advertisement
আপনি দেখছেন

পারস্য উপসাগরীয় ছোট্ট প্রতিবেশী কাতারের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক অবরোধ চাপিয়ে দিয়েছিল সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন চার দেশ। কিন্তু তিন বছর আগের ওই পদক্ষেপ ব্যর্থ হওয়ায় তা অবসানের পথ খুঁজছে রিয়াদ।এ কথা স্বীকার করে গতকাল শনিবার দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহান বলেছেন, কাতারের সঙ্গে চলমান বিরোধের অবসান ঘটাতে সমাধানের উপযুক্ত উপায় খোঁজা হচ্ছে।

saudi qatarসৌদি বাদশাহ সালমান ও কাতারের আমির শেখ তামিম (ডানে)

তবে দেশ চারটির নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগেরও সমাধান হওয়া দরকার উল্লেখ করে তিনি বলেন, আইনসঙ্গত উদ্বেগের বিষয়টি শর্তাধীন রয়েছে, তারও একটা সমাধান হওয়া জরুরি। আমরা মনে করি, অদূর ভবিষ্যতে এসব সমাধানের পথ খোলা রয়েছে, সেটি হলে তা হবে গোটা অঞ্চলের জন্য সুসংবাদ।

আলজাজিরার খবরে বলা হয়, কাতারের সঙ্গে আলোচনায় বসতে আগ্রহের কথা জানিয়ে সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা সমাধানের বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তারাও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে আমরা আশা করি।

এর আগে গত সপ্তাহে কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুল রাহমান বলেছিলেন, উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে কেউ জিততে পারবে না। আমরা আশা করি, যেকোনো সময় বিদ্যমান অবস্থার অবসান ঘটবে।

কাতারের এ অবস্থান জানানোর আগে গত মাসে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেওর সঙ্গে এক ভার্চুয়াল বৈঠকে মিলিত হন সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল। তখন তিনি জানান, কাতার অবরোধ অবসানের বিষয়ে অগ্রগতি হয়েছে, খুব দ্রুত সমাধানের মাধ্যমে সামনে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ আছে।

erdogan sheikh tamimতুর্কি প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান ও কাতারের আমির শেখ তামিম

সাম্প্রতিক এক রিপোর্টে জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞ অ্যালেনা ডুহান বলেন, কাতারের সঙ্গে সৌদি জোটের অবরোধের মূলে সন্ত্রাসবাদ নয়, আঞ্চলিক ঝামেলা। এভাবে একটি দেশের সাধারণ মানুষের মানবাধিকার হরণ করে সরকারকে শিক্ষা দেয়ার নীতি কোনো অবস্থায়ই গ্রহণযোগ্য নয়। অবিলম্বে এটি প্রত্যাহার করা জরুরি।

এদিকে, খুব শিগগিরই কাতার অবরোধের সমাধান আসবে না বলে মন্তব্য করেন যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রদূত ইউসেফ আল ওতাইবা। তিনি ইসরায়েলি গণমাধ্যমকে আরো বলেন, এটি সমাধান খুব সহজ নয়, রাতারাতি কিছু হবেও না।

২০১৭ সালের জুনে সন্ত্রাসবাদে মদদ দেয়ার অভিযোগ তুলে কাতারের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে সর্বাত্মক অবরোধ আরোপ করে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মিশর ও বাহরাইন। এরপর ইরান ও তুরস্কের সঙ্গে সম্পর্ক কমানো, মুসলিম ব্রাদারহুডকে সমর্থন না দেয়া ও আলজাজিরা বন্ধসহ বেশ কিছু শর্ত জুড়ে দেয় চার দেশ।

অবরোধের শুরু থেকেই সৌদি জোটের সব অভিযোগ অস্বীকার করে তা অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করার অভিযোগ আনে কাতার। দেশটির আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি জানান, চলমান সংকট নিরসনে আলোচনায় বসতে তার দেশ প্রস্তুত রয়েছে। তবে চাপিয়ে দেয়া শর্তে নয়, তা হতে হবে কাতারের সার্বভৌমত্বকে সম্মান জানিয়ে।

সম্ভাব্য সব কিছু দিয়ে কাতারের পাশে দাঁড়িয়ে সৌদি অবরোধ ব্যর্থ করে দেয় তুরস্ক ও ইরান। এরপর দেশ দুটিসহ মুসলিম ব্রাদারহুডের সঙ্গে সম্পর্ক আরো জোরদার করে দোহা।

sheikh mujib 2020