advertisement
আপনি দেখছেন

ইসরায়েলে বসবাসরত ফিলিস্তিনি ও আরবদের সঙ্গে ব্যাপক সংঘর্ষ চলছে জাতীয়বাদী ইসরায়েলিদের। দেশটির বিভিন্ন শহরে এ সংঘাত ছড়িয়ে পড়েছে, আগুন জ্বলছে স্থানে স্থানে। এ ঘটনায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন ইসরায়েলি নেতারা।

emergency in lod 2

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গত মঙ্গলবার রাতে রাজধানী তেল আবিবের পার্শ্ববর্তী লড শহরে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। শহরটির অবস্থা এতটাই নাজক হয়ে পড়ে যে, তাকে গৃহযুদ্ধের সঙ্গে তুলনা করেছেন সেখানকার মেয়র ইয়ার রেভিভো।

দেশের এমন অবস্থায় প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, অশান্তি বন্ধ করতে বিভিন্ন শহরে সেনা নামানো হবে। এটিকে কারফিউ জারির হুমকি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বিবিসি জানায়, ইসরায়েলি এক ফিলিস্তিনি নিহতের প্রতিবাদে ব্যাপকভাবে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়লে তা সহিংসতায় রূপ নেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সবচেয়ে কঠোর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হচ্ছে তেল আবিব।

খবরে বলা হয়, বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে ‘স্টান গ্রেনেড’ ব্যবহার করেছে ইসরায়েলি পুলিশ। এর জবাবে ইট-পাটকেল ছুড়েছে প্রতিবাদকারীরা। এতে অন্তত ১২ জন আহত হন।

emergency in lod 3

পার্সটুড বলছে, অভ্যন্তরে সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত বেশ কয়েক জন হতাহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তবে সেই সংখ্যা প্রকাশ করেনি দেশটির গণমাধ্যমগুলো।

প্রসঙ্গত, ইসরায়েলে বিপুল সংখ্যক আরব নাগরিক বসবাস করছেন, যারা নিজেদের ইসরায়েলে বাস করা ফিলিস্তিনি পরিচয় দেন। এমন এক নাগরিক সম্প্রতি ইসরায়েলি এক ব্যক্তির গুলিতে নিহত হলে বিক্ষোভ শুরু হয়।

এদিকে, ফিলিস্তিনের গাজা থেকে প্রায় দুই হাজারের মতো রকেট ছোড়া হয়েছে ইসরায়েলের রাজধানীসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শহরে। এসব হামলায় ৬ জন নিহতের তথ্য নিশ্চিত করেছে দেশটি, আহত হয়েছেন বেশ কয়েক ডজন মানুষ।

ইসরায়েলি গণমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওগুলোতে দেখা যাচ্ছে, তেল আবিবসহ বিভিন্ন শহরে ফিলিস্তিনি রকেট আছড়ে পড়েছে। আশকেলনের পাইপলাইনের জ্বালানি ট্যাংকারসহ অনেক স্থানে আগুন জ্বলছে। বহু ঘরবাড়ী, স্থাপনা ও গাড়ি ধ্বংস হয়ে গেছে।

palestinian rocket rain 4

মুহুর্মুহু এসব হামলা ঠেকাতে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ​আয়রন ডোম ব্যর্থ হওয়ায় পুরো ইসরায়েলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। লোকজন ঝুঁকি এড়াতে ভূগর্ভস্থ আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন।

দেশটির দৈনিক হারেৎজ জানিয়েছে, ফিলিস্তিনিদের রকেট-ক্ষেপণাস্ত্র একের পর এক রকেট আসড়ে পড়ছে লক্ষবস্তুতে। এতে হতভম্ব হয়ে পড়েছেন ইসরায়েলি নেতারা।

মারগু আরোনোভিক (২৬) নামে তেল আবিবের এক শিক্ষার্থী রয়টার্সকে বলছেন, পুরো ইসরায়েল এখন ফিলিস্তিনি হামলার মুখোমুখি। এবারের হামলাটা খুবই ভয়ানক, খুবই খারাপ পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

অন্যদিকে, আজ বৃহস্পতিবার পবিত্র ঈদ-উল ফিতরের দিনও গাজায় বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। এতে এখন পর্যন্ত ১৭ শিশুসহ ৮৩ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং আরো ৪৮০ জন আহত হয়েছেন।