advertisement
আপনি দেখছেন

গত শতাব্দীর অন্যতম আলোচিত ঘটনা ছিল ভারতে উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের জিঘাংসার শিকার হওয়া ঐতিহাসিক বাবরি মসজিদ ধ্বংস। ১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বর অযোধ্যার ওই মসজিদের মিনারে উঠে শাবলের ঘা মেরেছিলেন হিন্দু যুবক বলবির সিং। পরে অনুসোচনা ও অপরাধবোধ জাগ্রত হলে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে নাম ধারণ করেন মুহাম্মদ আমির। অন্ধকার থেকে আলোর দিশা পাওয়া এই মানুষটি আর নেই।

muhammad amirমুহাম্মদ আমির ও বাবরি মসজিদ ধ্বংসের চিত্র, ফাইল ছবি

দ্য সিয়াসাত ডেইলি জানায়, বাবরি মসজিদ ধ্বংসে অংশ নেয়া নওমুসলিম মুহাম্মদ আমির মারা গেছেন। দেশটির হায়দারাবাদের তেলাঙ্গানার ভাড়া বাসায় তার সন্দেহজনক মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে আজ শুক্রবার। আলোচিত এই ব্যক্তির মৃত্যুর কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত শুরু করেছে রাজ্য পুলিশ।

খবরে বলা হয়, হাফিজ বাবা নগরের ভাড়া বাসায় থাকতেন মুহাম্মদ আমির। বাসাটি থেকে দুর্গন্ধ আসায় পুলিশে জানান স্থানীয়রা। পরে পুলিশ এসে তার মরদেহটি উদ্ধার করলেও মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ জানানো হয়নি।

babri mosque 1বাবরি মসজিদ ভাঙার দৃশ্য, ফাইল ছবি

এ বিষয়ে কাঞ্চনবাগ থানার পুলিশ ইন্সপেক্টর জে ভেঙ্কট রেড্ডি বলেন, তারা আমিরের মৃত্যুর কারণটি স্পষ্ট হতে পারেননি। মৃতের পরিবারের পক্ষ থেকে সন্দেহজনক মৃত্যুর অভিযোগ পেলে পোস্টমর্টেমের ব্যবস্থা করা হবে। আইনি লড়াই করলেও মামলাও করতে পারবে তারা।

কে এই মুহাম্মদ আমির?

মুহাম্মদ আমির এক সময় ছিলেন শিবসেনার সক্রিয় কর্মী বলবির সিংহ। বাবরি মসজিদ ভাঙায় অংশ নেয়ার পর নিজের সবকিছু খুইয়েছিলেন তিনি। এমন ঘৃণ্য ঘটনার পর তাকে তার বাবা বাড়ি থেকে বের করে দেন। স্ত্রীও তার কাছে থাকেননি। তার বাবার মৃত্যুর পর বাড়ি ফিরে শুনেন, 'বাবা নাকি বলে গেছেন- বলবির যেন নিজের মুখ বাড়ির কাউকে না দেখান। এমনকি, বলবির যেন তার বাবার মুখাগ্নিও না করেন।'

এরপর পরিবারের সঙ্গ ছেড়ে তিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন এবং মহান আল্লাহ ও নবী রাসুলের প্রেমে পড়েন। বর্তমানে বলবির সব সময় আল্লাহর নাম জপেন। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়েন।

babri mosque 2বাবরি মসজিদ, ফাইল ছবি

জানা গেছে, বলবিরের পরিবার কোনো দিনই উগ্র হিন্দু ছিলো না। বলবির নিজে ইতিহাস, রাষ্ট্রবিজ্ঞান আর ইংরেজি বিষয়ে এমএ ডিগ্রি অর্জন করেছেন। তিনি মা, বাবা, ভাই, বোনদের সাথে থাকতেন পানিপথের কাছের একটা গ্রামে। বলবিরের বয়স ১০ হলে তার বাবা ছেলে-মেয়েদের পড়াশোনার জন্য পানিপথে বসবাস শুরু করেন।

১৯৯৩ সাল থেকে গত ২৭ বছরে উত্তর ভারতের বিভিন্ন জায়গায় ভেঙে পড়া ৯১টি মসজিদ নির্মাণ ও সংস্কার করেছেন তিনি। তার তত্ত্বাবধানে নির্মাণকাজ চলে আরো ৫৯টি মসজিদের। ১৯৯৭ সালে হারিয়ানায় প্রথম মসজিদ ‘মসজিদে মদিনা’ নির্মাণ করেন আমৃত্যু আল্লাহর রাস্তায় জীবন উৎসর্গ করা বলবির।