয়।

sheikh mujib 2020