advertisement
আপনি দেখছেন

জেনেভায় অবস্থিত পাকিস্তানের কূটনৈতিক মিশন টানা ২০ বছরের বেশি সময় ধরে ফিলিপাইনের শ্রমিকদের বেতন পরিশোধ করেনি। সম্প্রতি ফিলিপাইনের ছয় প্রবাসী শ্রমিক এ ব্যাপারে অভিযোগ দায়ের করেছেন। তবে পাকিস্তান এ অভিযোগকে বিদ্বেষপূর্ণ ও প্রমাণহীন বলে দাবি করেছে।

pakistan flag 2

গত বৃহস্পতিবার এসআইটি শ্রমিক ইউনিয়নের প্রধান মিরেলা ফ্যালকো বলেন, ‘জেনেভায় অবস্থিত জাতিসংঘের পাকিস্তানি মিশন ফিলিপাইনের শ্রমিকদের বেতন, থাকার জায়গা, বীমা ও একটি সুন্দর জীবনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। ফলে শ্রমিকরা ফিলিপাইন ত্যাগ করে পাকিস্তান মিশনে কাজ নেয়।’

তিনি বলেন, ‘এসব শ্রমিকরা যখন দেশ ত্যাগ করে জেনেভায় আসেন তখন বাস্তবতা ছিল পুরোটাই ভিন্ন। এসব প্রবাসীদের বৈধতা কার্ডের বিনিময়ে সপ্তাহে ১০ ঘণ্টারও বেশি সময় বেতন ছাড়াই কাজ করতে হয়। এ ছাড়া তাদের বেঁচে থাকার তাগিদে অন্যদের সঙ্গে কাজ খুঁজে নিতে হয়েছিল।

মিরেলা ফ্যালকো ব্যাখ্যা করেন, ‘এসব গৃহকর্মীদের তাদের কর্মস্থল ছেড়ে শূন্য হাতে ফিরে যেতে হবে- এই ভয়েই তারা চুপ রয়েছে। তারা যদি এখানে কাজ ছেড়ে দেয় তাহলে তাদের দুই মাস লেগে যাবে অন্য কূটনৈতিক মিশনে কাজ পেতে। যদি কাজ না পায় তবে সর্বস্ব হারানো ছাড়া তাদের আর কোনো উপায় নেই।’

এদিকে এসব শ্রমিকদের অনেকে করোনায় আক্রান্ত হয়ে অসুস্থ হয়েছেন। কূটনৈতিক মিশনে চাকরি, সুযোগ-সুবিধা ও কাজ পাওয়ার ঝুঁকি সত্ত্বেও তারা এই মিশনের বিরুদ্ধে তাদের বক্তব্য ও অভিযোগ তুলে ধরার কথা জানিয়েছেন।

ভুক্তভোগীদের একজন বলেন, ‘চাকরি হারানো আমার জন্য সত্যি খুব কঠিন। আমি আমার জীবনের অর্ধেক সময় পাকিস্তানি মিশনের জন্য কঠোর পরিশ্রম করেছি।’

সুইসইনফো.সিএইচ অনুসারে, এসআইটির মাধ্যমে শ্রমিকরা দেশটির বিচারবিভাগীয় মন্ত্রী করিন কেলার-সুটার এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইগনাজিও ক্যাসিসের কাছে আবেদন করেছেন। চিঠিতে শ্রমিকরা তাদের বিরুদ্ধে নিপীড়নের সমালোচনা করেছেন। তাদেরকে রক্ষা করতে সুইজারল্যান্ড কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন। এসআইটি শ্রমিক ইউনিয়ন এ ব্যাপারে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে কর্তৃপক্ষকে এবং শ্রমিকদের ওপর চালানো জুলুম বন্ধের দাবি জানিয়েছে।

ভুক্তভোগী দুজন নারীর আইনজীবী কেলিন ম্যুরো বলেন, ‘পাকিস্তানি কূটনৈতিক মিশনের এই অপরাধ অত্যন্ত মারাত্মক। আশা করি অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তা তদন্ত করা হবে। তাদের অভিযোগগুলো অবমূল্যায়ন করা উচিত নয়। এই কুটনৈতিক মিশনের বিরুদ্ধে শ্রমিকদেরকে জবরদস্তি ও মানব পাচারের সন্দেহ রয়েছে।'

তবে এই অভিযোগগুলো সরসারি নাকচ করে দিয়েছে জেনেভায় অবিস্থত জাতিসংঘের পাকিস্তানি মিশন। তারা একে বিদ্বেষপূর্ণ ও প্রমাণহীন বলে দাবি করেছেন। পাকিস্তান মিশন এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘শ্রমিকদেরকে শোষণ ও বেতন না দেওয়াসহ অন্যান্য যে অভিযোগ, তার কোনো বাস্তবিক ভিত্তি নেই। এই মিশিন সুইজারল্যান্ডের নিয়মনীতি মেনে চলবে এবং সুইস কর্তৃপক্ষকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে।’

সূত্র: এএনআই