advertisement
আপনি দেখছেন

করোনাভাইরাস রুখে দিতে গিয়ে নতুন সমস্যায় পড়ছে ইউরোপ। সেখানে বহু লোক এখন ভুগছে মানসিক অবসাদে। একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে, ইউরোপের কোনো কোনো অঞ্চলে ৬০ শতাংশের বেশি মানুষ স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি মানসিক চাপে ভুগছে।

europe experiencing extreme fatigue due to covid

সমীক্ষাটিতে বলা হচ্ছে, কয়েক মাস ধরে আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তার মধ্যে বাস করতে করতে বহু মানুষ স্বাস্থ্যবিধি মানার প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন এবং কাজে-কর্মে উৎসাহ বোধ করছেন না।

এতে লোকজনকে ক্লান্ত হয়ে পড়লেও করোনাভাইরাস থেকে নিরাপদে থাকার জন্য যতোটা সম্ভব স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বিষয়ে সতর্কতার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

ভ্যাকসিন অথবা কার্যকর ওষুধ বাজারে আসা পর্যন্ত লোকজনকে পারস্পরিক সমর্থন, প্রতিরক্ষামূলক অভ্যাস— যেমন, হাত ধোয়া, মুখ ঢেকে রাখা এবং শারীরিক দূরত্ববিধি মেনে চলতে বলা হয়েছে, কারণ করোনাভাইরাসে আক্রান্তের হার কমিয়ে রাখতে এখনো এর বিকল্প আসেনি।

বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাসের বিস্তার দিনে দিনে বেড়েই চলছে। এখন পর্যন্ত ১৮৮টি দেশে ৩৫ মিলিয়নেরও বেশি লোক করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন এবং মারা গেছেন এক মিলিয়নেরও বেশি লোক।

ইউরোপে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার আঞ্চলিক পরিচালক ডক্টর হ্যানস হেনরি ক্লুগ বলেছেন মহামারির এই পর্যায়ে লোকজনের মানসিক অবসাদে পড়ে যাওয়ার বিষয়টি প্রত্যাশিত ছিলো।

তিনি বলেন, “আট মাস আগে যখন করোনাভাইরাস ইউরোপে এসেছে, তখন থেকে এই অঞ্চলের লোকেরা নানা রকম ত্যাগ স্বীকার করেছেন। অনেক কিছুর বিনিময়ে লোকজন করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে চেষ্টা করে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ও নিরুৎসাহিত হয়ে পড়াটা স্বাভাবিক।”

তিনি আরো বলেন, “আমি বিশ্বাস করি এখনো করোনাভাইরাসের পুনরুত্থান ঠেকানো সম্ভব এবং এটি মোকাবেলায় প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে।”

তিনি আরো বলেন, স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে ফিরে যাওয়ার জন্য লোকজনকে চেষ্টা করতে হবে এবং তাদেরকে কেন্দ্রে রেখে কিছু পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়েছে।

করোনাভাইরাসের মধ্যেও কিভাবে মানসিক উৎফুল্লতা বজায় রাখা যায়, সে বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি রমজান মাসে ইলেক্ট্রিক মাধ্যমে আনন্দ উদযাপনের কথা বলেছেন এবং ভাসমান সিনেমা হলের কথা বলেছেন। এ দুটি বিষয় মানুষকে দারুণভাবে উজ্জীবিত করেছিলো।

ইউরোপে সাধারণ মানুষের অভ্যাসগত বিষয় লক্ষ্য রাখা একটি প্রতিষ্ঠান বলেছে যে, এখনো বেশির ভাগ মানুষ করোনাভাইরাস ঠেকানোর জন্য বিদ্যমান কড়াকড়ি ব্যবস্থা মেনে নিয়েছেন। এমন বক্তব্য দেওয়ার আগে ১৬০০ প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষের মতামত নিয়েছে তারা।

অবশ্য অনেকে মনে করছেন, মার্চ মাসের দিকে করোনাভাইরাস ঠেকানোর জন্য ইউরোপে যে সব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিলো, তা ঠিকই ছিলো। কিন্তু অক্টোবর মাসে এসে ইউরোপের যে মহামারি পরিস্থিতি, তাতে অনেক মানুষ এটাও বলছেন যে, সরকার যথাযথ পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে।

sheikh mujib 2020