advertisement
আপনি দেখছেন

চলতি বছরের গত ১ ফেব্রুয়ারি অভ্যুত্থানের মাধ্যমে মিয়ানমারের ক্ষমতা দখল করেন দেশটির সেনাবাহিনী প্রধান মিন অং হ্লাইং। এ নিয়ে দেশটিতে গৃহযুদ্ধের মতো অবস্থা। বিশ্বের অনেক নিন্দাও জানিয়েছে মিয়ানমার আর্মির। তার পরও এবার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর আসিয়ানের শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে যাচ্ছেন হ্লাইং।

general min aung hlaing 1সেনাপ্রধান মিন অং হ্লাইং, ফাইল ছবি

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, মিয়ানমারের জান্তা সরকারের প্রধান প্রথম বিদেশ সফরে যাচ্ছেন আগামী ২৪ এপ্রিল। আসিয়ান সম্মেলনে তার অংশ নেয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে থাইল্যান্ড।

আজ শনিবার এ তথ্য জানান দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র। তবে সফরের বিষয়ে মিয়ানমারের সামরিক কর্তৃপক্ষ এখনো কিছু জানায়নি।

অং সান সু চির রাজনৈতিক সরকারকে উৎখাতের পর থেকে দেশটিতে দানাবাঁধা বিক্ষোভ এখনো চলছে। এতে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে ৭২৮ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। আহতের সংখ্যা অগণিত।

মিয়ানমার পরিস্থিতির উত্তরণে উভয় পক্ষের সঙ্গে একাধিকবার শান্তি আলোচনার উদ্যোগ নিয়েছে প্রতিবেশী থাইল্যান্ড। জান্তা সরকারের তাতে সাড়া না দেয়ায় ভেস্তে যায় সব চেষ্টা।

general min aung hlaing1মিন অং হ্লাইং ও সু চি, ফাইল ছবি

আসিয়ান জোটের সদস্য দেশের সংখ্যা ১০টি। মিয়ানমারসহ অন্য দেশগুলোর প্রতিনিধিরা এবারের সম্মেলনে উপস্থিত থাকবেন বলে জানিয়েছে থাইল্যান্ড।

এদিকে, মিয়ানমারের ক্ষমতাচ্যুত সরকারের আইনপ্রণেতারা আত্মগোপনে থেকে ‘জাতীয় ঐক্যের সরকার’ গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন গতকাল শুক্রবার। দ্য কমিটি রিপ্রেজেন্টিং পিড্যাংসু লুটাও (সিআরপিএইচ) পরিচালিত এই সরকার ‘ছায়া সরকার’ হিসেবে কাজ করবে।

দেশটির আটক হওয়া নেত্রী অং সান সু চিকে এই ‘সংসদের’ স্টেট কাউন্সিলর এবং আটক প্রেসিডেন্ট উইন মিন্ট একই পদে বহাল রাখা হয়েছে। ছায়া সরকার পরিচালনায় থাকা আইনপ্রণেতাদের বেশিরভাগই সু চির দলের নেতা।

protests in myanmar 5মিয়ানমারে বিক্ষোভ, ফাইল ছবি

সিআরপিএইচের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে বলা হয়, ছায়া সরকারের ভাইস প্রেসিডেন্ট হয়েছেন সংখ্যালঘু একজন কোচিন নেতা। প্রধানমন্ত্রী পদেও সংখ্যালঘু এক কারেন নেতা রয়েছেন।

এ ছাড়া মন্ত্রিপরিষদে স্থান পেয়েছেন চিন, শানি, মন, কারেন্নি ও তাং গোষ্ঠীর নেতারাও। অভ্যুত্থান বিরোধী আন্দোলনে এসব গোষ্ঠী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

জানা গেছে, জাতীয় সরকার বলছে, তারাই দেশটির বৈধ রাজনৈতিক কর্তৃপক্ষ। জান্তা প্রধানকে বয়কটের জন্য আসিয়ানের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে তারা।