advertisement
আপনি দেখছেন

শব্দের হিসাবে ছোট্ট একটি খবর, কিন্তু বিষয়ের গুরুত্ব বিবেচনায় সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং কাতারের মধ্যেকার বৈঠকের খবরটি বেশ বড়।

uae and qatar emir 2021

কাতারের ওপর প্রায় সাড়ে তিন বছর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে রেখেছিল সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন চার দেশ। গত জানুয়ারিতে যখন এ নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়, তখন বেঁকে বসেছিল আরব আমিরাত। খবরে বলা হয়, সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের ‘চাপের কারণে’ কাতারের সঙ্গে সম্পর্ক পুনরুদ্ধারে বাধ্য হয় আমিরাত।

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সমর্থন না পাওয়ার আশঙ্কা ছাড়াও আরও দুটি কারণে সৌদি আরব কাতারের কাছে ‘মাথানত’ করতে বাধ্য হয়েছিল বলে সে সময় বিশ্লেষকরা বলেছিলেন। কারণ দুটি হলো: ইস্তাম্বুলে সৌদি কনস্যুলেটে সাংবাদিক জামাল খাসোগিকে হত্যা করে তুর্কি গোয়েন্দাদের কাছে ধরা পড়া এবং করোনার কারণে সৌদির অর্থ উপার্জনের বড় দুই খাত তেল ও হজ্জ-ওমরায় ধস নামা।

২০১৭ সালের মাঝামাঝি সময়ে কাতারের ওপর জল, স্থল ও আকাশপথে অবরোধ আরোপ করে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব অমিরাত, বাহরাইন ও মিসর।

এতে তেমন লাভ হয়নি ওই চার দেশের। এ অবরোধের পর তারা সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ করে তুরস্ক ও ইরানের সঙ্গে। অবরোধ তুলে নেওয়ার জন্য যে ১৩টি শর্ত দেওয়া হয়েছিল চার দেশের পক্ষ থেকে, তার মধ্যে ছিল, ইরান ও তুরস্কের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করতে হবে, আলজাজিরা টেলিভিশন নেটওয়ার্ক বন্ধ করতে হবে এবং মিসরের ইসলামি ব্রাদারহুডকে অর্থায়ন বন্ধ করতে হবে। দৃশ্যত, এর কোনোটিই মানেনি কাতার।

গত জানুয়ারিতে যখন সৌদি আরবের ঐতিহাসিক শহর আল-উলার মারায়া কনসার্ট হলে আয়োজিত শীর্ষ সম্মেলনে কাতারের সঙ্গে সমঝোতায় আসার চুক্তি হয়, কাতার এর আগেই জানিয়ে দেয়, কোনো শর্ত তারা মানবে না এবং এসব শর্ত নিয়ে আলোচনাও তারা যাবে না। এরপর অনেকটা কাতারের কাছে ‘পরাজিত’ হয়ে চুক্তিতে আবদ্ধ হয় চার দেশ।

এ চুক্তির শর্তানুসারে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতারের সরকারি প্রতিনিধিদল সোমবার কুয়েতে বৈঠক করে। আল-উলা ঘোষণার পর এই প্রথম বৈঠকে বসল দুই দেশ। এ ঘোষণায় এ ধরনের বৈঠক চালিয়ে নেওয়ার কথা উল্লেখ ছিল।

‘আরব নিউজ’-এর খবরে বলা হয়, দুই পক্ষ আল-উলা ঘোষণা বাস্তবায়নের যৌথ প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা করে এবং উপসাগরীয় ঐক্য রক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করে। বৈঠকে দুই দেশের প্রতিনিধিরা গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিলভুক্ত দেশ এবং দেশগুলোর জনগণের স্বার্থে যৌথ পদক্ষেপ নিয়ে কথা বলেন। এ অঞ্চলের স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধি নিয়ে আলোচনা হয়। দুই পক্ষই গত জিসিসি শীর্ষ সম্মেলন আয়োজন এবং আল-উলাদ ঘোষণায় উপনীত হওয়ার পেছনে সৌদি প্রচেষ্টার প্রশংসা করে।

ঘোষণায় বলা হয়, উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা, জনগণের সেবায় অভিন্ন স্বার্থ অর্জনের লক্ষ্যে জিসিসি নেতারা ঐক্য ও পারস্পরিক সহযোগিতার পদক্ষেপ অব্যাহত রাখবেন।

বিশ্লেষকদের ধারণা, কিছুদিন আগেও যে দুটি দেশ পরস্পর বিপরীত মেরুতে অবস্থান করত, সেই দুটি দেশের সরকারি প্রতিনিধিদের এ সম্মেলন মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে নতুন বার্তা দিতে পারে। এ বৈঠক ‘লোকদেখানো’ হয়ে থাকলেও এ অঞ্চলে এর প্রভাব সামান্য হলেও পড়বে।

sheikh mujib 2020