advertisement
আপনি দেখছেন

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জানিয়েছে, প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের অতি সংক্রামক ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টে (ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট) শিশুদের আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কম। জাতিসংঘের এ অঙ্গ সংস্থাটির কোভিড-১৯ বিষয়ক টেকনিক্যাল কমিটির প্রধান মারিয়া ভ্যান কারখোভ শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছেন।

maria van kerkhove who 1মারিয়া ভ্যান কারখোভ

জেনেভায় অবস্থিত ডব্লিউএইচওর কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, আমাদের সবার একটা বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা থাকা প্রয়োজন যে, করোনার ডেল্টা ধরন শিশুদের ক্ষেত্রে সে রকম আক্রমণাত্মক নয়। তবে বয়স্কদের মধ্যে যারা কোভিড-১৯ টিকা নেননি, অথবা টিকা নিলেও স্বাস্থ্যবিধি মানছেন না কিংবা সামাজিক বা শারীরিক দূরত্ব যথাযথভাবে মেনে চলছেন না, এই ধরনটিতে আক্রান্ত হওয়ার সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে তারাই আছেন।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য মতে, ২০২০ সালের অক্টোবরে ভারতের মহারাষ্ট্রে প্রথম শনাক্ত হয় করোনার এই ডেল্টা ধরন। তার পর এটি ভারতে ব্যাপক তাণ্ডব চালিয়েছে। বর্তমানে তা বিশ্বের প্রায় ১৩২টি দেশে শনাক্ত হয়েছে। এই মুহূর্তে করোনাভাইরাসের যে কয়টি ধরন বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আধিপত্য বিস্তার করেছে, তার মধ্যে শীর্ষে রয়েছে এই ডেল্টা ধরন।

delta variant india cvবর্তমানে বিশ্বে সবচেয়ে বেশি তাণ্ডব চালাচ্ছে করোনার ডেল্টা ধরন, ফাইল ছবি

মারিয়া ভ্যান কারখোভ এদিন সংবাদ সম্মেলনে বলেন, কী কারণে ডেল্টা ধরন এত বেশি সংক্রামক, এই ধরনে আক্রান্ত হওয়ার ক্ষেত্রে কোন শ্রেণীর মানুষ সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে আছে, ধরনটির গঠন-প্রকৃতিই বা কী- ইত্যাদি বিষয় নিয়ে বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধান ও গবেষণা অব্যাহত রেখেছে তাদের সংস্থা।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এই শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, চলমান মহামারি পরিস্থিতিতে বিশ্বের দেশে দেশে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শিক্ষা ব্যবস্থা। তবে পরিস্থিতির সঙ্গে সমন্বয় করে কীভাবে স্কুল ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহে নিয়মিত শিক্ষা কার্যক্রম চালানো যায়- তা নিয়ে একটি গাইডলাইন বা পরিকল্পনা তৈরির কাজ করছে ডব্লিউএইচও।

সংবাদ সম্মেলনে মারিয়া ভ্যান কারখোভ আরো বলেন, ডেল্টা ধরনের কারণে শিশুদের করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেড়েছে কি না- এ নিয়ে অনেকেই শঙ্কিত ছিলেন। তবে আমাদের গবেষণা বলছে, শিশুদের ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হওয়ার ক্ষেত্রে নতুন করে কোনো ঝুঁকি তৈরি করেনি এই ডেল্টা ধরন। বরং সেই সব প্রাপ্তবয়স্ক মানুষই এই ডেল্টা ধরনে আক্রান্ত হওয়ার সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে আছেন, যারা এখনো করোনাভাইরাসের টিকা নেননি অথবা নিলেও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ক্ষেত্রে উদাসীন।