advertisement
আপনি দেখছেন

আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যে আফগানিস্তান থেকে সকল মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের কথা রয়েছে। বেশ কিছু দিন আগেই এই প্রক্রিয়া শুরু করেছে মার্কিন বাহিনী। ইতোমধ্যে অর্ধেকের বেশি আমেরিকান সেনা দেশটি ছেড়েছে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বরাত দিয়ে জানিয়েছে।

joseph votel and frank mckenzieসেন্টকমের অধিনায়ক জেনারেল ফ্র্যাংক ম্যাকেনজি এবং সেন্টকমের সাবেক কমান্ডার অবসরপ্রাপ্ত জেনারেল জোসেফ ভটেল (বামে)

তবে সামরিক কর্মকর্তা এবং নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা মনে করছেন যে, আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের পর দেশটিতে চীন ও রাশিয়া তাদের প্রভাব বিস্তারের প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হবে। এমন শঙ্কা ব্যক্ত করেছেন খোদ যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড তথা সেন্টকমের অধিনায়ক জেনারেল ফ্র্যাংক ম্যাকেনজি।

মিশরে ভয়েস অব আমেরিকাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, চীনের জন্য স্পষ্টতই একটা আগ্রহের স্থান হলো আফগানিস্তান। এশিয়া ও এর বাইরে অবকাঠামো গড়ে তোলার ক্ষেত্রে চীনের আগ্রাসী আগ্রহের বিষয়টিও উল্লেখ করেন ম্যাকেনজি।

china afghanistan roadআফগানিস্তানের নাঙ্গারহার প্রদেশে চীনা কোম্পানির হয়ে রাস্তা নির্মাণের কাজ করছেন এক ব্যক্তি

তিনি বলেন, আপনি দেখুন, মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে রয়েছে তাদের এই প্রকল্পগুলো। যেখানেই আপনি এই প্রকল্পগুলো দেখবেন, সেই দেশগুলোই ঝুঁকির মধ্যে আছে। আমার মনে হয়, আফগানিস্তান হবে সামনের দিনগুলোতে তেমনি (ঝুঁকিপূর্ণ) এলাকাগুলোর মধ্যে অন্যতম।

অন্যদিকে, সেন্টকমের সাবেক কমান্ডার অবসরপ্রাপ্ত জেনারেল জোসেফ ভটেল ভয়েস অব আমেরিকাকে বলেন, মার্কিন সেনাদের প্রত্যাহারের পর আফগানিস্তানে যে শূন্যতা তৈরি হবে, চীন ও রাশিয়া যে তা পূরণ করতে চাইবে এতে আশ্চর্য হবার কিছু নেই।

us troops leaving afghanistanআফগানিস্তান ছাড়ছে মার্কিন বাহিনী

ভটেল আরো বলেন, দেশটিতে যখন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি হ্রাস পাবে তখন ওয়াশিংটনকে আমাদের রাষ্ট্রদূত এবং কূটনৈতিক অবস্থানটা যেন দৃঢ় থাকে এবং যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ ও সমর্থন সুরক্ষার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে।

ভয়েস অব আমেরিকার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীন তার বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ উদ্যোগের মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক শক্তি প্রদর্শন করতে পারে। তারা যে এই কর্মসূচি আফগানিস্তানেও নিয়ে যেতে চায়, সেটা কিন্তু ইতোমধ্যে বলে দিয়েছে চীন।