advertisement
আপনি দেখছেন

করোনা মহামারির পর থেকেই টিকা তৈরিতে মোড়ল রাষ্ট্রগুলো প্রতিযোগিতা করে আসছে। এ প্রক্রিয়ায় যুক্ত হয় ভারতও। কিন্তু টিকা উৎপাদনে যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের ব্যর্থতা বিশ্বকে আরও বেশি চীনের টিকার প্রতি আগ্রহী করে তুলেছে। অথচ শুরু থেকেই চীনের টিকার কার্যকারিতা নিয়ে পশ্চিমারা বিতর্কের জন্ম দেয়।

china vaccine h

গত কয়েক সপ্তাহে অনেক উন্নত দেশও চীনের টিকা নিতে চুক্তি করে। যদিও তখন পর্যন্ত বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) বেইজিং উদ্ভাবিত টিকার জরুরি ব্যবহারে অনুমতি দেয়নি। কিন্তু বিশ্বের বিভিন্ন দেশ টিকা সংকটে দ্বিপক্ষীয়ভাবে চীনের সাথে চুক্তি করেই চলেছে। বাংলাদেশও ইতোমধ্যে চীনের সিনোফার্মার টিকা পেতে চুক্তি করেছে এবং চীন সরকারের উপহারের ৫ লাখ ডোজ শিগগরিই ঢাকা পৌঁছবে।

এশিয়া, আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকার দেশগুলো আগেই তাদের দেশে চীনের টিকার জরুরি ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে। এমন প্রেক্ষপটে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা গতকাল শুক্রবার চীনের সিনোফার্মের উদ্ভাবিত করোনাভাইরাসের টিকার জরুরি ব্যবহারের অনুমোদন দিয়েছে। ফলে এটি এখন সংস্থাটির কোভ্যাক্স উদ্যোগে যুক্ত হবে।

এর আগ পর্যন্ত অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকা, ফাইজার, মডার্না এবং জনসন অ্যান্ড জনসনের করোনার টিকার জরুরি ব্যবহারের অনুমোদন দিয়েছিল ডব্লিউএইচও। পশ্চিমা দেশগুলোর বাইরে উদ্ভাবিত করোনার টিকাগুলোর মধ্যে এটাই প্রথম বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অনুমোদন পেল। ইতোমধ্যে চীনসহ আরও ৪৫টি দেশের লাখ লাখ মানুষকে চীনের টিকা দেওয়া হয়েছে বলে খবর দিয়েছে বিবিসি।

চীনের বিশেষজ্ঞ এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বৈশ্বিক স্বাস্থ্য কাউন্সিলের জ্যেষ্ঠ গবেষক ইয়ানজং হুয়াং বলেন, ‘চীন শুধু বিশ্বের বৃহৎ রপ্তানিকারক দেশে পরিণত হয়নি। বাস্তবতা হলো, অনেক দেশের একমাত্র বিকল্প এ টিকা। কারণ, তারা অর্থ ঢেলেও অন্য দেশের টিকা পায়নি।’

china vaccine

বিশ্লেষকরা বলছেন, করোনা মহামারি চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছলেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন ধীরে পদক্ষেপ নিয়েছে। টিকা উৎপাদনে তাদের ধীরগতি নিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও একাধিকবার উষ্মা প্রকাশ করেছে। বিশ্বের সর্ববৃহৎ টিকা উৎপাদন ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউটে হওয়ার কথা থাকলেও তা হয়নি। অগ্রিম অর্থ নিয়েও তারা বিভিন্ন দেশে টিকা রপ্তানি বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছে। ভারতে করোনা এখন নিয়ন্ত্রণের বাইরে। আর এসব বিষয় চীনের টিকার গ্রহণযোগ্যতা বাড়িয়ে তুলেছে। বেইজিংও এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে টিকা দিয়ে তার ভূরাজনৈতিক ভিত শক্ত করছে।

হংকংয়ের দি সিটি ইউনিভার্সিটির সহযোগী অধ্যাপক নিকোলাস থমাস বলেন, ‘বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা চীনের টিকার জরুরি ব্যবহারের অনুমতি দিয়ে মূলত বেইজিংয়ের ক্ষমতার হাতকে বিভিন্ন অঞ্চলে শক্ত করল। চীনের টিকার কার্যকারিতা কম। ফলে পশ্চিমারা টিকার উৎপাদন বৃদ্ধি ও সবার জন্য সহজলভ্য করতে পারলে হয়তো চীনের এ দাপট কমবে। নতুবা চীনা টিকার জাতীয়তাবাদ বেড়ে ভয়াবহ হবে।’