advertisement
আপনি দেখছেন

ভয়ংকর করোনাভাইরাসের তাণ্ডবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে বিশ্ব। মানব সভ্যতাকে রক্ষায় দুনিয়ার বিভিন্ন প্রান্তের গবেষকরা চেষ্টা করছেন একটি কার্যকর ভ্যাকসিন আবিষ্কারের। বিশ্ববাসীও তাকিয়ে আছে সম্ভাব্য সেই ভ্যাকসিনের দিকে। সবারই একটাই ভাবনা, একটি ভ্যাকসিন পেলেই এই মহামারি থেকে মুক্তি মিলবে।

hanse kluge who europeহান্স ক্লুগে

কিন্তু বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) বলছে ভিন্ন কথা। জাতিসংঘের এ অঙ্গ সংগঠনটির এক আঞ্চলিক প্রধান বলছেন, ভ্যাকসিন এলেই করোনা মহামারি সমাপ্তি ঘটবে বিষয়টি এমন নয়। কারণ ভ্যাকসিন উদ্ভাবন সম্ভব হলেও তা সবার ক্ষেত্রে একই আচরণ নাও করতে পারে।

ডয়চে ভেলে বলছে, গতকাল সোমবার সংস্থাটির ইউরোপ অঞ্চলের ৫৩টি সদস্য রাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের মধ্যে কোভিড-১৯ পরিস্থিতি মোকাবেলায় সম্ভাব্য করণীয় নিয়ে আলোচনা হয়। অনলাইন বৈঠকে তারা করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় পাঁচ বছরের কৌশল নির্ধারণের ব্যাপারে একমত হন।

patient treated in hospitalইউরোপের হাসপাতালে করোনা রোগীর চিকিৎসা

ওই বৈঠকে ডব্লিউএইচওর ইউরোপীয় প্রধান হান্স ক্লুগে উল্লেখিত শঙ্কার কথা শোনান।

করোনার ভ্যাকসিন সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আমি সব সময়ই শুনে আসছি যে, ভ্যাকসিন এলেই কোভিড-১৯ এর মহামারির সমাপ্তি ঘটবে, কিন্তু সেটা একেবারেই সঠিক নয়।’

হান্স ক্লুগে আরো বলেন, এটা এখনো স্পষ্ট নয় যে, করোনার ভ্যাকসিন সবার ক্ষেত্রে একই রকম কাজ করবে কি না? কারণ এমনও দেখা গেছে যে, কারো ক্ষেত্রে এটি (ভ্যাকসিন) ভালো কাজ করেছে, আবার অন্যদের ক্ষেত্রে সেটা কোনো কাজে আসেনি৷

এ সময় ইউরোপের ক্ষেত্রে শঙ্কা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ইউরোপে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ আবার বাড়বে, আর তার অর্থ হলো দুঃখজনকভাবে মৃত্যুর হারও বেড়ে যাবে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ইউরোপীয় প্রধান আরো বলেন, এমন একটা সময় আমরা অতিক্রম করছি, যখন এমন খারাপ খবর আর কোনো দেশই শুনতে চায় না। কিন্তু দুঃখজনক হলো যে, আসছে অক্টোবর ও নভেম্বর মাসে ইউরোপে প্রতিদিন করোনায় মৃত্যুর হার বাড়বে বলে আশঙ্কা করছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা৷

ইউরোপে নতুন সংক্রমণের সংখ্যা প্রতিদিন বাড়ছে বলেও এ সময় জানান জাতিসংঘের অঙ্গ সংস্থার এ আঞ্চলিক প্রধান।

প্রসঙ্গত, মার্কিন জরিপ সংস্থা ওয়ার্ল্ডোমিটারের তথ্যমতে, এ পর্যন্ত বিশ্বে মরণঘাতী এ ভাইরাসটির সংক্রমণের শিকার হয়েছে ২ কোটি ৯৪ লাখ ৮৭ হাজারের বেশি মানুষ। এর মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ৯ লাখ ৩৩ হাজার ৭ শতাধিক। এ ছাড়া সংক্রমণ থেকে সুস্থ হয়েছেন ২ কোটি ১৩ লাখ ১৩ হাজারের বেশি।

sheikh mujib 2020