advertisement
আপনি দেখছেন

চীনের শিনজিয়াং প্রদেশে সংখ্যালঘু মুসলিম সম্প্রদায়ের ওপর নানা ধরনের নির্যাতন চালাচ্ছে দেশটির কমিউনিস্ট সরকার। এ সংক্রান্ত বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ ক্রমেই পুঞ্জিভূত হচ্ছে বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে। এরমধ্যেই নতুন এক গবেষণা প্রতিবেদনে স্থানীয় ইমাম ও মুসলিম নেতাদের আটকের ভয়ঙ্কর তথ্য উঠে এসেছে।

uyghur imams targeted in china

মানবাধিকার সংস্থা উইঘুর হিউম্যান রাইটস প্রজেক্টসের (ইউএইচআরপি) গবেষণা বলছে, শিনজিয়াংয়ে ২০১৪ সাল থেকে এখন পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে কমপক্ষে ৬৩০ জন ইমাম এবং মুসলিম নেতাকে আটক করেছে চীন।

এ সংক্রান্ত বিভিন্ন ধরনের তথ্য-প্রমাণসহ বিস্তারিত প্রতিবেদন বিবিসির কাছে পাঠিয়েছে ইউএইচআরপি। তার বরাত দিয়ে খবরে বলা হয়, আটকের পরপরই অথবা আটকাবস্থায় মৃত্যুবরন করেছেন ১৮ জন ইমাম। বাকিদের মধ্যে কমপক্ষে ৩০৪ জনকে পাঠানো হয়েছে কারাগারে

আটক ইমামদের অধিকাংশের বিরুদ্ধে ‘চরমপন্থার প্রচারণা’, ‘সামাজিক আদেশ বিনষ্ট করতে জনসমাবেশ তৈরি’ এবং ‘বিচ্ছিন্নতাবাদ উস্কে দেয়া’র মতো অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে আটককৃত ইমামদের স্বজনরা জানান, এসব অভিযোগের মূলে রয়েছে ইসলাম প্রচার, নামাজের জন্য আহ্বান এবং ইমামের দায়িত্ব পালন করা।

uyghur imams targeted in china 1

খবরে বলা হয়, উইঘুরদের নিয়ে চীনা গণআটক কেন্দ্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সংশ্লিষ্ট রয়েছে ‘পুনঃশিক্ষা’ ক্যাম্পগুলোর নেটওয়ার্ক। মূলত এর বিরুদ্ধ মতামত প্রকাশ করায় ইমাম ও মুসলিম নেতাদের আটক করা হয়েছে। ২০১৭ সালের পর থেকে এ ধরনের আটকাভিযান আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে।

আদালতের নথিপত্র ও স্বাক্ষ্যের তথ্য বলছে, আটককৃতদের মধ্যে কমপক্ষে ৯৬ শতাংশ পাঁচ বছর ধরে কারা ভোগ করছেন। এ ছাড়া ২৬ শতাংশ ২০ বছর অথবা তার চেয়েও বেশি সময় ধরে কারাগারে রয়েছে। তাদের মধ্যে ১৪ বছরের যাবজ্জীবনের দণ্ডপ্রাপ্তরাও রয়েছে।

এই ভয়াবহ চিত্র থেকে বোঝা যাচ্ছে, শিনজিয়াংয়ের মুসলিম ধর্মীয় ব্যক্তিদের নিশানা করছে চীনা কর্তৃপক্ষ। সেখানকার উইঘুরদের ধর্মীয় ঐতিহ্য ভেঙ্গে ‘হ্যান চায়নিজ সংস্কৃতিতে’ অঙ্গীভূত করার চেষ্টা করার পুরনো অভিযোগ রয়েছে।

uyghur imams targeted in china 2

১ হাজার ৪৬ জন মুসলিম ইমামের ওপর গবেষণাটি পরিচালনা করে ইউএইচআরপি, যাদের বেশিরভাগই উইঘুর মুসলিম। প্রতিবেদন তৈরিতে ব্যবহৃত হয়েছে আদালতের নথিপত্র, আটককৃতদের পরিবারের সদস্যদের স্বাক্ষ্য এবং গণমাধ্যমের খবর।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, জিনজিয়াংয়ে তথ্য সংগ্রহ ও প্রচারের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে চীন। এর ফলে অনেক ক্ষেত্রেই অভিযোগ সংক্রান্ত তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যায় না। এরমধ্যেও আটক ইমামদের বিষয়ে কিছু তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে।

ধারণা করা হয়, শিনজিয়াংয়ে উইঘুরসহ অন্যান্য নৃগোষ্ঠীর অন্তত ১০ লাখ মুসলিমকে অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য আটক করে রাখা হয়েছে। তাদের বেশিরভাগকে আবার রাখা হয়েছে ‘পুনঃশিক্ষা’ কেন্দ্রে। এসব আটকদের দ্বারা জোরপূর্বক কাজ করানো, বন্ধ্যাত্বকরণ ও ধর্ষণসহ নানা ধরনের মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ রয়েছে।

uyghur imams targeted in china 3

তবে এসব অভিযোগের প্রমাণ থাকলেও তা সব সময়ই জোরালোভাবে অস্বীকার করে আসছে চীন সরকার ও প্রাদেশিক কর্তৃপক্ষ। তারা বলছে, উইঘুর ও মুসলিমদের মধ্য থেকে ‘উগ্রবাদ’ সমূলে উৎপাটন করতে ‘পুনঃশিক্ষা’ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।

কী আছে সরকারি নথিতে?

৫১ বছর বয়সী কাজাখ ইমাম ওকেন মাহমেতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানায় তার বিরুদ্ধে ‘চরমপন্থা প্রচারের’ অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রাথমিক গ্রেপ্তারি নোটিশে বিয়ের আয়োজন, শিক্ষা এবং জনপ্রশাসন সম্পর্কিত জাতীয় আইন লঙ্ঘনে জনসাধারণকে উদ্বুদ্ধ করার অভিযোগ আনা হয়। এ ছাড়া উগ্রবাদ সম্পর্কিত বিষয় প্রচারণায় অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

uyghur imams targeted in china 4

এসব অভিযোগে আটকের পর মাহমেতকে ৮-১০ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হলেও তার পরিবারের সদস্যদের স্বাক্ষ্য বলছে ভিন্ন কথা। শিনজিয়াং ভিকটিমস ডাটাবেসে সংরক্ষিত নথিতে তারা বলেন, শুক্রবারের নামাজের ইমামতি করা এবং মসজিদে বিয়ের আয়োজন করায় আটক করা হয় তাকে।

ঘামি প্রিফেকচারের সরকার অনুমোদিত ৫৮ বছর বয়সী ইমাম বাকিথান মিরজানকেও ‘উগ্রবাদ ছড়ানো’র অভিযোগে আটক করা হয় ২০১৮ সালে। পরের বছরের মে পর্যন্ত তাকে বন্দি রাখা হয় আটককেন্দ্রে।

এসব অভিযোগের বিষয়ে চীনা আইন বিষয়ক বিশেষজ্ঞ ও জর্জ ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ডোনাল্ড ক্লার্ক বলেন, শিনজিয়াংয়ে মুসলিমদের চরমপন্থায় সংশ্লিষ্টার যেসব অভিযোগে আটক করা হচ্ছে, আইনের চোখে সেগুলো খুবই দুর্বল। সেখানে যেসব অপরাধের করা বলা হচ্ছে, তা কোনোভাবেই অপরাধ হওয়ার যোগ্য নয়।