advertisement
আপনি দেখছেন

বিশ্বের অনেক দেশের কাছে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়িপ এরদোগান একজন কড়া শাসক। কিন্তু মুসলিম বিশ্বের কাছে তিনি হয়ে উঠছেন অঘোষিত নেতা, অভিভাবক। ৬৭ বছর বয়সী এরদোগানের নানা উদ্যোগে ফিলিস্তিনের পক্ষে জোরালো জনমত গড়ে উঠছে। ধারণা করা হচ্ছে, এর মাধ্যমে প্রবল চাপে পড়ে গেছে ইসরায়েল ও তাদের সমর্থক পশ্চিমা বিশ্ব।

erdogan becoming the leader of muslim world

ফিলিস্তিনের নিজস্ব আবাস থেকে মুসলিমদের বিতাড়িত করছে ইসরায়েল। ইহুদিদের এই হিংসামূলক পদক্ষেপে চুপ থাকেনি ফিলিস্তিন। হামাস একের পর এক রকেট হামলায় বিপর্যস্ত করে ছেড়েছে ইসরায়েলকে। হামাসের প্রতিরোধের মুখে বাধ্য হয়ে একটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বন্ধ করে রেখেছে ইসরায়েল। তাদের ধারণা, যে কোনো সময় বিমানবন্দরটি উড়িয়ে দিতে পারে হামাস। এর মধ্যেই হামাস এমন একটি ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে যা ২০০ কিলোমিটারেরও বেশি দূরের লক্ষ্যবস্তুতে নির্ভুল আঘাত হানতে সক্ষম।

এর মধ্যে এরদোগান বলেছেন, ইসরায়েল যদি গাজায় তাদের চলমান বেআইনি ও আগ্রাসনমূলক পক্ষেপ বন্ধ না করে, তাহলে তুরস্ক বসে থাকবে না। নিজেদের এই ইসরায়েলবিরোধী নীতি অন্য মুসলিম দেশেও ছড়িয়ে দিচ্ছেন এরদোগান। তার সাথে একই রকম তৎপরতা দেখাচ্ছেন উপমহাদেশীয় মুসলিম দেশ পাকিস্তান।

একদিন আগে প্রথম তৃতীয়পক্ষীয় শক্তি হিসেবে ইসরায়েলে আক্রমণ করেছে লেবানন। এতে ইসরায়েলকে খুব বেশি ক্ষয়ক্ষতি অবশ্য সহ্য করতে হয়নি। কিন্তু এমন একটি বার্তা দেওয়া সম্ভব হয়েছে যে, ইসরায়েল যদি তাদের আক্রমণাত্মক নীতি বজায় রাখে, তাহলে মুসলিম বিশ্ব থেকে কঠোর প্রতিরোধের মুখেই তাদের পড়তে হবে। ধারণা করা হয়, লেবাননকে এই পদক্ষেপ গ্রহণে অনুপ্রাণিত করেছেন এরদোগান।

একই রকম পদক্ষেপ নিয়েছে সিরিয়া। এপিনিউজ জানিয়েছে, সিরিয়ার দিক থেকে অন্তত তিনটি রকেট ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে ছোড়া হয়েছে। যা ইসরায়েলকে বহুমুখী আক্রমণের আতঙ্কের মুখে ফেলেছে।

erdogan becoming the leader of muslim world 1

সম্প্রতি আফগানিস্তান ও কিরগিস্তানের প্রেসিডেন্টের সাথেও ফিলিস্তিন বিষয়ে আলোচনা করেছেন তুর্কি প্রেসিডেন্ট এবং তাদেরকে ইসরায়েলবিরোধী জনমতে অংশগ্রহণ করার তাগিদ দিয়েছেন। এটি অনেকটাই নিশ্চিত যে, তুর্কি প্রেসিডেন্টের সাথে এ দুটি দেশ একমত পোষণ করেছে।

এর পাশাপাশি মালয়েশিয়ার প্রভাবশালী রাজনৈতিক ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদের সাথেও এ বিষয়ে আলোচনা করেছেন এরদোগান। অভিজ্ঞ মাহাথিরের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ গ্রহণ করেছেন তিনি। আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমের খবর মতে, আলজেরিয়ার সাথেও ফিলিস্তিনের বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন এরদোগান।

তার সাম্প্রতিক নানা পদক্ষেপে এটি স্পষ্ট যে, এরদোগান মুসলিম বিশ্বকে ফিলিস্তিন বিষয়ে একটি অভিন্ন মতামতে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন, এবং বেশির ভাগ দেশই তার পদক্ষেপকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করছে বা গ্রহণ করার মনোভাব দেখিয়েছে।

শুধু মুসলিম বিশ্বকেই নয়, বরং ফিলিস্তিনে চলমান চরম নিপীড়নের বিরুদ্ধে রাশিয়ার মতো দেশকেও সম্পৃক্ত করার চেষ্টা করছেন এরদোগান। সম্প্রতি জানা যায়, রাশিয়ান প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সাথে এক দীর্ঘ টেলিফোন আলাপে এরদোগান একটি বহুজাতিক আন্তর্জাতিক বাহিনী গড়ার বিষয় তুলে ধরেন। এই বাহিনীর মূল কাজ হবে ফিলিস্তিনে একটি সুরক্ষা বলয় তৈরি করা, যাতে ইসরায়েলের আগ্রাসী নীতির বিপক্ষে ফিলিস্তিন দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ গড়ে তুলতে পারে।
কাতারভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম আল জাজিরা বলছে, পুতিনের সাথে কথা বলার সময় এরদোগান বলেছেন, জাতিসংঘকে অতিদ্রুত ফিলিস্তিনকে সুরক্ষা দেওয়ার পদক্ষেপ নিতে হবে। এ জন্য জাতিসংঘের উপর চাপ আরোপ করার জন্য পুতিনকে তাগিদ দেন তিনি।

চলমান সংঘাতমূলক পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে মূলত ইসরায়েলের বেআইনি পদক্ষেপে। গাজায় অব্যাহত বোমা হামলার পর হামাস তাদেরকে পাল্টা জবাব দেওয়া শুরু করে। ইসরায়েল এ রকম জবাবের জন্য মোটেই প্রস্তুত ছিলো না। হামাসের হামলায় সেনাসহ ইসরায়েলের কয়েকজন বেসামরিক লোকের মৃত্যু হয়। এরপরই মূলত টনক নড়ে ইসরায়েলের। তাদের রকেট প্রতিরোধী ব্যবস্থা হামাসের সব রকেটকে প্রতিহত করতে পারেনি।

এক দিকে হামাসের এ রকম সাহসী প্রতিরোধ, অন্য দিকে মুসলিম বিশ্বকে ও রাশিয়াকে নিয়ে এরদোগানের শক্তিশালী জনমত গড়ার চেষ্টা; সব মিলিয়ে ইসরায়েল পড়তে যাচ্ছে কঠিন বিপদে। অন্য দিকে এরদোগান হয়ে উঠছেন মুসলিম বিশ্বের অঘোষিত কিন্তু প্রভাবশালী নেতা ও অভিভাবক। যা একটু হলেও স্বস্তি দিচ্ছে ফিলিস্তিনের নির্যাতিত মুসলিমদের। এবার তারা দীর্ঘদিনের ইসরায়েলি আগ্রাসন থেকে দীর্ঘমেয়াদির স্বপ্ন কিছুটা হলেও দেখতে পারে।