advertisement
আপনি দেখছেন

‘জর্জ খুব স্পেশাল, সে আঁধারের মাঝে আলো, ধ্বংসস্তূপে জন্ম নিয়েছে সে।’ নিজের ছেলেকে নিয়ে ইনস্টাগ্রামে খোলা ‘মিরাক্যাল বেবি জর্জ’ নামক পেজ থেকে ছবি শেয়ার করে এই কথাগুলো বলেছেন বৈরুত বিস্ফোরণের সময় জন্ম নেওয়া জর্জের বাবা এডমন্ড খনাসির।

baby george in beirutবৈরুত বিস্ফোরণের মাঝেই জন্ম নেয়া জর্জ

গত মঙ্গলবার লেবাননের রাজধানী বৈরুতে ভয়াবহ সেই বিস্ফোরণের সময় জন্ম নেয় জর্জ। তারা বাবা সেদিনকার ঘটনার বর্ণনায় বলেন, আমি হাসপাতালের ডেলিভারি রুমে প্রবেশ করলাম। আমার স্ত্রী ইমানুয়েল প্রসব যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে। সন্তানের পৃথিবীতে আসার মুহূর্তটি ক্যামেরায় ধারণ করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। কিন্তু তা আর হলো না। এর পরিবর্তে আমি ধারণ করলাম লেবাননের ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর ঘটনাটি।

সেই মুহূর্তের বর্ণনায় ইমানুয়েল বলেন, আমি নিজ চোখে যেন মৃত্যু দেখলাম। আমার মনে হতে লাগলো এই বুঝি সব শেষ। বার বার ডেলিভারি রুমের ছাদের দিকে তাকাচ্ছিলাম। মনে হচ্ছিল, এখনই সেটি ভেঙে পড়বে।

আরব নিউজ বলছে, বিস্ফোরণের পরপরই ইমানুয়েলকে চিকিৎসকরা হাসপাতালের করিডোরে নিয়ে যান। কারণ তাদের মনে হচ্ছিল আরো বেশ কয়েকটি বিস্ফোরণ ঘটতে পারে।

baby george in beirut01এভাবেই অন্ধকারে ডেলিভারি হয় জর্জের

বিস্ফোরণের পর হাসপাতালের অবস্থা কী রকম হয়েছিল তার বর্ণনায় হাসপাতালের প্রধান গাইনেকোলজিস্ট স্টিফেন ইয়াকুব বলেন, ‘আমি দৌড়ে এক আহত নার্সকে উদ্ধারের চেষ্টা করলাম। গিয়ে দেখলাম সে মৃত। এরপর আমি ওই গর্ভবতী নারীর (ইমানুয়েল) দিকে ছুটে যাই।

হাসপাতালের আরেক গাইনেকোলজিস্ট এলি আনাসতাসিয়াদেস বলেন, বিকট শব্দের পর বিদ্যুৎ চলে যায়। অন্ধকারে কাঁচ ভেঙ্গে পড়ার শব্দ ও আর্তনাদ ছাড়া কিছুই শুনতে পাইনি। সে অবস্থাতেই আমরা মোবাইলে আলো জ্বালিয়ে ইমানুয়েলের সন্তান প্রসব করার সিদ্ধান্ত নিই। কারণ দেরি করলে মা এবং সন্তান দুজনকেই হারাতে হতো।

আরব নিউজ বলছে, হাসপাতালের নার্স ও রোগীসহ সেদিন ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে বিস্ফোরণটির কারণে। আহত হয়েছেন অনেকে। হাসপাতালে ওইদিন এডমন্ডের মাও এসেছিলেন। বিস্ফোরণে তার পাঁজরের ৬টি হাড় ভেঙেছে। ফুটো হয়েছে ফুসফুস।

এডমন্ড বলেন, হাসপাতালের চারদিকে সব কিছু ভেঙে পড়ে আছে। মা গুরুতর আহত। সবকিছুর মধ্যেও আমার স্ত্রী ও জন্ম নিতে যাওয়া সন্তানের বিষয়টি মাথায় ছিল। জর্জ জন্ম নেওয়ার পরপরই একটি গাড়িতে করে ধ্বংসস্তূপের মধ্য দিয়ে তাদের আরেকটি হাসপাতালে নিয়ে যাই। গাড়িটি কার ছিলো জানি না। তবে সেটি আমাদের হাসপাতালে পৌঁছাতে সাহায্য করেছে। সেখানে পৌঁছে জর্জকে গোসল করানো হয় এবং পরিষ্কার করা হয়।

তিনি বলেন, জর্জ খুব স্পেশাল, সে আঁধারের মাঝে আলো, ধ্বংসস্তূপে জন্ম নিয়েছে সে। সে মিরাক্যাল।

sheikh mujib 2020