advertisement
আপনি দেখছেন

মার্কিন সেনাবাহিনীর জয়েন্ট চিফ অব স্টাফের চেয়ারম্যান মার্ক মিলিকে নিয়ে আবারও খবর হয়েছে। এক খবরে বলা হচ্ছে, এই মার্কিন শীর্ষ সেনা কর্মকর্তা চীনের শীর্ষ সেনা কর্মকর্তাকে জানিয়েছিলেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প চীনের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু করতে পারেন।

genneral milleyমার্ক মিলি

মার্ক মিলি এরকম আশঙ্কার কথা তার চীনা প্রতিপক্ষকে দুইবার সতর্ক করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, সম্ভাব্য নির্বাচনী ক্ষয়ক্ষতি ও এর পরিণতিতে চীনের সঙ্গে যুদ্ধের কারণ হতে পারেন ট্রাম্প। শিগগির প্রকাশ হতে যাওয়া একটি বই থেকে তথ্য নিয়ে ওয়াশিংটন পোস্ট প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছে। আল জাজিরা।

ওয়াশিংটন পোস্টের খবরে বলা হচ্ছে, মার্ক মিলি ২০২০ সালের ৩০ অক্টোবর চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মির জেনারেল লি জুয়োচেংকে ওই সতর্ক বার্তা দিয়েছিলেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের চার দিন আগে প্রথম সকর্ত বার্তা দেন মিলি। মার্কিন ক্যাপিটলে ট্রাম্প সমর্থকদের হামলার দুদিন পর ৮ জানুয়ারি আবারও সতর্ক বার্তাটি দেওয়া হয়েছিল।

প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, মিলি পরে বেইজিংকে নিশ্চিত করেন যুক্তরাষ্ট্রের পরিস্থিতি স্থিতিশীল এবং সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কা আর নেই। যদি হামলার আশঙ্কা থাকে তাহলে আগেভাগেই তিনি বিষয়টি জানাবেন।

প্রতিবেদনের এ তথ্য মূলত নতুন বের হওয়া ‘পেরিল’ নামে একটি বই থেকে নেওয়া হয়েছে, যেটি আগামী সপ্তাহে প্রকাশিত হচ্ছে। বইটির লেখক সাংবাদিক বব উডওয়ার্ড এবং রবার্ট কোস্টা।
মিলি তৎকালীন সিআইএ পরিচালক জিনা হ্যাস্পেল এবং জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থার প্রধান পল নাকাসোনসহ অন্যান্য শীর্ষ কর্মকর্তাদের সাথেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেন।

তাদের আশঙ্কা ছিল, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অযৌক্তিকভাবে ওই হামলা চালতে পারে। এজন্য তারা উদ্বেগের মধ্যে ছিলেন। হ্যাসপেল বইতে বলেছেন, ওই সময় চরম বিপজ্জনক অবস্থার মধ্যে তারা সময় অতিবাহিত করছিলেন।

লেখকরা লিখেছেন, অনেকে মনে করতে পারেন জেনারেল মার্ক মিলির ওই পদক্ষেপ কর্তৃপক্ষকে অতিক্রম করে গিয়েছিল এবং তিনি নিজের ক্ষমতার অপব্যবহার করেছিলেন। তবে খবরে বলা হচ্ছে, ট্রাম্প এক বিবৃতিতে এই প্রতিবেদনটিকে ভুয়া ও জাল বলে অভিহিত করেছেন। ট্রাম্প বলেন, গল্পটি সত্য হয়, তাহলে মিলির বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের বিচার হওয়া উচিত। আমি কখনও চীনে হামলার কথা ভাবিনি।

খবরে বলা হচ্ছে, ওই তথ্য জানার পরই রিপাবলিকান সিনেটর মার্কো রুবিও অবিলম্বে মার্ক মিলিকে তার পদ থেকে বরখাস্তের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি এক চিঠিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে এ আহ্বান জানান।

রুবিও চিঠিতে বাইডেনকে লিখেছেন, মার্কিন সামরিক অভিযানের তথ্য ফাঁস করার উদ্ভূত বিপদ সম্পর্কে আমার আপনাকে বলার দরকার নেই। কিন্তু আমি এ কথা বলব যে এই ধরনের বিপর্যয় প্রেসিডেন্টের ও রাষ্ট্রীয় ক্ষমতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।

ওয়াশিংটন পোস্টের ওই প্রতিবেদন সম্পর্কে হোয়াইট হাউসের ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি কারিন জিন পিয়েরের মতামত জানতে চাওয়া হলে তিনি মন্তব্য করত অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, এ বিষয়ে জয়েন্ট চিফ অব স্টাফ ও প্রতিরক্ষা বিভাগ ভাল বলতে পারবে।

মার্কিন জেনারেল মার্ক মিলিকে ২০১৮ সালে শীর্ষ সামরিক পদে নিয়োগ দিয়েছিলেন ট্রাম্প। কিন্তু ২০২০ সালের নভেম্বরে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বাইডেনের কাছে হেরে যাওয়ার পর ট্রাম্প তার সমালোচনা শুরু করেছিলেন। ট্রাম্প শুধু মার্ক মিলি নয়, পাশাপাশি অন্যান্য কর্মকর্তাদেরও সমালোচনার লক্ষ্যবস্তু বানান।

ওয়াশিংটন পোস্টের ওই খবরে বলা হচ্ছে, মার্ক মিলি মূলত ৮ জানুয়ারি যে বেইজিংকে দ্বিতীয়বার যে সতর্কতা দিয়েছিলেন তা মুলত মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসির অনুপ্রেরণায় ঘটেছিল। কারণ ন্যান্সি পেলোসির সঙ্গে ফোনে কথা হয়েছিল মিলির।

ন্যান্সি বলেছিলেন, পারমাণবিক হামলা চালানো থেকে একজন অস্থির প্রেসিডেন্টকে বিরত রাখার কোনো ব্যবস্থা আছে কিনা। তিনি বলেন, ট্রাম্প অস্থির লোক। খবরে ফোন কলের প্রতিলিপির উদ্ধৃত করা হয়েছে। পেলোসির উদ্বেগের জবাবে মার্ক মিলি বলেছিলেন, আমি সবকিছুতে আপনার সঙ্গে সম্পূর্ণ একমত।