advertisement
আপনি দেখছেন

১৫ আগস্ট কাবুল দখলের পর ৮ সেপ্টেম্বর তালেবান ৩৩ সদস্য বিশিষ্ট মন্ত্রিসভার ঘোষণা দেয়। মন্ত্রিসভায় প্রধানমন্ত্রী করা হয় মোল্লা মোহাম্মদ হাসান আখুন্দকে। এই সরকারে যেমন প্রভাবশালী ও সর্বজন পরিচিত ব্যক্তিত্ব রয়েছে, তেমনি রয়েছে একেবারে অপরিচিত ব্যক্তিও। মিডিয়া তো দূরের কথা আফগান জনগণও এদের সঙ্গে পরিচিত না।

analysis a look into talibans cabinet

ইরানভিত্তিক এবিএনএ নিউজের বিশ্লেষণে বলা হচ্ছে, তালেবান মূলত যে সরকারটি গঠন করেছে তাতে কয়েকটি দিককে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক কাঠামো, রাজনৈতিক লক্ষ্য এবং প্রতিদ্বন্দ্বীদের সঙ্গে সামঞ্জস্যবিধানে দক্ষতার বিষয়টি সামনে রেখেই সরকার গঠন করা হয়েছে। বর্তমান আফগানিস্তানে চলছে ব্যাপক অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা সংকট।

সন্ত্রাসবাদী গ্রুপের উৎপাত তো আছেই। তাছাড়া রাজনৈতিক অস্থিতিশীল পরিবেশের মধ্যে উদ্বাস্তু মানুষের সীমাহীন ভোগান্তি আফগানকে কুরে কুরে খাচ্ছে। মৌলিক চাহিদা পূরণের সংকট এখন সবচেয়ে বড় সংকট। জাতিসংঘ এসব বিষয় মাথায় রেখেই আফগান জনগণের জন্য মানবিক সহায়তার আহ্বান জানিয়েছে।

আফগান সরকারের সামনে যে বড় চ্যালেঞ্জ তা হলো দেশে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা এবং দেশটি যাতে অনিশ্চয়তা এবং গৃহযুদ্ধের খাদে না পড়ে যায়। বিশ্ব নেতারা আফগানকে পর্যবেক্ষণ করছে গভীরভাবে।

যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সরাসরি চ্যালেঞ্জ: নতুন ঘোষিত তালেবান সরকার যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সরাসরি চ্যালেঞ্জই বলা যায়। তালেবান ৯/১১কে সামনে রেখেই সরকারের শপথ অনুষ্ঠান সাজায়, পরে অবশ্য তা স্থগিত করে। তালেবান সরকারের অন্তত তিনজন আমেরিকার হাতে কারাগারে বন্দি ছিল। ২০১৪ সালে তারা মুক্তি পায়।

তিনজন হলেন, গোয়েন্দাবিষয়ক মন্ত্রী আবদুল হক ওয়াসেক, সীমান্ত ও উপজাতিবিষয়ক মন্ত্রী নুরুল্লাহ নুরি এবং সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী খায়রুল্লাহ খায়েরখাঁ। আরও দুজন ব্যক্তি ওই কারাগার থেকে মুক্তি পায়। তারা মন্ত্রীসভায় স্থান পাননি। তালেবানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সিরাজউদ্দিন হাক্কানি যুক্তরাষ্ট্রের সন্ত্রাসী তালিকায় থাকা ব্যক্তি।

যুক্তরাষ্ট্রের ভাষায় তিনি আল কায়েদা ও অন্যান্য সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। তার বাবা জালালুদ্দিন হাক্কানি ‘হাক্কানি নেটাওয়ার্ক’ এর প্রতিষ্ঠাতা। এই গ্রুপটিও যুক্তরাষ্ট্রের সন্ত্রাসী তালিকায় রয়েছে। সিরাজুদ্দিনের মাথার দাম ১০ মিলিয়ন ডলার ঘোষণা করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। এখন যুক্তরাষ্ট্র বলছে, তারা তড়িঘড়ি কোনো স্বীকৃতির বিষয়টি মাথায় রাখছে না।

মন্ত্রিসভার প্রায় সবাই পশতুন: ৩৩ সদস্য মন্ত্রিসভাল প্রায় সভিই পশতুন জাতির। যাদের সবাই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে গত ২০ বছরে যুদ্ধ করেছে। এসব নেতারা পশ্চিমা দেশগুলোর স্বীকৃতি প্রত্যাশা করেন না। মাত্র দু-তিনজন সংখ্যালঘু সদস্য মন্ত্রিসভায় আছেন। তাদের দুজন হলেন, ডেপুটি প্রধানমন্ত্রী আবদুল সালাম হানাফি, তিনি উজবেক নেতা। আর সেনাপ্রধান তাজিক নেতা কারী ফসিহউদ্দিন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পশতুনের বাইরের উপজাতিগুলো তালেবানের ওপর ক্ষিপ্ত হতে পারে। তারা প্রতিবেশী মধ্য এশিয়ার দেশগুলোর কোনো গ্রুপ সমর্থন পেতে কিংবা জগগণের দৃষ্টি কাড়তে তালেবানবিরোধী নানা পদক্ষেপ নিতে পারে।

পাঞ্জশির ভ্যালি: পাঞ্জশির ভ্যালি নিয়েও তালেবান সরকার টানাপোড়েনের মধ্যে রয়েছে। পাঞ্জশিরে তালেবানের সহিংস অবস্থানকে বিশ্ব নেতাদের কেউ ভালো চোখে দেখছে না। শিয়া দেশ ইরানও পাঞ্জশির ভ্যালির ঘটনায় তালেবানের নিন্দা করেছে। রাশিয়া বলেছে, তালেবান সরকার অন্তর্ভুক্তিমূলক না হলে স্বীকৃতি পাবে না। তালেবান এসব সমালোচনার জবাব দিয়েছে মূলত অন্তর্বতীকালীন একটি সরকার গঠন করে। তারা আগামীতে অন্তর্ভূক্তিমূলক সরকার গঠনে কাজ করছে বলে তালেবানের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে।

সমঝোতাকারীরা দুর্বল: তালেবান সরকারে যারা বিভিন্ন দেশ ও গ্রুপের সঙ্গে বিভিন্ন সময় সমঝোতা করেছে, তাদের উপস্থিতি দুর্বল। এই কারণেই মোল্লা আবদুল গনি বারাদার অর্ন্তবর্তীকালীন সরকারের প্রধানমন্ত্রীত্বের দৌড়ে এগিয়ে থাকলেও হতে পারেননি। প্রধানমন্ত্রী হয়েছে মোল্লা মোহাম্মদ হাসান আখুন্দ।

বারাদার তালেবানের আগের আমিরুল মু’মিনিন মোল্লা ওমরের ঘনিষ্ঠ। তিনিই তাকে বারাদার (ব্রাদার-ভাই) বলে ডাকতেন। সোভিয়েতের বিরুদ্ধে লড়াইকারী বারাদার কাতারের দোহা অফিসে যুক্তরাষ্ট্র ও ঘানি সরকারের সঙ্গে সমঝোতা বৈঠক করেছেন একাধিকবার। তিনি চীনের সঙ্গেও বৈঠক করেছেন। মোল্লা ওমরের মৃত্যুর পর তিনিই তালেবানের সেকেন্ডে ইন কমান্ড ছিলেন।