advertisement
আপনি দেখছেন

প্রাণঘাতী করোনায় আক্রান্ত ব্যক্তিরা এ ভাইরাস থেকে মুক্তি পেলেও মানসিক ‘ট্রমা’য় ভুগছেন তাদের অনেকে। নানা ধরনের অজানা ভয়ে তারা প্রতিনিয়ত আতকে উঠছেন। এই ভয়ের বিষয়টি অভিন্ন হলেও এর বহিঃপ্রকাশ এক এক ব্যক্তির ক্ষেত্রে এক রকমের হচ্ছে।

bangladeshi death qatar coronaকরোনা রোগীর চিকিৎসা

প্রতিবেশী দেশ ভারতের করোনা আক্রান্তের পর সেরে উঠা ব্যক্তিদের মানসিক ট্রমা নিয়ে একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে বিবিসি। তাতে যে চিত্র ফুটে উঠেছে, তা রীতিমতো আতকে উঠারই মতো।

রাজেশ তিওয়ারি নামে ৪২ বছর বয়সী এক ব্যক্তি বলছেন, নিজের হাতে থাকা মোবাইল সেটের চেয়ে বড় কোনো স্ক্রিন অর্থাৎ টেলিভিশন বা কম্পিউটারের মনিটরের দিকে চোখ পড়লেই এক ধরনের আতঙ্ক অনুভব করেন তিনি।

তার মনে হয়, এটি দৈত্যাকার কোনো জন্তু, যা এখনই তার ওপর হামলে পড়বে! বড় কোনো মনিটর দেখলেই চিৎকার করছেন এবং তা ভেঙে ফেলার চেষ্টা করছেন রাজেশ।

এমন উপসর্গ দেখে চিকিৎসকরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালের আইসিইউতে থেকে চিকিৎসা নিতে থাকায় রাজেশ এখন হেলুসিনেশনে ভুগছেন। আইসিইউর ‘বিপ’ ‘বিপ’ শব্দ এবং তাতে সংখ্যার উঠানামার সেই দৃশ্য ভুলতে যথারীতি লড়াই করতে হচ্ছে রাজেশকে।

করোনা আক্রান্ত হয়ে আইসিইউতে ১৮ দিন কাটানো ৪৯ বছর বয়সী অমিত শর্মাও তার চারপাশে প্রতিদিন একের পর এক মানুষের মৃত্যু দেখার পর ট্রমায় ভুগছেন। এখনো তার ভয় হয়, কোভিড-১৯ আমাকে মেরে ফেলবে।

corona in india 2ভারতে করোনার চিকিৎসা পরিস্থিতি

কেবল রাজেশ বা অমিতই নয়, করোনা থেকে মুক্তি পাওয়া অনেকেই এভাবে বিভিন্ন ধরনের ট্রমায় ভোগার কথা জানিয়েছেন। বিষয়টা স্বীকার করে মুম্বাইয়ের পিডি হিন্দুজা হাসপাতালের মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. বসন্ত মুন্ড্রা বলছেন, করোনা আক্রান্ত অনেকে সেরে উঠলেও তারা এখন বিভিন্ন ধরনের মানসিক চাপের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। বিশেষ করে, অনেক দিন আইসিইউতে বা ভেন্টিলেশনে থাকা ব্যক্তিদের বেলায় এমনটি বেশি দেখা যাচ্ছে।

করোনা ও হাসপাতালের ভয়াবহতা পরিস্থিতির কারণে মনোজগতে ভীষণ রকমের প্রভাব পড়ছে জানিয়ে তিনি বলেন, এই ভয়াবহতা চেতনাকে গ্রাস করে ফেলে। এ থেকে সেরে উঠতে সময় লাগবে।

এ নিয়ে দক্ষিণ ভারতের এরনাকুলাম মেডিকেল কলেজের গুরুতর সেবা বিভাগের প্রধান ডা. এ ফাথাহুদিন বলছেন, এমন ট্রমা চিকিৎসকের ওপর রোগীর আস্থা তৈরিতে সমস্যা তৈরি করছে, যা তার দ্রুত সেরে উঠার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

sheikh mujib 2020