advertisement
আপনি দেখছেন

বিগত দশকগুলোতে বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে অস্থিতিশীল অঞ্চল হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্য এবং উত্তর আফ্রিকা। এই অঞ্চলের দেশগুলোতে সারা বছরই কোথাও না কোথাও সংঘর্ষ লেগে থাকে। এক্ষেত্রে তাদের অস্ত্রের চার ভাগের তিন ভাগই সরবরাহ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের ইউরোপীয় মিত্র দেশগুলো। এক্ষেত্রে বিবেচনা করা হয় না সহিংসতা বা মানবাধিকারের মতো বিষয়গুলো।

soudi prince salman with trumpসৌদি যুবরাজ সালমান ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

ওয়াশিংটনভিত্তিক প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল পলিসি সিআইপির সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, গত পাঁচ বছরে মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র বিক্রি ও সরবরাহ করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, চীনসহ বিভিন্ন দেশ।

এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বিক্রি করা হয় যুক্তরাষ্ট্র থেকে। মোট অস্ত্রের ৪৮ শতাংশই দেশটি থেকে সরবরাহ করা হয়ে থাকে। এরপরই রয়েছে রাশিয়া। তারা মধ্যপ্রাচ্যে বিক্রি হওয়া মোট অস্ত্রের ১৭ শতাংশ সরবরাহ করে। তালিকায় পরের অবস্থানগুলো যথাক্রমে ফ্রান্স ১১ শতাংশ, জার্মানি ৫ শতাংশ, যুক্তরাজ্য ৫ শতাংশ, ইতালি ৩ শতাংশ এবং চীন ২ শতাংশ।

অন্যদিকে, অস্ত্র ক্রয়ের দিক দিয়ে শীর্ষে রয়েছে ক্ষমতাধর রাষ্ট্র সৌদি আরব। তারা মধ্যপ্রাচ্যের মোট অস্ত্রের ৪৮ শতাংশ কিনে থাকে। এ ছাড়া মিশর ১৪ শতাংশ, আলজেরিয়া ১০ শতাংশ, সংযুক্ত আরব আমিরাত ৯ শতাংশ, ইরাক ৮ শতাংশ, কাতার ৮ শতাংশ, ইসরায়েল ৫ শতাংশ এবং তুরস্ক ৪ শতাংশ অস্ত্র ক্রয় করে থাকে।

middile east armed usপশ্চিমা অস্ত্রে সহিংস মধ্যপ্রাচ্য, উত্তর আফ্রিকা

ডয়চে ভেলের খবরে বলা হয়, অঞ্চলটিতে ছোট-বড় থেকে শুরু করে সব ধরনের বিধ্বংসী অস্ত্রও বিক্রি করে যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা মিত্রগুলো। এতে করে ব্যাপকভাবে সহিংসতা ছড়াচ্ছে। ইয়েমেনে হামলার নেপথ্যে সৌদি আরবকে অস্ত্র সরবরাহ করছে তারা। তথাকথিত জঙ্গিবিরোধী অভিযানের নামে ব্যবহার করা হচ্ছে যুদ্ধবিমান, বোমা, মিসাইল, সাঁজোয়া যান ও ট্যাংক।

মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে দীর্ঘদিন ধরে চলমান গৃহযুদ্ধে দুই পক্ষেই দেখা যায় মার্কিন ও ইউরোপিয়ান অস্ত্র। এর মধ্যে ইরাক, ইয়েমেন, সিরিয়া ও লিবিয়ায় মার্কিন অস্ত্র এবং সিরিয়া ও লিবিয়ায় রুশ অস্ত্র ব্যবহার করা হচ্ছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, সহিংসতা বা যুদ্ধে মানুষের প্রাণহানি ঘটলেও এতে লাভবান হচ্ছে অস্ত্র উৎপাদনকারী দেশগুলো। তারা বিভিন্ন দেশে অস্ত্র বিক্রির পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও বেশ ক্ষমতাধর। এ ছাড়া অস্ত্র সরবরাহের মাধ্যমে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে কথিত বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কও ধরে রাখা হয়।

sheikh mujib 2020