advertisement
আপনি দেখছেন

আবার শুরু হলো বিশ্বের দুই ক্ষমতাধর দেশ যুক্তরাষ্ট্র এবং রাশিয়ার মধ্যে স্নায়ুযুদ্ধ। যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত রাশিয়ার ১০ কূটনীতিককে বৃহস্পতিবার বহিষ্কার করেছিল মার্কিন সরকার। জবাব দিতে দেরি করেনি মস্কো; যুক্তরাষ্ট্রের ১০ কূটনীতিককে শুক্রবার রাশিয়া ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মার্কিন রাষ্ট্রদূতকেও দেশে ফিরে যেতে হবে বলে জানিয়েছে রাশিয়া।

putin biden 1রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন

রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে ১০ মার্কিন কূটনীতিককে বহিষ্কারের কথা জানায়। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক এবং বর্তমান আটজন কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। এসব কর্মকর্তা রুশ-বিরোধী নীতি প্রণয়ন এবং বাস্তবায়নের সঙ্গে জড়িত।

রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে জানানো হয়, মস্কোয় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত জন সুলিভানকে ওয়াশিংটনের সঙ্গে পরামর্শ করার জন্য রাশিয়া ত্যাগ করতে বলা হয়েছে।

রুশ পাল্টা পদক্ষেপের আওতায় এফবিআই পরিচালক ক্রিস্টোফার রে, ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্সের পরিচালক আরভিল হেইনেস, মার্কিন অ্যাটর্নি জেনারেল মেরিক গারল্যান্ড এবং হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিষয়ক মন্ত্রী আলেজান্দ্রো মায়োরকাসকে রাশিয়ায় প্রবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যুরো অব প্রিজন্সের পরিচালক মাইকেল কারভাজাল, ডমিস্টিক পলিসি কাউন্সিলের পরিচালক সুসান রাইস, সাবেক জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টন এবং সিআইএ’র সাবেক প্রধান রবার্ট জেমস উলসির ওপরও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে রাশিয়ায় মার্কিন ফান্ড এবং এনজিও কার্যক্রমের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

putin biden 2রাশিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের শত্রুতার শিল্পীত রূপ

বাইডেন প্রশাসনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলেও আলোচনার ব্যাপারে এখনও ইতিবাচক মনোভাব রয়েছে মস্কোর। মার্কিন প্রেসিডেন্টের প্রস্তাবিত বাইডেন-পুতিন সম্মেলনে কোনো আপত্তি নেই বলে জানিয়েছেন তারা।

এক বিবৃতিতে রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, এখন যুক্তরাষ্ট্রের সুবুদ্ধি প্রদর্শন এবং সম্মুখযুদ্ধ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়ার সময় এসেছে। অন্যথায় মার্কিনিদের জন্য একঝাঁক বেদনাদায়ক সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে।

পুতিন প্রশাসন কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রকে অর্থনৈতিকভাবে আঘাত করতে এবং রাশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক বহর মাত্র ৩০০ জনে নামিয়ে আনতে পারে। কিন্তু এসব ব্যবস্থাগ্রহণ থেকে এখনও কোনোরকমে বিরত রয়েছে মস্কো।

অবশ্য রাশিয়ার এ ধরনের হুমকিতে খুব একটা বিচলিত নয় যুক্তরাষ্ট্র। মস্কোর শুক্রবারের ঘোষণাকে ‘উস্কানিমূলক এবং অনুশোচনীয়’ মন্তব্য করে এর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর।