advertisement
আপনি দেখছেন

করোনা মহামারি আক্রান্ত দেশগুলোতে স্কুল খুলে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘের শিশু সংস্থা ইউনিসেফ। যেসব দেশে লাখ লাখ শিক্ষার্থীকে স্কুলে যাওয়ার অনুমতি নেই সেসব দেশের স্কুলও খুলে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।

unicef calls for school reopening in pandemic hit countries

করোনার কারেণ আঠারো মাস বন্ধ ছিল ছয়টি দেশের স্কুল-কলেজ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এসব দেশের প্রায় ৭৭ মিলিয়ন শিক্ষার্থীর স্কুল প্রায় সম্পূর্ণভাবে বন্ধ রয়েছে। বৃহস্পতিবার ইউনিসেফের প্রকাশিত একটি হালনাগাদ তথ্যে এ আহ্বান জানানো হয়েছে।

বিশ্লেষণে বলা হয়- বাংলাদেশ, ফিলিপাইন এবং পানামায় দীর্ঘদিন ধরে স্কুল বন্ধ রাখতে হয়েছে করোনার কারণে। ১১টি দেশে আনুমানিক ১৩১ মিলিয়ন শিক্ষার্থী তাদের ব্যক্তিগত শিক্ষার তিন-চতুর্থাংশেরও বেশি মিস করেছে। বিশ্বব্যাপী প্রায় ২৭ শতাংশ দেশের স্কুল সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে বন্ধ রয়েছে।

এশিয়ার করোনার আঘাত সবচেয়ে বেশি ছিল ফিলিপাইনে। দেশটিতে নতুন করে একটি শিক্ষা বছর সৃষ্টি করতে হয়েছে। চলতি সপ্তাহে তারা এ শিক্ষাবছর চালু করে।

ইউনিসেফের নির্বাহী পরিচালক হেনরিয়েটা ফোর বলছেন, করোনার কারণে শিক্ষার সংকট এখনও রয়ে গেছে। যেসব দেশে স্কুল খুলেছে সেসব দেশে প্রতিটি শ্রেণিকক্ষ অন্ধকার থাকায় শিক্ষার্থীদের ওপর খারাপ প্রভাব পড়ছে।

তিনি বলেন, বিশ্বের অনেক দেশে ক্লাস পুনরায় শুরু হওয়ায় লাখ লাখ শিক্ষার্থী ক্লাসরুমে পা না রেখেই নতুন শিক্ষাবর্ষে যাচ্ছে। শিক্ষার্থীরা স্কুলে না থাকার কারণে যে ক্ষতি করছে তা হয়তো কখনোই পূরণ করা যাবে না।

এদিকে শিক্ষার্থীদের স্কুলে ফেরাতে অভিনব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে ইউনিসেফ। ১৮ মাসের হারিয়ে যাওয়া শিক্ষার ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার জন্য যত তাডাতাড়ি সম্ভব স্কুলগুলো চালু করতে হবে। এজন্য ইউনিসেফ এবং অংশীদাররা তাদের ডিজিটাল চ্যানেলগুলো বৃহস্পতিবার দুপুর একটা থেকে ১৮ ঘণ্টার জন্য বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

ইউনিসেফের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, স্কুল বন্ধের কারণে শিশুদের ছায়া সংকট তৈরি হয়েছে। তাদের শিক্ষায় পিছিয়ে পড়া ছাড়াও অনেক শিশু স্কুল-ভিত্তিক খাবার এবং নিয়মিত টিকা দেওয়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। শিশুরা সামাজিক বিচ্ছিন্নতা এবং বাড়তি উদ্বেগ অনুভব করছে।

কোনো কোনো ক্ষেত্রে নানা জিনিসের অপব্যবহার এবং সহিংসতার মুখোমুখি হচ্ছে। স্কুল বন্ধ হওয়ার কারণে ঝরে পড়া, শিশুশ্রম এবং বাল্যবিবাহের বহু ঘটনা ঘটেছে। অনেক বাবা-মা তাদের কর্মসংস্থান চালিয়ে যেতে পারছেন না। গভীর অর্থনৈতিক সংকট তৈরি করেছে।