advertisement
আপনি দেখছেন

নভেল করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) সংক্রমণে দিশাহারা গোটা বিশ্ব। এখন পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন ১ কোটি ৯৫ লাখেরও বেশি মানুষ। প্রাণ হারিয়েছেন ৭ লাখ ২৪ হাজারেরও বেশি। তবে প্রাণঘাতী এ ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পর সুস্থ হয়ে ওঠা মানুষের সংখ্যাও নেহাত কম নয়। এখন পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে কোভিড-১৯ সংক্রমিত হয়ে সুস্থ হয়ে উঠেছেন ১ কোটি ২৫ লাখেরও বেশি রোগী।

coronaকরোনাভাইরাস- প্রতীকী ছবি

তবে সুস্থ হয়ে ওঠা মানেই এই ভাইরাসের ভয়াবহতা থেকে বেঁচে যাওয়া, এমনটা ভাবলে ভুল হবে। এমনটাই জানিয়েছেন জার্মানির চিকিৎসকরা। তারা বলছেন, করোনাভাইরাস থেকে সেরে উঠলেও এর ভয়াবহতা থেকে সহজে নিস্তার নেই। এক গবেষণায় তারা দেখেছেন, কোভিড-১৯ ভাইরাস মানবদেহে ফুসফুসের পাশাপাশি হৃৎপিণ্ডেরও ব্যাপক ক্ষতি করে। ফলে সুস্থ হয়ে উঠার পরও রোগীরা হৃদরোগে ভোগেন।

সম্প্রতি তাদের এই গবেষণা একটি জার্নালে প্রকাশিত হয়। সেখানে ফ্রাংকফুর্ট ইউনিভার্সিটি হসপিটালের চিকিৎসক ভ্যালেন্তিনা জানান, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে সুস্থ হয়ে উঠেছেন এমন বেশ কিছু মানুষের ওপর তারা গবেষণা চালিয়েছেন। গবেষণায় রোগীদের এমআরআই করে দেখা যায়, তিন-চতুর্থাংশের বেশি রোগীর হৃদযন্ত্রের পেশির সমস্যা দেখা দিয়েছে।

corona china prisonকরোনার সংক্রমণে বিপর্যস্ত গোটা বিশ্ব- প্রতীকী ছবি

তিনি আরো বলেন, মহামারি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পর সুস্থ হয়ে ওঠা ১০০ জন রোগীর মধ্যে ৭৮ জনেরই হৃদযন্ত্রের পেশির আবরণ ফুলে গেছে। এমন সমস্যায় ভোগা রোগীদের বয়স ৪৫ থেকে ৫৩ বছর। এছাড়া প্রতি ১০০ জন রোগীর ৩৬ জনের শ্বাসকষ্ট ও ক্লান্তির সমস্যা দেখা দিয়েছে। শতকরা ৭১ জনের হৃদযন্ত্রের পেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ে গবেষকরা আগেই জানিয়েছিলেন, এই ভাইরাসটি মানবদেহে প্রবেশের পর রেসপিরেটরি ইনফেকশন হিসেবে আক্রমণ শুরু করে। তারপর এটি নার্ভ সিস্টেম, পাচনতন্ত্র ও মস্তিষ্কেও আক্রামণ করে। ফলে যারা আগে থেকেই জটিল রোগে ভুগছেন, তারা কোভিড-১৯ আক্রান্ত হওয়ার পর বেশি ঝুঁকিতে পড়েন।

জার্মানির চিকিৎসকদের ওই গবেষণা ছাড়াও সম্প্রতি আরেকটি গবেষণায় দাবি করা হয়, করোনা আক্রান্ত হওয়ার পর এর প্রভাব দীর্ঘমেয়াদি ও বিপজ্জনক হতে পারে। প্রাণঘাতী এ ভাইরাস থেকে সুস্থ হয়ে উঠার পরও অনেকের ক্ষেত্রে জটিল হৃদরোগ দেখা দিতে পারে। ৮০ শতাংশ ক্ষেত্রে হৃদযন্ত্র বিকলও হতে পারে।

sheikh mujib 2020