advertisement
আপনি দেখছেন

পাকিস্তানে গত ৩০ বছরের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ পঙ্গপালের আক্রমণ হয়েছে। এতে চরম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কৃষিজমি ও ফসল। এবার এই পতঙ্গগুলোকে কৃষিকাজে লাভের উদ্দেশ্যে কাজে লাগাতে চায় পাকিস্তান সরকার। এমন কিছু প্রকল্প নিয়ে ইতোমধ্যে কাজ শুরু করে দিয়েছে তারা। এর আগে তারা পঙ্গপাল থেকে মুরগির খাবার তৈরি করেছে।

pakistan locust infestationপাকিস্তানে পঙ্গপালের আক্রমণ

আরব নিউজের বরাতে জানা যায়, ২০১৯ সালের জুন থেকে পাকিস্তানে চলছে পঙ্গপালের অত্যাচার। ইরান থেকে একঝাঁক পতঙ্গ এসে পাকিস্তানে দানা বেঁধেছে। এরপর থেকেই ফসলি জমির ওপর চলছে ধ্বংসযজ্ঞ। কোন ফসলের উৎপাদন করেই শান্তি পাচ্ছেন না কৃষকরা। লোকসান গুণতে হচ্ছে তাদের।

পাকিস্তান সরকারের মতে, গ্রীষ্মে দেশের বিভিন্ন স্থানে বংশবিস্তার করেছে পঙ্গপাল। এতে সঙ্কট আরো কয়েকগুণ বেড়ে গেছে। এতে আবারো এই পতঙ্গের আক্রমণ বেড়ে যাবে।

emergency pakistan locustপাকিস্তানে পঙ্গপালের আক্রমণ

সৌদিভিত্তিক গণমাধ্যমটি বলছে, কীটনাশকের মাধ্যমে এসব পঙ্গপাল নিধনের চেষ্টা করা হলে পরিবেশের ওপর মারাত্মক প্রভাব পড়বে। সে কারণে পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে একটি বিপল্প উপায় খোঁজা হচ্ছে, যাতে পরিবেশের কোনো ক্ষতি না হয়, আবার পঙ্গপালও নিধন হয়।

এ বিষয়ে পাকিস্তানের বায়োটেকনোলজিস্ট জোহার আলী বলেন, পঙ্গপাল ঠেকানোর একটি পরিবেশবান্ধব উপায়ের অনুসন্ধান করছি আমরা। যা দীর্ঘমেয়াদী ফলাফল দেবে আমাদের।

জানা যায়, আলী ও তার সহকর্মী মোহাম্মদ খুরশিদ ফেব্রুয়ারি মাস থেকে পঙ্গপাল নিধনের একটি প্রকল্পে কাজ করে যাচ্ছেন। পাকিস্তানি কৃষি গবেষণা অধিদপ্তরের (পিএআরসি) আওতায় তারা এই প্রকল্পে কাজ করে যাচ্ছেন। তাদের প্রাথমিক লক্ষ্য ছিলো এসব পতঙ্গকে মুরগির খাদ্যে পরিণত করা।

সে লক্ষ্যে তারা ৩ দিনের একটি পরীক্ষামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করেন পাঞ্জাবে। রাতের আঁধারে খুরশিদ ও তার দল ২০ টন পঙ্গপাল সংগ্রহ করতে সক্ষন হন।

আলী বলেন, আমরা সংগ্রহকৃত এসব পঙ্গপাল মুরগির খাবার প্রস্তুত করে একটি স্থানীয় কারখানায় পাঠাই। তারা প্রথমে পতঙ্গগুলোকে শুকিয়ে মুরগির খাবারের সঙ্গে মিশিয়ে দেয়। আমাদের লক্ষ্য ছিলো জনবহুল এলাকাগুলোয় এ পদ্ধতি কার্যকর করা। কারণ সেখানে বৃহৎ আকারে কীটনাশক ছিটানো সম্ভব হতো না। তাছাড়া স্থানীয়রাও পঙ্গপাল সংগ্রহ করে বাড়তি আয় করার সুযোগ পেত।

তবে জুন মাসে এই পরিকল্পনার সঙ্গে আরো একটি পরিকল্পনা হাতে নেয় পিএআরসি। তারা সিদ্ধান্ত নেয়, পঙ্গপালকে সার হিসেবে ব্যবহার করলে আরো সাশ্রয়ী ও স্থায়ী সমাধান অর্জন করা সম্ভব। আর ফসলি জমিও জৈবিক উপাদান পেয়ে আরো উর্বর হবে। সেই প্রকল্পের দিকেই এখন তারা অগ্রসর হচ্ছে।

এ বিষয়ে পিএআরসি চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আজিম খান বলেন, আমাদের পরবর্তী পদক্ষেপ হচ্ছে এই পঙ্গপালকে কীভাবে অর্গানিক সারে পরিণত করা যায় তা খতিয়ে দেখা। কৃষি জমিতে ধীরে ধীরে এই সার ব্যবহার করলে উৎপাদন ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ার সম্ভাবনা আছে। সেইসঙ্গে রাসয়নিক সারের ব্যবহারও অর্ধেকে নেমে আসবে।

sheikh mujib 2020