advertisement
আপনি দেখছেন

রাজনৈতিক উত্থান ও সাধারণ নির্বাচনের কারণে ২০২১ সাল আজাদ কাশ্মিরের জন্য বিশেষ বছর। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের রাজনৈতিক দল পিটিআই নির্বাচনে তুমুল বিজয় লাভ করেছে। ৩২টি আসন পেয়ে পিটিআই কাশ্মিরের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক দলে পরিণত হয়েছে। জিও টিভি।

azad kashmirআজাদ কাশ্মির

খবরে বলা হচ্ছে, নির্বাচনের সময় জনগণের সমস্যা চিহ্নিত করে তা সমাধানের উপায় না খুঁজে কাশ্মিরের রাজনৈতিক দলগুলো একে অপরের বিরুদ্ধে বক্তৃতা বিবৃতিতেই ব্যস্ত ছিল।

নতুন নির্বাচিত পিটিআই সরকারের সামনে পাহাড় সমান চ্যালেঞ্জ। কাশ্মিরে বেকারত্ব বেড়েছে ১৪ ভাগ। পুরো পাকিস্তানে এই সংকট অনেক বড় হিসেবে বিবেচিত। আজাদ কাশ্মিরে তরুণরা সংখ্যাগরিষ্ঠ। তাদের জীবনযাপনে সুযোগ-সুবিধা কম। বেকারত্ব দূর করতে হলে বাজেটের বিশাল অংশ ব্যয় করতে হবে। সৃষ্টি করতে হবে চাকরির সুযোগ। তরুণদের সক্ষমতা বৃদ্ধি করে সমস্যার সমাধান করতে হবে।

pti pakistan

সুশাসনের অভাব ও দুর্নীতির কারণে আজাদ কাশ্মিরের প্রতিষ্ঠানগুলো এখন পদ্ধতিগত পতনের দিকে এগিয়ে চলেছে। রাজনৈতিক নেতারা দুর্নীতিতে আকণ্ঠ নিমজ্জিত। তাদের কোনো জবাবদিহিতা নেই।

বেকারত্ব, দরিদ্রতা এবং অপরাধের মতো সমস্যার সমাধান না হওয়ার পেছনে একমাত্র কারণ দুর্নীতিপরায়ণ রাজনীতি। সেক্ষেত্রে নতুন সরকারকে প্রথমেই দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান চালাতে হবে এবং এহতেসাব ব্যুরোকে কার্যকর প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে হবে।

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে আজাদ কাশ্মির প্রতিবছর ভয়াবহ বন্যা, ভূমিধস এবং পরিবেশগত বিপর্যয়ের মুখে পড়ে। কাশ্মিরের গড় তাপমাত্রা বাড়ছে। বন্যার আধিক্য জলবায়ুতে মারাত্মক পরিবর্তন সৃষ্টি করছে। গতানুগতিক বর্ষা পিছিয়ে যাচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তন এই অঞ্চলের হিমবাহ এবং জীববৈচিত্র্যের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলছে। নগরায়নের ফলে বনাঞ্চল কমে যাচ্ছে। ভবন নিয়ন্ত্রণ বিভাগের অপরিকল্পিত কার্যক্রম আরও সংকটের সৃষ্টি করছে। কাশ্মিরের পরিবেশগত ইকোসিস্টেম মনিটরিংয়ের কোনো ব্যবস্থা নেই।

কাশ্মিরকে বলা হয় ভূস্বর্গ। এখানকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য সারা দুনিয়ার পর্যটকদের কাছে এক লোভনীয় ব্যাপার। কিন্তু আজাদ কাশ্মিরের এই সম্ভাবনাময় পর্যটন খাত দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার করা হয়নি। সেই আগের অবকাঠামো পড়ে আছে। বিদেশি পর্যটকদের আকর্ষণ করার জন্য যথোপযুক্ত অবকাঠামো গড়ে ওঠেনি। এর জন্য দায়ী রাজনৈতিক নেতারা। এখন নতুন সরকারের সামনে পর্যটন খাতকে ঢেলে সাজানোর সময় এসেছে। এই খাত ঢেলে সাজাতে পারলে নারী, তরুণ ও আদিবাসীদের জন্য কর্মসংস্থানের বিরাট দুয়ার খুলে যাবে।

এদিকে আজাদ কাশ্মিরের জনগণ প্রতিদিন ৮-১০ ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন থাকে। জল বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে ২৩০০ মেগাওয়াটেরও বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন হলেও লোডশেডিংয়ের যন্ত্রণায় কাতর কাশ্মিরবাসী। নতুন সরকারকে এই সংকট সমাধান করতে হবে। এটা বড় চ্যালেঞ্জ।

আজাদ কাশ্মিরের গ্রামীণ অবকাঠামো একবারে ভঙ্গুর হয়ে পড়েছে। সর্বশেষ ১৯৭৯-১৯৯৪ সালে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে কাজ হয়েছিল। এখন স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়েছে। স্থানীয়ভাবে রাজনৈতিক নেতৃত্ব গড়ে উঠছে না। নতুন সরকারের সামনে এটাও একটা বড় চ্যালেঞ্জ। পিটিআই সরকারকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে। এটা তাদের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ছিল।

আজাদ কাশ্মিরের নতুন সরকারের একটা বড় চ্যালেঞ্জ হলো জনগণের হাতে দ্রুতগতির ইন্টারনেট পৌঁছে দেওয়া। এ অঞ্চলের ৪.৩৯ মিলিয়ন মানুষ মোবাইল ইন্টারনেটে করোনাকালীন ব্যাপক ভোগান্তির শিকার হয়েছে। বিশেষ করে শিক্ষার্থীরা ইন্টারনেট সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছে।