advertisement
আপনি দেখছেন

ভূমধ্যসাগরে নৌকা ডুবে ১৭ বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। গতকাল বুধবার (২১ জুলাই) লিবিয়া থেকে সাগরপথে ইতালি যাওয়ার চেষ্টাকালে এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতদের পাশাপাশি ৩৮০ অভিবাসনপ্রত্যাশীকে উদ্ধার করা হয়েছে। এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে তিউনিশিয়ান রেড ক্রিসেন্ট।

migrants recovered from mediterranean

রয়টার্সের এ সংক্রান্ত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় ৪০০ অভিবাসীকে নিয়ে নৌকাটি যাত্রা শুরু করে লিবিয়ার উত্তর-পশ্চিম উপকূলের জুওয়ারা থেকে। অভিবাসীদের মধ্যে ছিল মিশর, সিরিয়া, সুদান, মালি, ইরিত্রিয়া ও বাংলাদেশের নাগরিক। নিহতদের বিস্তারিত নাম-পরিচয় এখনো উদ্ধার করা যায়নি।

চলতি বছর সাগরপথ পাড়ি দিয়ে ইউরোপে ঢোকার চেষ্টাকালে নিহত অভিবাসীর সংখ্যা আগের বছরগুলোর তুলনায় অনেক বেশি। জাতিসংঘের অভিবাসী সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল অরগানাইজেশন ফর মাইগ্রেশন (আইওএম) জানিয়েছে, এ বছরের প্রথম ৬ মাসে সমুদ্রে অভিবাসীর মৃত্যু সংখ্যা ১ হাজার ১৪৬ জন, যা আগের বছরের চেয়ে ৫৮ শতাংশ বেশি।

libyan coast guard recovered 439 migrants home

লিবিয়া থেকে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইতালি যাওয়ার পথটি সবচেয়ে ভয়ংকর। এ পথে মৃত্যু হয়েছে ৭৪১ জনের। এর পরের স্থানে রয়েছে পশ্চিম আফ্রিকা থেকে স্পেনে প্রবেশ করার পথ, যার জন্য আটলান্টিক মহাসাগর পাড়ি দিতে হয়। এ পথে সংগঠিত হয়েছে ২৫০ প্রাণহানি। পশ্চিম আফ্রিকার লোকজন মূলত স্পেনের ক্যানারি দ্বীপের উদ্দেশ্যে সাগর পাড়ি দেওয়ার চেষ্টা করে থাকে।

এছাড়া পশ্চিম ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে স্পেনে প্রবেশ করার পথে প্রাণ দিয়েছে ১৪৯ জন। এছাড়া গ্রিসের উদ্দেশ্যে যাওয়ার পথে পূর্ব ভূমধ্যসাগরে মারা গেছেন অন্তত ছয়জন। আইওএম বলছে, ইউরোপে পাড়ি জমাতে সমুদ্রপথে সবচেয়ে মৃত্যুর সংখ্যা বেশি।

চলতি বছরের ছয় মাসে তিউনিসিয়া তাদের উদ্ধার কার্যক্রম ৯০ শতাংশ বাড়িয়েছে। সাগরে উদ্ধার কার্যক্রমে তদারকির ক্ষেত্রে লিবিয়ান কর্তৃপক্ষও সচেতন ভূমিকা পালন করছে। তারা ১৫ হাজারের বেশি শিশু ও নারী-পুরুষকে উদ্ধার করেছে সাগর থেকে। যাদের অধিকাংশ যুদ্ধপীড়িত অঞ্চলের মানুষ, যা গত বছরের চেয়ে সংখ্যায় তিনগুণ।