advertisement
আপনি দেখছেন

প্রায় অর্ধেকের মতো ভোট গণনা হয়েছে। বাকি পড়ে আছে আরো বহু ভোট। এর মধ্যেই পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনে স্পষ্ট ব্যবধানে এগিয়ে গেছে মমতা ব্যানার্জির নেতৃত্বাধীন ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেস। অথচ এতোদিন পর্যন্ত এই অঞ্চলে জেতার জন্য সব রকম চেষ্টাই করেছে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের দল বিজেপি।

narendra modi amit shah bjp in trouble in west bengal

পশ্চিমবঙ্গে জেতার জন্য স্থানীয় নেতাদের উপর ভরসা করতে পারেনি নরেন্দ্র মোদি ও অমিত শাহরা। ফলে নির্বাচনের আগে তারা কেন্দ্রীয় নেতাদের এনে পশ্চিমবঙ্গের আসনে আসনে ঘুরিয়েছেন। এই উদ্যোগের বিপরীতে অবস্থান নিয়েছিলেন স্থানীয় বিজেপি নেতারা। তারা বলেছিলেন, উত্তর প্রদেশের নির্বাচনের অভিজ্ঞতা দিয়ে পশ্চিমবঙ্গে কাজ হবে না। কিন্তু মোদি-শাহ তাদের কথা কানে তোলেননি।

পশ্চিমবঙ্গের স্থানীয় বিজেপি নেতারা মনে করেন, এ কারণেই পশ্চিমবঙ্গের জনগণ স্থানীয় বিজেপি নেতাদের এক পয়সার মূল্যও দিচ্ছে না। বিজেপি দাবি করেছিলো, পশ্চিমবঙ্গে তারা ২০০-এর বেশি আসন নিয়ে জিতবে। কিন্তু এখন তাদের লড়াই করতে হচ্ছে অন্তত একশ আসন পাওয়া নিয়ে।

বাংলাদেশ সময় রোববার দুপুর দেড়টা পর্যন্ত দেখা গেছে ২৮৮ আসনের মধ্যে ২০৮তে এগিয়ে আছে তৃণমূল। পক্ষান্তরে অন্য ৮০টিতে এগিয়ে বিজেপি। কিন্তু সে সব আসনেও তৃণমূলের প্রার্থীদের সাথে তাদরে ব্যবধান খুব বেশি নয়।

বিজেপি পশ্চিমবঙ্গে জেলায় জেলায় অন্য অঞ্চল এতে এনে পর্যবেক্ষক বসিয়েছে। তারা স্থানীয় নেতাদের যথেষ্ট সম্মান দিয়ে কথাবার্তা বলেনি বা আচরণ করেনি, এমন অভিযোগ করেছেন স্থানীয় নেতারা। তাদের দাবি, এ সব কারণে স্থানীয় নেতারা বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের উপর চটে গেছেন।

তারা বলছেন, এই নির্বাচনে জিততে পারলে বিজেপির শীর্ষ নেতারা সব কৃতিত্ব নিয়ে নিতো। এখন যেহেতু দল বেসামাল অবস্থায় আছে এবং একটি প্রায় নিশ্চিত হারের দিকে এগোচ্ছে, এই পরিস্থিতিতে হারের দায়ও তাদের ঘাড়েই পড়বে।

কেন্দ্রীয় বিজেপিতে পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন নিয়ে কী ভাবনা, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে পশ্চিমঙ্গের বিজেপির মধ্যে এরই মাঝে নানা রকম কোন্দোলের খবর পাওয়া যাচ্ছে। স্থানীয় নেতারা সম্ভাব্য হারের জন্য পরস্পরকে দোষারোপ করা শুরু করেছেন। কেউ কেউ বলছেন, অভিজ্ঞ ও পরীক্ষিত নেতাদের গুরুত্ব না দিয়ে নতুনদের উপর বেশি ভরসা করার মাশুল দিচ্ছে বিজেপি।

বিজেপি হিন্দুত্ববাদি রাজনীতিকে পুজি করে নির্বাচন করে। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে সাধারণত সেক্যুলার বা ধর্মনিরপেক্ষ রাজনীতির জয়জয়কার থাকে। মোদি সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে ভারতে সংখ্যালঘু মুসলিমদের উপর নানা সময়ে অত্যাচার করা হয়েছ। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে ধর্ম বা জাতকে গুরুত্ব দেওয়া হয় না। সেখানে বরং মানবাধিকারের ভিত্তিতে সরকার পরিচালিত হয়। তাদের এই রাজনৈতিক দর্শনকেই সম্ভবত বিজয়ী করতে যাচ্ছেন পশ্চিমঙ্গের জনগণ।