advertisement
আপনি দেখছেন

মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ পতনের আওয়াজ দিকে দিকে। ১৯৭৫ সালের ভিয়েতনামের সায়গানের একই দৃশ্য দেখা গেছে ২০২১ সালে কাবুলে। ২০২৪ সালে বাগদাদে কি একই দৃশ্যের অবতারণা ঘটবে?

saigon 1975 kabul 2021 baghdad 2024ছবি - সংগৃহীত

এই প্রশ্ন রেখেছেন যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীন থিঙ্ক ট্যাঙ্ক ক্যাটো ইনস্টিটিউটের ডিফেন্স অ্যান্ড ফরেন পলিসি স্টাডিজের ফেলো টেড গ্যালেন কারপেনটার। তিনি একজন সামরিক ও নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ। এ বিষয়ের ওপর তার লিখিত ১২টি বই রয়েছে এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক জার্নালে এ পর্যন্ত তার ৯৫০টি আর্টিকেল প্রকাশিত হয়েছে।

এন্টিওয়ার ডটকমে টেড লিখছেন, কাবুলে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের আরেকবার পিছু হটার দৃশ্য দেখা গেছে আগস্টে। কাবুল থেকে মার্কিন সেনা ও কূটনীতিকদের দেশ ত্যাগের দৃশ্য ১৯৭৫ সালের এপ্রিলে সায়গানের দৃশ্যের সঙ্গে মিলে যায়।

ted galen carpenterটেড গ্যালেন কারপেনটার

সায়গন থেকে মার্কিন সেনারা সরে আসার সময় যেরকম বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছিল, একরকম দৃশ্য কাবুলেও তৈরি হয়। সায়গনে যেমন আবেগঘন পরিবেশ ও আতঙ্ক ছিল, কাবুল বিমানবন্দরের পরিবেশ তেমনই ছিল।

তিনি বলছেন, বাইডেন প্রশাসন ইরাকেও একই পরিস্তিতির শিকার হতে যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র সেখানে একই কূটনীতিক পন্থা অবলম্বন করেছে। ভিয়েতনাম এবং আফগানিস্তান মিশনের মতোই বাইডেন প্রশাসন ইরাকেও আর মার্কিন সেনা উপস্থিতি অনুমোদন দেবে না। দেশে দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার মার্কিন মিশনের সফলতায় এখন কালো দাগ।

ভিয়েতনামের যে পরিস্থিতি ছিল, বাগদাদে এখনকার পরিস্থিতি আরও খারাপ। ভিয়েতনামের গণতান্ত্রিক সরকারের যে বৈশিষ্ট্য ছিল বাগদাদের সরকার আরও দুর্নীতি ও অযোগ্যতা প্রমাণ দিয়েছে। কাবুলে ঘানি সরকারও একরকম চরম দুর্নীতিগ্রস্ত ছিল এবং দেশ পরিচালনায় অক্ষম ছিল।

টেড মনে করেন, দক্ষিণ ভিয়েতনাম কিংবা আফগানিস্তানে ওয়াশিংটনের যে পতন হল, তার মূল কারণ খুব হালকা ও দুর্বল রাজনৈতিক পন্থা অবলম্বন করা। যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত সরকারগুলো মূলত জনগণের সরকার হতে পারেনি।

তারা দুর্নীতির পাশাপাশি অগণতান্ত্রিক আচরণ করেছে জনগণের সঙ্গে। জনগণ এসব সরকারকে দেখেছে পুতুল সরকার হিসেবে এবং জনগণ বিদেশি শক্তি পদলেহী সরকার হিসেবে তাদের শনাক্ত করেছে এবং প্রতিরোধ করেছে।

বলা হচ্ছে, একদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠিত সরকার যেমন নির্যাতিত জনগোষ্ঠীর মনোপূত হয়নি, আরেকদিকে যুক্তরাষ্ট্র দখলীয় দেশ ছেড়ে চলে আসার সময়ও একটা অংশের বিপদের কারণ হয়েছে। এক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র চিহ্নিত হয়েছে ‘দ্বৈত শয়তান’ হিসেবে।

টেড বলছেন, আন্তর্জাতিকভাবে একটি সার্বজনীন সত্য হল, সাম্রাজ্যবাদী সরকারের ব্যাপারে জনগণ সর্বদা বিরক্ত। তারা এ সরকারকে বিদেশিদের পুতুল হিসেবে বিবেচনা করে। দক্ষিণ ভিয়েতনাম ও আফগানিস্তানে একই ঘটনা ঘটেছে এবং ইরাকের ক্ষেত্রেও একই অবস্থা বিদ্যমান।