advertisement
আপনি দেখছেন

করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ধাক্কায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে ভারত। দেশটির বড় বড় শহর— দিল্লি, মুম্বাই, লাখনৌ এবং করোনাভাইরাসের ধাক্কা সামলাতে পারছে না। এই শহরগুলোর শশ্মানে দিনরাত মৃতদেহ দাহ করা হচ্ছে। এই পরিস্থিতি এখন চলে যাচ্ছে ছোট শহর ও গ্রামের দিকেও।

india covid 19 situation may get worsen in coming days

বেশি আক্রান্তের শহরগুলোতে হাসপাতালে রোগিদের জায়গা দেওয়া যাচ্ছে না। গাড়ি পার্কিংয়ে অস্থায়ী শশ্মান বানিয়ে মৃতেদহের শেষকৃত্য করা হচ্ছে। পরিস্থিতি দিনে দিনে আরো ভয়াবহতার দিকে যাচ্ছে।

রাজশ সোনি নামে এক ব্যক্তি আট ঘণ্টা সময় লাগিয়ে তার বাবাকে এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতালে নেন। কোটায় বাস করা এই ব্যক্তি তার বাবাকে হাসপাতালে নেওয়ার জন্য কোনো অ্যাম্বুলেন্স পাননি। তাকে ভরসা করতে হয় হাতে চালানো রিকশায়।

হাসপাতালে পৌঁছার পর তিনি সিট খালি পাননি। শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে তাকে বাড়িতে ফিরে আসতে হয়, এবং “সব কিছু ভাগ্যের উপর ছেড়ে” তিনি বাসায় মাথায় হাত দিয়ে বসে থাকেন।

সংবাদ মাধ্যমকে তিনি বলেন, “আমি বাবাকে বাড়িতেই ওষুধ দিচ্ছি। কিন্তু আমি নিশ্চিত না তিনি সুস্থ হতে পারবেন কি না। পরিস্থিতি এমন যে, আমরা হয়তো রাস্তায় মরে পড়ে থাকবো।”

তিনি আরো বলেন, বেশ কয়েকটি বেসরকারি হাসপাতালে টেস্টের কথা বলে তার কাছ থেকে টাকা নিয়েছে। পরে বলে দিয়েছে যে, হাসপাতালে সিট খালি নেই এবং তাকে চলে যেতে বলেছে।

তিনি বলেন, “আমার খুব বেশি টাকা-পয়সা নেই। আমার যা ছিলো হাতে চালানো গাড়ি ও হাসপাতালের ফি দিয়েই শেষ। এখন বাড়িতে একটা অক্সিজেন সিলিন্ডার আনার জন্য আমি টাকা ঋণ করবো।”

এই ধরনের ঘটনা দিল্লিতে স্বাভাবিক হয়ে উঠেছে। দিল্লিই ভারতের সবচেয়ে বেশি সংক্রমিত শহর। কিন্তু একই ধরনের ঘটনার বর্ণনা এখন ভারতের ছোট শহর ও গ্রাম থেকেও শোনা যাচ্ছে।

গতকাল একদিনে ভারতে প্রায় চার লাখ লোক নতুন সংক্রমিত বলে চিহ্নিত হয়েছেন। এ দিন সাড়ে তিন হাজারের বেশি লোক মারা গেছেন। সব মিলিয়ে সারা বিশ্বে ভারতের অবস্থাই এখন সবচেয়ে খারাপ পর্যায়ে আছে।